শুন্যপদে নিয়োগ হয়েও এমপিওভুক্ত হতে পারছেন না আইসিটির ৮ শতাধিক শিক্ষক প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা

2411

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল ॥
সরকারী নির্দেশনায় শুন্যপদে বৈধভাবে নিয়োগ পাওয়ার ১৫ মাস পরও দুই মন্ত্রনালয়ের গাফলতি ও রশি টানাটানির ফলে এমপিওভুক্ত হতে পারছেন না আইসিটি শিক্ষক পদে নিয়োগ পাওয়া ৮ শতাধিক শিক্ষক। মাধ্যমিক বিদ্যালয়, নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় বেসরকারী শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) কর্তৃক শুন্যপদে তাদের নিয়োগ দিয়েছেন। শুন্যপদে নিয়োগ পেয়েও এমপিওভুক্ত না হওয়ায় বেতন ভাতা না পেয়ে ৮ শতাধিক শিক্ষক পরিবার পরিজন নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে মানবেতর ভাবে জীবন যাপন করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ শনিবার ভুক্তভোগি এসব শিক্ষক তাদের অভিযোগের চিত্র তুলে ধরেন। মাউশি ও এনটিআরসিএ অফিস ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, নিয়োগে কিছুটা জলিটতা এবং কিছু মামলা হওয়ায় এমপিও পেতে দেরী হচ্ছে। তবে আইসিটি শিক্ষকদেও সমস্যা অচিরেই নিরসন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন।
আজ রবিবার ভুক্তভোগি শিক্ষকদের মধ্যে মির্জাপুর উপজেলার গেরামারা গোহাইলবাড়ি সবুজ সেনা উচ্চ বিদ্যালয়ের আইসিটির সহকারী শিক্ষক রাশেদা আক্তার বরগুনা জেলার বেতাগী উপজেলার পশ্চিম করুনা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আইসিটির সহকারী শিক্ষক মো. আরিফ হোসেন অভিযোগ করেন, ২০১৯ সালের ১০ জানুয়ারি এনটিআরসিএর তাদের নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেন। এনটিআরসিএর সুপারিশের পর তারা দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আইসিটি শুন্যপদের বিপরীতে নিয়োগপ্রাপ্ত ৮ শতাধিক শিক্ষক যোগদান করে নিয়মিত পাঠদান করে আসছেন। ২০১৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষ মাউশিকে শিক্ষকদের যাবতীয় তথ্য চেয়ে চিঠি প্রেরন করেন। সে প্রেক্ষিতে মাউশি বিভিন্ন জেলা শিক্ষা অফিসে ২০২০ সালের ১২ জানুয়ারি ৭ কর্ম দিবসের মধ্যে শিক্ষকদের তথ্য, যোগদানের তারিখ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম ঠিকানা চেয়ে পত্র জারি করেন। একই ভাবে এনটিআরসিএ যাবতীয় তথ্য চেয়ে জেলা শিক্ষা অফিসকে ২০২০ সালের ৫ মার্চ তথ্য দিতে বলেন। কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা মন্ত্রনালয় হতে ২০২০ সালের ২৩ মার্চ মাদ্রাসা অধিদপ্তর ও এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেন। দুই মন্ত্রনালয়ের মধ্যে চিঠি চালাচালি এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতাসহ রশি টানাটানির ফলে ৮ শতাধিক আইসিটি শিক্ষকের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত হয়ে পরেছে বলে অভিযোগ করেছেন।
এ ব্যাপারে এমপিও বিহীন আইসিটি শিক্ষক সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও মির্জাপুর উপজেলার উল্টর পেকুয়া জাগরণী উচ্চ বিদ্যালয়ের আইসিটি সহকারী শিক্ষক মো. ওমর ফারুকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বৈধ ভাবে আমরা নিয়োগ পেয়েও দুই মন্ত্রনালয়ের গাফলতির কারনে এমপিভুক্ত হতে পারছি না। দীর্ঘ প্রক্রিয়া ও সময়ের পর শিক্ষকদের তথ্য এনটিআরসিএ এবং মাউশিতে জমা হলেও নানা জটিলতার কারনে তাদের এমপিও ছাড় করা হচ্ছে না। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারী ভাবে এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগ হওয়ায় এসব শিক্ষকদের বাড়ি হতে শিক্ষা নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনেক দুর-দুরান্তে। ফলে তাদের বাসা ভাড়া করে থাকতে হচ্ছে। ১৫ মাস ধরে এমপিওভুক্ত না হওয়ায় বেতন ভাতা না পেয়ে ৮ শতাধিক শিক্ষক ঋনে জর্জরিত ও পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর ভাবে জীবন যাপন করছেন। করোনা ভাইরাস সংক্রমন ও দুর্যোগের সময় ¯œাতকসহ কম্পিউটারে ৬ মাসের প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত অনেক শিক্ষক ত্রানের জন্য লাইনে দাড়িয়ে সাহায্য নিচ্ছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য মাননীয় প্রধান মন্ত্রী, শিক্ষা মন্ত্রী, শিক্ষা সচিব, মাউশির ডিজি এবং এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবী জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান মো. আব্দুল আওয়াল (০১৭৮৩-৬৬৬১৩০) ও শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের উপ সচিব মো. কামরুল হাসানের (০১৭৯৯-০৫০৪০৩) সঙ্গে বিস্তারিত জানার জন্য সেল ফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোন রিসিফ না করায় তাদের বক্তব্য নেওয়া যায়নি।
মির্জাপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. হারুরন অর রশিদ বলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিস, জেলা শিক্ষা অফিস ও উপ পরিচালকের কার্যালয় হতে আইসিটি শিক্ষকদের যাবতীয় তথ্য মাউশি ও এনটিআরসিএ পাঠানো হয়েছে। অনেক শিক্ষক এমপিওভুক্ত হয়েছেন। যাদের হয়নি তাদের এমপিওভুক্ত করন মন্ত্রনালয়ে প্রক্রিয়াধীন।