মির্জাপুরে বন্যায় ২৬ কমিউনিটি ক্লিনিকে জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগে এলাকাবাসি

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল ॥
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় বন্যায় ২৬ কমিউনিটি ক্লিনিকে এখনও জলাবদ্ধতা থাকায় চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী এবং চিকিৎসকদের। বন্যা কবলিত কমিউনিটি ক্লিনিকে জলাবদ্ধতা থাকায় কর্মরত চিকিৎসক, পরিদর্শিকা এবং স্বাস্থ্য কর্মীরা নৌকা ও ভেলায় করে ঝুঁকির মধ্যে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। আজ মঙ্গলবার বন্যা কবলিত কয়েকটি কমিউনিটি ক্লিনিকে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে বন্যার পানিতে জলাবদ্ধতা।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিস সুত্র জানায়, মির্জাপুর পৌরসভা এবং ১৪ ইউনিয়নে ৫৪ টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। এসব কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসক, পরিদর্শিকা এবং স্বাস্থ্য কর্মীরা এলাকার অসহায় রোগীদের বিনামুল্যে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছেন। ৫৪ কমিউনিটি ক্লিনিকের মধ্যে ২৬ ক্লিনিক এখনও বন্যা কবলিত। বন্যা কবলিত কমিউনিটি ক্লিনিক হচ্ছে মির্জাপুর পৌরসভা, মহেড়া, জামুর্কি, ফতেপুর, বানাইল, আনাইতারা, ওয়ার্শি, ভাতগ্রাম, বহুরিয়া ও লতিফপুর ইউনিয়নে। বন্যার পানি নিমজ্জিত এসব কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত চিকিৎসক, পরিদর্শিকা এবং স্বাস্থ্য কর্মীরা গত আড়াই মাস মাস ধরে নিজেদের উদ্যোগে নৌকা ও ভেলায় অত্যান্ত ঝুঁকির মধ্যে বাড়ি বাড়ি গিয়ে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। কমিউনিটি ক্লিনিকে বন্যার পানি প্রবেশ করায় এসব কেন্দ্রের চিকিৎসা যন্ত্রপাতি এবং প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্থ্য হয়েছে বলে অফিস সুত্র জানিয়েছেন। উপজেলার ২ নং জামুর্কি, ৩ নং ফতেপুর, ৮ নং ভাতগ্রাম এবং ৭ নং বহুরিয়া ইউনিয়নে খোঁজ নিয়ে গিয়ে দেখা গেছে বন্যা কবলিত কমিউনিটি ক্লিনিক ঝুঁকিপুর্ন।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, একটি পৌরসভা ও ১৪ ইউনিয়নে ৫৪ কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। অধিকাংশ ক্লিনিক বন্যা কবলিত ও জলাবদ্ধতা। গত আড়াই মাস ধরে ঐসব ক্লিনিকে কর্মরত চিকিৎসক, পরিদর্শিকা এবং স্বাস্থ্য কর্মীরা নৌকা ও ভেলায় ঝুঁকির মধ্যেও ঘুরে ঘুরে বাড়ি বাড়ি বিনামুল্যে রোগীদের পরামর্শ, সেবা ও ঔষধ দিয়ে যাচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্থ্য ক্লিনিকগুলো সংষ্কারসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবী জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. মাকসুদা খানম বলেন, বন্যায় উপজেলার ৫৪ কমিউনিটি ক্লিনিকের মধ্যে ২৬ ক্লিনিক জলাবদ্ধতার কারনে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীরা অত্যান্ত ঝুঁকি নিয়ে সেবা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্ত্য কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্ধ প্রদানের জন্য তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবী জানিয়েছেন।