আগামীকাল একুশে পদক পাচ্ছেন মির্জাপুরের ফজলুর রহমান খান ফারুক

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা
মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য এ বছর একুশে পদক পাচ্ছেন মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহচর ও বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা জননেতা ফজলুর রহমান খান ফারুক (৭৬)। আগামীকাল শনিবার (২০ ফেব্র“য়ারি) রাজধানী ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ভার্সুয়ালী ভিডিওি কনফারেন্সের মাধ্যকে তাকে পুরষ্কার তুলে দিবেন বলে আজ শুক্রবার তার পরিবার থেকে জানানো হয়েছে। এর আগে গত ৪ ফেব্র“য়ারি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রনালয় বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ২১ জন বিশিষ্ট নাগরিককে একুেেশ পদক দেওয়ার জন্য নামের তালিকা ঘোষনা করেন। এর মধ্যে ভাষা আন্দোলনে তিন জন, মুক্যিুদ্ধের ক্যাটাগরিতে তিন জন, শিল্পকলায় সাত জন, ভাষা ও সাহিত্যে তিন জন, সাংবাদিকতা, গভেষনা, শিক্ষা, অর্থনীতি ও সমাজ সেভায় একজনকে পদক দেওয়া হবে। তাদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য বীর মুক্তিযোদ্ধা জননেতা ফজলুর রহমান খান ফারুকে একুশে পদক প্রদানের জন্য মনোনীত করা হয়েছে বলে তার পুত্র টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য ও জেলা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি খান আহমেদ শুভ জানিয়েছেন। তার গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ৭ নং ওয়ার্শি ইউনিয়নের রাজাপুর কহেলা গ্রামে। বর্ষিয়ান এই রাজনীতিবিদ একুশে পদক পাওয়ায় গর্বিত মির্জাপুর উপজেলাবাসিসহ পুরো টাঙ্গাইলবাসি।
মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সৈয়দ ওয়াহিদ ইকবাল জানান, বর্ষিয়ান এই রাজনীবিদ ফজলুর রহমান খান ফারুকের পিতার নাম মৃত-আব্দুল হালিম এবং মাতার নাম মৃত ইয়াকুতুন নেছা। ৬ ভাই ২ বোনের মধ্যে ফজলুর রহমান খান ফারুক ভাইদের মধ্যে সবার বড়। তিনি এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জনক। তার স্ত্রী মিসেস রোকেয়া বেগম গত বছর ইন্তেকাল করেন। তিনি ১৯৪৪ সালে নিজ গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন। ছাত্র জীবন থেকে তিনি ছাত্রলীগ ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শে জনগনের সেবায় নিয়োজিত হন। ১৯৭০ সালে মির্জাপুর আসনের গনপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালে তিনি বঙ্গবন্ধুর আহবানে মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পরেন। ১৯৭২ সালে একই আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। প্রবীন এই রাজনীতিবিদ মির্জাপুর কলেজ, মির্জাপুর এস কে পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ফুঁলকুড়ি শিশু নিকেতনসহ মির্জাপুর উপজেলা ও টাঙ্গাইল জেলায় প্রতিটি উপজেলায় বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেন। তিনি শুধু মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক নন একজন রাজনীতিবিদ ও ভাল মানুষ গড়ার কারিগড়। তিনি একাধারে সাংবাদিক, কবি, সাহিত্যিক, গবেষক, সমাজ সেবক, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি একাধারে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং বর্তমানে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতির দায়িত্ব সুনামের সঙ্গে পালন করছেন। বর্ষিয়ান ও প্রবীন এই রাজনীতিবিদের চিন্তা ও চেতনায় টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামীলীগ অত্যান্ত সু-সংগঠিত। তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যেমন আস্থাভাজন ছিলেন, তেমনি বর্তমান প্রধান মন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনারও আস্থাভাজন হিসেবে টাঙ্গাইল বাসির জন্য কাজ করে আসছেন।
এদিকে আগামীকাল প্রবীন এই রাজনীতিবিদ ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক জননেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান খান ফারুক একুশে পদক পাওয়ায় জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন, কুমুদিনী ওয়লে ফেয়ার ট্রাস্ট অব বেঙ্গল (বিডি) লি. এর এমডি রাজিব প্রসাদ সাহা, পরিচালক শিক্ষা ও একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রতিভা মুৎসুদ্দি, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. একাব্বর হোসেন এমপি, সাবেক এমপি মো. আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর এনায়েত হোসেন মন্টু, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আব্দুল মালেক, মির্জাপুর পৌরসভার মেয়র সালমা আক্তার শিমুল, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) মীর্জা মো. জুবায়ের হোসেন, মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. রিজাউল হক শেখ দীপু, মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মীর শরীফ মাহমুদ প্রমুখ।