মির্জাপুরে ব্রিজ মেরামত না হওয়ায় ছয় উপজেলাবাসির চরম দুর্ভোগ

বিশেষ প্রতিনিধি
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধিনে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের অভিরামপুর ব্রিজ ভেঙ্গে যাওয়ার পর দীর্ঘ দিনেও মেরামত না হওয়ায় যোগাযোগের ক্ষেত্রে ছয় উপজেলাবাসির চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। মির্জাপুর, কালিয়াকৈর, ভালুকা, ত্রিশাল, সখীপুর ও শ্রীপুর উপজেলার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় এলাকাবাসির চলাচলের ক্ষেত্রে দুর্ভোগের শেষ নেই। ৪০-৫০ মাইল ঘুরে তাদের যোগাযোগ করতে হচ্ছে বলে ভুক্তভোগি এলাকাবাসি অভিযোগ করেছেন।
আজ রবিবার বাঁশতৈল ইউনিয়ন আওযামীলীগের সভাপতি মো. আজাহারুল ইসলাম এবং সাধারন সম্পাদক মো. মোকলেছুর রহমান বলেন, মির্জাপুর-কালিয়াকৈর-শ্রীপুর রাস্তার বাঁশতৈল ইউনিয়নের পেকুয়া থেকে অভিরামপুর খালের উপর ব্রিজটি ঝুঁকিপুর্ন ছিল প্রায় দেড় যুগ। ২০২০ সালের জুন মাসে বালি ভর্তি একটি মিনি ট্রাক ব্রিজের উপর উঠলে মিনি ট্রাকসহ ব্রিজটি ভেঙ্গে খালে পরে যায়। ব্রিজটি ভেঙ্গে পরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এলাকার জনসাধারনকে ৪০-৫০ মাইল ঘুরে জেলা সদর টাঙ্গাইল, উপজেলা সদর মির্জাপুর ও সখীফুর, পাশর্^বর্তী ময়মনসিংহের ত্রিশাল ও ভালুকা উপজেলা এবং গাজীপুরের কালিয়াকৈর এবং শ্রীপুর উপজেলায় যাতায়াত করতে হচ্ছে। এছাড়া এলাকাটি দুর্গম পাহাড়ি হওয়ায় এখানকার কৃষকরা ধান, চাল, সবজিসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস হাটে বাজারে আনতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেন।
বাঁশতৈল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. শামসুল আলম শামছু বলেন, পাঁচটি উপজেলার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের পথ পেকুয়া থেকে অভিরামপুর যাওয়ার পথে অভিরামপুর খালের উপর প্রায় ৪০ ফুট লম্বা ও ১০ ফুট প্রস্থ্য ব্রিজটি ঝুঁকিপুর্ন দীর্ঘ দিনের। ঝুঁকিপুর্ন ব্রিজটি ভেঙ্গে ফেলে নতুন ভাবে একটি ব্রিজ তৈরীর জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরকে বার বার অবহিত করা হয়েছিল। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তেমন আমলে নেননি। ফলে বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, জেলা পরিষদ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং জেলা প্রশাসক মহোদয়কে অবহিত করা হয়।
অপর দিকে বাঁশতৈল ইউনিয়ন পরিষদেও চেয়ারম্যান মো. আতিকুর রহমান মিল্টন জেল হাজতে থাকায় ব্রিজটি মেরামতেরর কোন উদ্যোগ নেই। তিনি ভেঙ্গে যাওয়া ব্রিজটি দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্মানের জোর দাবী জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরিফুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মির্জাপুর উপজেলার পাহাড়ি অব্জল অভিরামপুর এলাকায় ব্রিজটি ঝুঁকিপুর্ন দীর্ঘ দিনের। ব্রিজটি নতুন ভাবে নির্মানের জন্য প্রকল্প তৈরী করে অর্থ বরাদ্ধ চেয়ে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। যেহেতু ব্রিজটি ভেঙ্গে পরেছে তাই এলাকাবাসির অসুবিধার কথা চিন্তা করে স্থানীয় এমপি মহোদয়ের সঙ্গে পরামর্শ করে ব্রিজটি দ্রুত সময়ের মধ্যে তৈরীর ব্যবস্থা করা হবে।