মির্জাপুরে শালিসে মারপিট করায় লোকলজ্জায় কিশোরীর আতœহত্যা

বিশেষ প্রতিনিধি
গ্রাম্য শাসিলে কিশোর কিশোরী প্রেমিক-প্রেমিকাকে জুতাপেটা ও মারপিট করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শালিসে প্রেমিক-প্রেমিকাকে মারপিট করায় লোকলজ্জায় কিশোরী প্রেমিকা হাসি আক্তার (১১) ফাঁস দিয়ে আতœহত্যা করেছে। কিশোরীর আতœহত্যার ঘটনায় এলাকায় চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার আজগানা ইউনিয়নের সৈয়দপুর এলাকায় আতœহত্যার এ অমানবিক ঘটনা ঘটেছে। কিশোরী আতœহত্যার ঘটনায় কিশোর প্রেমিক মাসুম (১৬) ও তার পরিবার পলাতক রয়েছে।
আজ সোমবার এলাকাবাসি জানায়, আতœহত্যার শিকার কিশোরী হাসির পিতার নাম মো. হাসেম আলী মিয়া। বাড়ি ঠাকুরগাও জেলার রানী শংকৈল উপজেলায় রানী সংকর গ্রামে। পেশায় দিন মজুর। দিনমজুর হাসেম ও তার পরিবার কন্যা নিয়ে সৈয়দপুর এলাকায় ইসমাইলের বাড়িতে ভাড়া থেকে ইঁটভাটাসহ বিভিন্ন এলাকায় দিন মজুরীর কাজ করে। কিশোরী হাসি পাশের বাড়ির ভাড়াটিয়া মাসুমের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে। ঘটনাটি জানাজানি হলে গত শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) পরান আলীর বাড়িতে গ্রাম্য শালিস বসে। শালিসে প্রেমিক মাসুম ও প্রেমিকা হাসিকে জুতাপেটাসহ বেশ মারপিট করা হয়। শালিসে মাতাব্বর উকিল মিয়া, দাউদ আলী ও কালামসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে ঘটনার এক দিন পর রোববার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল আটটার দিকে লোকজ্জায় কিশোরী হাসি বাড়িতে কেউ না থাকায় নিজ ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আতœহত্যা করে। আশপাশের লোকজন ঘটনা দেখে তার পরিবার ও পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার কওে ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছেন।
অপর দিকে ঘটনার অভিযোগে পুলিশ প্রেমিক মাসুমকে না পেয়ে তার নানা হাকিম মিয়া ও নানী এবং মাসুমের বন্ধু হাসানকে পুলিশ আটক করে। থানায় নিয়ে আসার পথে ধেরুয়ায় এলাকায় পুলিশ ভ্যান থেকে লাফ দিয়ে হাসান পালানোর চেষ্টা করে। গুরুতর অবস্থায় হাসান এখন কুমুদিনী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পুলিশ আটক দুইজনকে ছেড়ে দিয়েছে।
এ ব্যাপারে তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ পরিদর্শক মো. একরামুল হকের সঙ্গে মোবাইলে এশাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে ডিউটি অফিসার বলেন, অভিযোগ হয়েছে। তদন্ত চলছে।