মির্জাপুরে রাস্তায় জন্ম নেওয়া ফুটফুটে শিশুর বাবা কে বলতে পারছে না তার মা, চিকিৎসা চলছে কুমুদিনী হাসপাতালে

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
রাস্তার পাশে জন্ম নেওয়া ফুটফুটে অসহায় শিশু কন্যার পিতা কে তা বলতে পারছে না শিশুটির মা। অমানবিক এই ঘটনার খবর পেয়ে মির্জাপুর থানা পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সহযোগিতায় অবশেষে ফুটফুটে শিশু ও তার মায়ের চিকিৎসা চলছে কুমুদিনী হাসপাতালে। কুমুদিনী হাসপাতাল কতৃপক্ষ, চিকিৎসক ও নার্সরা পরম মমতা দিয়ে অসহায় মা ও তার শিশু কন্যাকে ঔষধপত্রসহ চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। আজ বুধবার (৫ জুলাই) টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা সদরের কুমুদিনী হাসপাতাল রোডে শিশুটির জন্ম হয়েছে।
আজ বুধবার (৫ জুলাই) সন্ধ্যায় কুমুদিনী হাসপাতালের প্রসুতি বিভাগ এবং শিশু ওয়ার্ডের এনআইসিতে গিয়ে দেখা গেছে মা ও শিশু কন্যার চিকিৎসা চলছে। ওয়ার্ডের নার্স ও চিকিৎসকগন জানান, বেলা সারে এগারটার দিকে পুলিশ এক মহিলাকে অসুস্থ্য অবস্থায় প্রসুতি বিভাগের ২৭ নম্বর বেডে ভর্তি করে দিয়ে গেছেন। মহিলা তার নাম ও ঠিকানা বলতে পারছেন না। কখনো বলছেন নাজমা, কখনো ঝুমুর আবার কখনো বলছেন রিজনী। ঠিকানা বলছেন কখনো ঢাকা আবার কখনো বরিশাল। আর কিছু বলতে পারছে না। পিতা মাতার নাম ও নিজের নামও বলতে পারছে না। লোকজন দেখলে কখনো হাসে, আবার কখনো ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে। শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে নার্সরা পরম মমতা দিয়ে শিশু কন্যাকে এনআইসিতে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তারা মহিলার পরিচয় এবং শিশুর বাবা কে তা খুঁজে বের করার জন্য প্রশাসেনর নিকট জোর দাবী জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে কুমুদিনী জহাসপাতালে এজিএম (অপারেশন) অনিমেশ ভৌমিক লিটন বলেন, অসহায় এক মহিলা ও তার শিশু কন্যাকে পুলিশ এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে হাসপাতালে ভর্তি করে দিয়েছেন। মহিলার নাম ও কোন ঠিকানা নেই। তিনি কোন নাম ঠিকানা বলতে পারছে না। এমন কি শিশুর পিতা কে তাও বলতে পারছেন না। হাসপাতালের পক্ষ থেকে মা ও শিশুর যাবতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ঔষধপত্র এবং চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মো. খাইরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে তিনি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার কুমুদিনী হাসপাতালে গিয়ে মহিলার ঠিকানা এবং শিশুর বাবা কে তা জানার চেষ্টা করেছেন। কিন্ত মহিলা কোন কথা বলতে পারছে না। ঠিকানাও ঠিকমত বলতে পারছেন না। হাসপাতাল কতৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে মা ও শিশুর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিভিন্ন মাধ্যমে তাদের ঠিকানা জানার চেষ্টা চলছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাকিলা বিনতে মতিন বলেন, রাস্তার পাশে এক মহিলা সন্তান জন্ম দিয়েছেন বলে তিনি জানতে পেরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। দুপুরে তিনি কুমুদিনী হাসপাতালে পরিদর্শনে গিয়ে মা ও শিশু কন্যার খোঁজ খবর নিয়েছেন। মহিলার পরিবারের ঠিকানা এবং শিশু কন্যার পিতা কে তা জানতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে। মা ও শিশু কন্যার চিকিৎসার যেন কোন সমস্যা না হয় সে জন্য হাসপাতাল কতৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here