ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে নতুন কহেলা কলেজের অধ্যক্ষ ইমাম হোসেন মো. ফারুকের বিরুদ্ধে অনিয়মসহ অপসারনের দাবীতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। আজ রবিবার (৯ সেপ্টেম্বর) কলেজ ক্যাম্পাসে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসি ঘন্টা ব্যাপি এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে নতুন কহেলা কলেজের অধ্যক্ষ ইমাম হোসেন মো. ফারুকের বিরুদ্ধে অনিয়ম তুলে ধরে তাকে অপসারনের দাবী জানানো হয়। এ সময় কলেজের প্রতিষ্ঠাতা মো. নাসির উদ্দিন বাবুল হোসেনসহ এলাকাবাসি বলেন, অধ্যক্ষ ইমাম হোসেন মো. ফারুক জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ নিয়ে সরকারি বেতন ভাতাদি উত্তোলন করছেন ২০১৭ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত। শুধু তাই নয়, কোন অনুমুতি ছাড়াই কলেজের বিশাল একটি ভবন বিক্রি, কলেজের ৫০-৬০ টি গাছ বিক্রি করে প্রায় ১৫-২০ রাখ টাকা আত্নসাতসহ নিয়োগ বাণিজ্য করে আরও ৪০-৫০ লাখ টাকা নিজের পকেটে নিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে অনিয়ম তুলে ধরে কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষকবৃন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও কলেজ গভর্নিংবডির সভাপতি, শিক্ষা মন্ত্রনালয় এবং মির্জাপুর থানায় লিখিত াভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে তুরে ধরা হয় ইমাম হোসেন মো. ফারুক এক সময় এই কলেজের বিজনেস ম্যানেজমেন্ট শাখার অধ্যক্ষ হিসেবে চাকরী করতেন। এক পর্যায়ে তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম দুর্নীতি, নিয়োগ বাণিজ্য ও অর্থ আত্নসাতের অভিযোগ আসায় তিনি নিজেই পদত্যাগ করে রাজধানী ঢাকার উত্তরায় ক্রিডেন্স কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন। সেখানে তিনি কিছু দিন চাকুরী করার পর দুর্নীতির অভিযোগে বরখাস্ত হন। ২০১৬ সালে আওয়ামীলীগের নাম ব্যবহার করে টাঙ্গাইল জেলা পরিষদরে সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ফজলুর রহমান খান ফারুককে ম্যানেজ করে ভুয়া তথ্য পরিবেশন করে নুতন কহেলা কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ফজলুর রহমান খান ফারুককে কলেজের সভাপতি করেন। ইমাম হোসেন মো. ফারুক পুনরায় ভুয়া তথ্য পরিবেশন করে জালিয়াতির মাধ্যমে নতুন কহেলা কলেজে আসায় এলাকাবাসি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষোভ দেখা দেয়।
এদিকে আজ রবিবার মানব বন্ধন শেষে বক্তব্য রাখেন কলেজ ছাত্র রাব্বি, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আরী আহসান, ওয়ার্শি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব, বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি হারুন অর রশিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, বিএনপি নেতা মনির হোসেন, শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক পারভেজ খান, যুবদলের নেতা ওয়াহিদ ও সোহেল খান প্রমুখ।
এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ ইমাম হোসেন মো. ফারুক বলেন, এলাকার কিছু দুষ্টচক্র কলেজকে অস্থিতিশীল করতে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করে নানা ভাবে অভিযোগসহ আন্দোলন করে যাচ্ছে তার কোন ভিত্তি নেই। তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।


