৭ মে ছিল মির্জাপুর গণহত্যা দিবস , কুমুদিনী পরিবার ও হাসপাতালে নানা আয়োজন

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
আজ ৭ মে ছিল টাঙ্গাইলের মির্জাপুর গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনের পাকহানাদার বাহিনী অত্যাচার নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ চালায় মির্জাপুরের নিরীহ বাঙ্গালীর উপর। নিরীহ বাঙ্গালীর আত্নত্যাগের মধ্য দিয়ে মির্জাপুর হানাদার মুক্ত ও স্বাধীন হলেও সেদিনের ভয়াবহ দৃশ্যের কথা মনে করে আজও মির্জাপুরবাসী শিউরে উঠে। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পার হলেও সেই সব বীর বাঙ্গালী যাদের জীবনের বিনিময়ে মির্জাপুর দখলমুক্ত ও হানাদার মুক্ত হয়েছিল তাদের স্মরনে নির্মিত হয়নি নাম ফলকসহ স্মৃতিসৌধ এবং শহীদ মিনার । এ উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার কুমুদিনী পরিবার কুমুদিনী কমপ্লেক্্ের শহীদদের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পন করে। এ সময় কুমুদিনী পরিবারের অন্যতম সদস্য ভাষা সৈনিক ও একুশে পদক প্রাপ্ত প্রিন্সিপাল প্রতিভা মুৎসুদ্দি, পরিচালক সম্পা সাহামহ কুমুদিনী হাসপাতাল, কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজ, নার্সিং কলেজ ও ভারতেশ^রী হোমেসর শিক্ষাক, চিকিৎসকসহ কুমুদিনী পরিবারের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যগন উপস্থিত ছিলন।
আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে) সে দিনের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের মধ্যে ভাষা সৈনিক ও একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল প্রতিভা মুৎসুদ্দি ও ডা. প্রদীপ কুমার রায়সহ অনেকেই জানান, ১৯৭১ সালে মির্জাপুর গঠিত হয় সংগ্রাম পরিষদ।। ৩রা এপ্রিল ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গোড়ান-সাটিচড়ায় প্রতিরোধ যুদ্ধে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী পরাজিত হবার পর মির্জাপুর সদরে এসে ঘাঁটি করে। রাজাকার আলবদরদের সহযোগিতায় পাকবাহিনী মির্জাপুর সদরের আন্ধরা সাাহাপাড়া, কুতুববাজার, পুষ্টকামুরী, বাইমহাটি, সরিষাদাইর ও পালপাড়ায় ঢুকে অত্যাচার নির্যাতন, লুটপাট, অগ্নিসয়যোগ এবং গণহত্যা চালায়। ৭ মে উপমহাদেশের প্রখ্যাত দানবীর কুমুদিনী কল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা রণদা প্রসাদ সাহা রায় বাহাদুর ও তার একমাত্র পুত্র ভবানী প্রসাদ সাহা রবিকে রাজাকার আলবদর বাহিনী নারায়নগঞ্জের বাসা থেকে তাদের ধরে নিয়ে নির্মম ভাবে হত্যা করে। এ দিন হত্যা করা হয় জয়নাল সরকার এবং মাজম আলীকে। শতাধিক নারী পুরুষ ও শিশু কিশোরকে হত্যা করে বংশাই ও লৌহজং নদীতে নিক্ষেপ করে।
৭ মে যাদের নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছিল তাদের মধ্যে ছিলেন মির্জাপুর গ্রামের কমলা সাহা, সুভাষ সাহা, মধু সাহা, সুধাম চন্দ্র সাহা, ঊমাচরন, ধীরেন নাথ সাহা, গদাচরন সাহা, কেরুশীল, রংলাল সাহা, নিতাই চন্দ্র, আন্ধরা গ্রামের গৌরগোপাল সাহা, গঙ্গাচরন, পদসাহা, কান্দু সাহা, সরিষাদাইর গ্রামের ভবেন্দ্র সাহা, রঞ্জিত সাহা, নিতাই সাহা, ভোলানাথ, গনেশ সাহা, দুর্গাপুর গ্রামের কানাই সাহা, রাখাল চন্দ্র সাহা, সুরেশ, ভবেশ মন্ডল, বাইমহাটি গ্রামের রঞ্জিত সাহা, নগীনা বাশফৈর, কান্ঠালিয়া গ্রামের জগদীশ বকসী, সাধু মালী, পুষ্টকামুরী গ্রামের ডাঃ রেবুতী মোহন, ফনিন্দ্র নাথ সাহা, মাজম আলী ও জয়নাল আবেদীন। ১৯৭১ সালের ৭ই মে গনহত্যার নির্মমতার কথা ভুলতে পারেননি গোটা মির্জাপুর বাসী। সেদিন যারা ঘাতকদের হাতে শহীদ হয়েছিলেন তাদের স্মরণে মির্জাপুরে সরকারীভাবে ৭ই মে কোন অনুষ্ঠান পালিত হয়না। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো পায়নি কোন সাহায্য ও সহযোগিতা। শুধু সেদিনের স্মৃতি মনে করে মির্জাপুর গ্রামবাসি রনদা নাট মন্দিরে কীর্তন এবং আলোচনা সভার আয়োজন করে। এছাড়া কুমুদিনী পরিবার কুমুদিনী কমপ্লেক্সে প্রার্থনা সভা, কাঙ্গালী ভোজ স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসুচী ও আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছে। দিবসটি সরকারী ভাবে পালন, নিহতদের স্মরনে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্্র নির্মান এবং অসহায় পরিবারের দিকে সরকার সু নজর দেবেন এমনটাই প্রত্যাশা মির্জাপুরবাসী এবং কুমুদিনী পরিবারের।

  • সাপ্তাহিক বারবেলা ডেস্ক

    Related Posts

    টাঙ্গাইলের মির্জাপুর ও দেলদুয়ার এলাকা দুই গৃহবধুর মরদেহ উদ্ধার

    মির্জাপুরে দুর্নীতি বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতায় ভারতেশ^রী হোমস চ্যাম্পিয়ন

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *