মির্জাপুরে কাইতলা পশুর হাট নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র বিপাকে ইজারাদার সরকারের রাজস্ব হারানোর আশংকা

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কাইতলা বৃহৎ পশুর হাট দখল নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে কয়েক দিন চলছে টানটান উত্তেজনা। সরকার নির্ধারিত আজ শনিবার কাইতলা সাপ্তাহিক পশুর হাট বসলেও প্রতিপক্ষ অপর পাশে দেওদিঘী নামক স্থানে বাঁশের হাটে রাস্তা বেরিকেট দিয়ে পিকআপ থেকে জোরপুর্বক বেপারি ও বিক্রেতাদের গরু মহিষ ও ছাগল নামিয়ে নিয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে এনেছেন। দুই গ্রুপের দ্বন্ধের জের হিসেবে কাইতলা পশুর হাট থেকে সরকার প্রায় পাঁচ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে আশংকা করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে চরম ভাবে ক্ষতির মুখে পরেছেন ইজারাদার।
জানা গেছে, গোড়াই-সখীপুর রোডের পাশে মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের কাইতলা বৃহৎ পশুর হাটের অবস্থান। প্রতি বছর সরকার এই হাট ইজারা দিয়ে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা রাজস্ব পেয়ে আসছে। চলতি বছর বাংলা সনের এক বছরের জন্য এই পশুর হাটের ইজারা দিয়ে সরকার রাজস্ব পেয়েছেন চার কোটি ৮৬ লাখ টাকা। হাটের ইজারার মাসুদুর রহমান মাসুদ জানান, ভাল সুযোগ সুবিধা ও নিরাপত্তা থাকায় কাইতলা পশুর হাটে সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, দিনাজপুর, জয়পুরহাট, কুষ্টিয়া, লালমনিরহাট, শেরপুর, জামালপুর, ময়মনসিংহ, গাজীপুর, ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, সাভার, টঙ্গি, কোনাবাড়ি, ভুয়াপুরসহ বিভিন্ন এলাকার ক্রেতা বিক্রেতাগন আসেন। চলতি বছর হাটের ইজারা পাওয়া ও রাজস্ব জমা দেওয়ার পর থেকেই এলাকার একটি চক্র কাইতলা পশুর হাটটি ক্ষতি করার জন্য নানা ভাবে ষড়যন্ত্র চালিেেয় যাচ্ছে। কোরবানী ঈদকে সামনে রেখে সখীপুর উপজেলার দেওদিঘী বাঁশের হাটের ইজারাদার সফিক, বাঁশতৈল এলাকার হেলাল, প্রভাসি হানিফ, হেলাল ওরফে মাঠু, মোস্তফা, মালেক ও আলামিনসহ ৪০-৫০ জন ব্যক্তি সিন্ডিকেট করে একই দিনে দেওদিঘী বাঁশের হাটে পশুর হাট বসিয়েছে। হাটের ইজারাদার সফিক ও তাদের সহযোগিদের দাবী মন্ত্রীর নির্দেশে জেলা প্রশাসকের অনুমোদন নিয়ে তারা এখানে পশুর হাট বসিয়েছে। গোড়াই-সখীপুর রোডের দেওদিঘী এলাকায় আজ শনিবার ঘুরে দেখা গেছে ৪০-৫০ জনের গেঞ্জি বাহিনী রাস্তা বেরিকেট দিয়ে পিকআপ ও ট্রাক থেকে গরু, মহিষ ও ছাগল নামিয়ে নিচ্ছে। এতে করে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা বেপারি ও বিক্রেতা চরম বিপাকে পরেছেন। খবর পেয়ে সখীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে সখীপুর থানা পুলিশ দুপুরে ঘটনাস্থলে এলে গেঞ্জি বাহিনী রাস্তা থেকে সটকে পরে।
অপর দিকে কাইতলা হাটের ইজারার মাসুদুর রহমান মাসুদ বলেন, সরকারি নির্ধারিত প্রায় পাঁচ কোটি টাকা রাজস্ব দিয়ে হাট ডেকে এনেছেন। দেওদিঘী এলাকা থেকে কাইতলা হাটে পশু আসতে না দেওয়ায় তিনি চরম ভাবে ক্ষতির মুখে পরেছেন। হাট প্রায় পশু শুন্য হয়ে পরেছেন। বিষয়টি তিনি টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, মির্জাপুর উপজেলা ও সখীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ থানা পুলিশকে জানিয়েছেন। তারপরও তেমন নিরাপত্তা পাচ্ছেন না। পশুর হাট নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে চলছে টানাটান উত্তেজনা।
এ ব্যাপারে সখীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল রনি এবং ওসি হেলাল উদ্দিন বলেন, রাস্তা বেরিকেট দিয়ে পশুবাহী ট্রাক আটকিয়ে দেওদিঘী হাটে নামানোর কোন সুযোগ নেই। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াসহ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবেন বলে জানিয়েছেন। আইন-শৃঙ্খলার যাতে কোন অবনতি না হয় সে জন্য ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার খান সালমান হাবীব বলেন, কাইতলা পশুর হাটের ইজারাদার মাসুদুর রহমান বৈধ ভাবে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা সরকারী রাজস্ব জমা দিয়ে হাট নিয়েছেন। হাট নিয়ে কোন ষড়যন্ত্র হলে সরকারও রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হবে সেই সাথে ইজাদারও ক্ষতিগ্রস্থ্য হবেন। একই স্থানে এবং একই দিনে পাশাপাশি দুটি পশুর হাট বসানোর কোন নিয়ম নেই। উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • সাপ্তাহিক বারবেলা ডেস্ক

    Related Posts

    ৭ মে ছিল মির্জাপুর গণহত্যা দিবস , কুমুদিনী পরিবার ও হাসপাতালে নানা আয়োজন

    টাঙ্গাইলের মির্জাপুর ও দেলদুয়ার এলাকা দুই গৃহবধুর মরদেহ উদ্ধার

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *