মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবীতে আজ রবিবার ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক অবরোধ করেছে বিক্ষুব্দ এলাকাবাসি। উপজেলার জামুর্কি এলাকায় বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও করে তারা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। মির্জাপুরে ভয়াবহ লোড শেডিংয়ের কারনে দিনেরাতে ১৮ ঘন্টাই বিদ্যুৎ মিলছে না। গ্রামের অবস্থা আরও খারাপ। তীব্র গরম ও লোডশেডিং এর কবলে পরে উচ্চ মাধ্যমিকের প্রায় ১০ হাজার পরীক্ষার্থী। এক জুলাই থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অর্ধ-বার্ষিক পরীক্ষা নিয়ে দুঃচিন্তায় পরেছে প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থী। এছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪৩ হাজার ক্ষুদে শিক্ষার্থীর একই অবস্থা। আগামী ১ জুলাই থেকে বার্ষিক পরীক্ষা পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। লোডশেডিং ও গরমে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার যেমন ক্ষতি হচ্ছে তেমনি শিল্পাঞ্চলে মিলকারখানায় উৎপাদন মারাত্বক বিপর্যয় নেমে এসেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ রবিবার (২৮ জুন) উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে এবং ভুক্তভোগি শিক্ষার্থী-অভিভাবক, পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক, বিভিন্ন শিল্পের মালিক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে লোডশেডিংয়ের এমন ভয়াবহ চিত্র পাওয়া গেছে। মির্জাপুর উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন গ্রিড থেকে উৎপাদন কম এবং প্রয়োজনীয় মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ না পাওয়ায় লোডশেডিং হচ্ছে।
আজ রবিবার দুপুরে উপজেলার জামুর্কি, মহেড়া, বানাইল, আনাইতারা ইউনিয়ন ¦েং পাশ^বর্তী উপজেলা দেলদুয়ার ও বাসাইল উপজেলার কয়েক শতাধিক পল্লী বদ্যুতের গ্রাহকসহ শিক্ষার্থীরা নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবীতে জামুর্কি এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। এ সময় মহাসড়ক অবরোদের পাশাপাশি জামুর্কি পল্লী বিদ্যুতের সাবষ্টেশন ও অফিস ঘোরাও করে ভাংচুরের চেষআট চারায়। খবর পেয়ে মির্জাপুর তানা পুলিশ পরিস্তিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। এছাড়া দুই নং জামুর্কি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডি এ মতিন ঘটনাস্তলে পৌঁছে ভুক্তভোগিদের সঙ্গে কথা বলেন। নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের আশ^াসের প্রায় দুই ঘন্টার চেষ্টার পর বিক্ষুভকারীরা মহাসড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেয়।
এদিকে টাঙ্গাইল জেলা পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগ সুত্র জানান, টাঙ্গাইল গ্রীডের অধিনে মির্জাপুর গ্রীডে বিদ্যুৎ চাহিদা ৮০-৯০ মেগাওয়াট। চাহিদার বিপরীতে কবিরপুর ও অন্যান্য গ্রীড মিলে বিদ্যুৎ পাচ্ছেন ১৫-২৫ মেগাওয়াট। বিদ্যুতের চাহিদা পুরন করতে প্রতিদিন এলাকা ভিত্তিক লোড শেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এদিকে বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশিডিং এর ফলে উপজেলার গোড়াই শিল্পাঞ্চলে ছোট, বড় ও মাঝারি মিলে শতাধিক মিলকারখানায় উৎপাদন মারাত্বক বিপর্যয় নেমে এসছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গোড়াই এলাকায় কয়েকটি শিল্পের কর্মকর্তাগন কবলেন, মিলে উৎপাদন না থাকায় দেশী বিদেশী বায়ারদের অভার বাতিল হচ্ছে। অডার বাতিলের পাশাপাশি তেমনি বিপুল অংকের টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। ফলে তারা ঋণে জর্জরিত হয়ে পরছে বলে ভুক্তভোগি মালিক ও কর্মকর্তাগন জানিয়েছেন। ভয়াবহ লোডশেডিং ও তীব্র গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে। এলাকার ভুক্তভোগি গ্রাহকদের অভিযোগ দিন রাত ২৪ ঘন্টার মধ্যে ১৮ ঘন্টাই বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না। গ্রামের অবস্থা আরও খারাপ তীব্র গরম আর লোডশেংিয়ের কারনে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মারাত্বক ক্ষতি হচ্ছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সবাপতি মো. আতিকুর রহমান ও প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আগামী ১ জুলাই থেকে উপজেলার প্রতিটি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একযোগে অর্ধ-বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার। বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী লোড শেডিং এর কবলে পরে পড়াশোনার মারাত্বক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। রাজাবাড়ি কলেজের প্রভাষক মো. মফিজুর রহমান স্বপন এবং উপজেলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি নেতা মো. ফরহাদ বরেন ভয়াবহ লোডশেডিং এর কারনে আ¯œ এসইচএসসি পরীক্ষা এবং প্রাথমিকের শিশুদের পড়াশোনার মারাত্বক সমস্যা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল জেলা পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মো. ছানোয়ার হোসেন এবং মির্জাপুর ও গোড়াই জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. মোকলেছুর রহমান ও খালিদ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, মির্জাপুর উপজেলায় দুইটি জোনাল অফিসের অধিনে গ্রাহক সংখ্যা প্রায় এক লাখ ৮০ হাজার। বিপুল সংখ্যক গ্রাহকের জন্য যে পরিমান বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা সে তুলনায় তারা ময়মনসিংহ জোন থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ পাচ্ছেন না। এছাড়া মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই এলাকায় শিল্পাঞ্চল রয়েছে। টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে লোডশেডিং হচ্ছে বেশী। বিষয়টি তারা উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে জানিয়েছেন।
মির্জাপুর তানার াফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বেলন, মহাসড়কের অবরোধের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছেন।






