মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
চল যাই যুদ্ধে মাদকের বিরুদ্ধে এই শ্লোগান নিয়ে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলাকে মাদক মুক্ত করতে উপজেলা বিএনপি ও এর সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা রাজপথে নেমেছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষণা ও টাঙ্গাইল-০৭ মির্জাপুর আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীর নির্দেশেনায় আজ সোমবার উপজেলা বিএনপি ও এর সহযোগি সংগঠন রাজপথে নেমে বিক্ষোভ মিছিলসহ প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। বিকেলে উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এডভোকেট আব্দুর রউফ ও সাধারণ সম্পাদক খন্দকার সালাউদ্দিন আরিফের নেতৃত্বে মাদক বিরোধী একটি বিশাল মিছিল বাইপাস এলাকার বিএনপির দেলীয় কার্যালয় থেকে বের হয়। মিছিলটি ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক হয়ে শহরের বিভিন্ন রাস্তা প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে এসে প্রতিবাদ সমাবেশ করে। এতে বক্তব্য রাখেন পৌর বিএনপির সভাপতি মো. হযরত আলী মিঞা, সাধারণ সম্পাদক এস এম মহসীন, সিনিয়র সহসভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর আলী আযম সিদ্দিকী, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আলম হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক ডি এম শফিকুল ইসলাম ফরিদ ও আলম মৃধা প্রমুখ। যে কোন মুল্যে মির্জাপুরকে মাদক মুক্ত করা হবে বলে বিএনপির নেতাকর্মীরা ঘোষনা দিয়েছেন।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যমুনা সেতুর উপর দিয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক হয়ে বাস ও ট্রেনে উত্তরাঞ্চল থেকে মাদকের চালান আসছে মির্জাপুরের মহেড়া ও উপজেলা সদরের ট্রেন স্টেশনে। মাদক কারবারীরা বিভিন্ন ভাগে মাদকের চালান মির্জাপুর পৌরসভার পাড়া-মহল্লায় বিভিন্ন কৌশলে বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। দীর্ঘ দিন ধরে চলছে এ মাদক ব্যবসা। এসব মাদকের চালান ছড়িয়ে পরে সাহাপাড়া, মুসলিমপাড়া, পাহাড়পুর, বাবু বাজার, কুতুব বাজার, আন্ধরা, বাওয়ার কুমারজানি, পুষ্টকামুরী, বাইমহাটি, প্রফেসরপাড়া, সরিষাদাইর ও কান্ঠালিয়াসহ বিভিন্ন দোকান, বাসাবাড়ি ও অলি-গলিতে। ভুক্তভোগিরা অভিযোগ করেছেন, মির্জাপুর পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী মাদক কারবারী। মোবাইলে ডিজিটাল ভার্চুয়ালি জুয়াড়ি চক্র। সাহাপাড়া বাবু বাজারে প্রতিটি দোকানে চলছে এ ব্যবসা। সর্বশান্ত হচ্ছে যুব সমাজ ও অভিভাবক। তাদের সহযোগিতা করে থাকেন স্থানীয় প্রভাবশালী মহল ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা অপরাধী সিন্ডিকেট চক্র। মির্জাপুর সাহাপাড়া, কুমুদিনী হাসপাতাল সংলগ্ন লৌহজং নদীর ঘাট, বাইমহাটি, ঘোষপাড়া, আন্ধরা, পাহাড়পুর, বাবু বাজার, মুসলিমপাড়া, পাহাড়পুর, সারিষাদাইর, শ্রীহরিপাড়া, রাজনগর, কুতুববাজার, কান্ঠালিয়া, বাওয়ার কুমারজানি, বংশাই সেলুঘাট, গাড়াইল, ত্রিমোহন, সওদাগড়পাড়া, কাঁচাবাজার, প্রফেসরপাড়া, বাইমহাটি এবং পুষ্টকামুরী গ্রাম এখন মাদকের রাজধানী হিসেবে খ্যাত। মাদকের মধ্যে রয়েছে ইয়াবা ট্যাবলেট, হেরোইন, ফেনসিডিল, গাঁজা, দেশী-বিদেশী মদ, বাংলা ও চোলাই মদ। এসব এলাকার বাজারের অধিকাংশ চা স্টলে পর্দার অন্তরালে লাখ লাখ টাকার জুয়া খেলা হচ্ছে। মাদক ও জুয়ার টাকা সংগ্রহ করতেই কিশোর গ্যাং গ্রুপের সদস্যরা চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মাদক কারবারী ও জুয়াড়িদের কারনে তারা রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করতে পারেন না। প্রকাশ্যেই চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাই হয়। মাদক সেবীরা মাদক সেবন করে রাস্তা ঘাটে মাতলামি করে পথচারীদের অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজও করছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার খান সালমান হাবীব ও পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভুমি) তারেক আজিজ বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাদক নির্মুলে কাজ করছেন।
মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মাদক কারবারিরা যত শক্তিশালীই হোক কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। পুলিশ সুপার শামসুর আলম সরকারের নির্দেশে মাকের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়েছে।






