মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবীতে আজ বুধবার ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক অবরোধ করে বাওয়ার কুমারজানি এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিস ঘেরাও করে ১১ দলয়ি জোটের নেতাকর্মীরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। মির্জাপুরে ভয়াবহ লোড শেডিং চলছে দীর্ঘ দিন ধরে। গ্রামের অবস্থা আরও খারাপ। তীব্র গরম ও লোডশেডিং এর কবলে পরে জনজীবন বিপর্যস্ত। লোড শেডিং ও গরমের মধ্যেই আজ ১ জুলাই থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অর্ধ-বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হয়েছে। দুঃচিন্তায় পরেছে প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থী। এছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪৩ হাজার ক্ষুদে শিক্ষার্থীর একই অবস্থা। আগামীকাল ২ জুলাই থেকে থেকে শুরু হবে এইচ এসসি পরীক্ষা। লোডশেডিং ও গরমে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার যেমন ক্ষতি হচ্ছে তেমনি শিল্পাঞ্চলে মিলকারখানায় উৎপাদন মারাত্বক বিপর্যয় নেমে এসেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবীতে ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি এলাকার সাধারণ মানুষও এখন রাস্তায় নেমেছে।
আজ বুধবার বেলা এগারটার দিকে মির্জাপুর উপজেলা ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে কয়েক শতাধিক নেতাকর্মী ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের মির্জাপুর বাইপাস এলাকায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে। এরপর মিছিল নিয়ে বাওয়ার কুমারজানি এলাকায় পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিস ঘেরাও করে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুবকারীদের বোঝানোর চেষ্টা করেন। এ সময় ১১ দলীয় জোটের নেতা ওয়াজ উদ্দিন, আবু আলমাছ মিয়া, আবুল কাশেম, মনিরুজ্জামান মনিরসহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বিদ্যুতের উন্নীতি না হলে তারা কঠোর কর্মসুচী দিবে। এর আগে গত ২৮ জুন রবিবার বেলা সারে এগারটার দিকে উপজেলার জামুর্কি, মহেড়া, বানাইল, আনাইতারা ইউনিয়ন ও পাশ^বর্তী উপজেলা দেলদুয়ার ও বাসাইল উপজেলার কয়েক শতাধিক পল্লী বদ্যুতের গ্রাহকসহ শিক্ষার্থীরা নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবীতে জামুর্কি এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক অবরোধ করে । মহাসড়ক অবরোধের পাশাপাশি জামুর্কি পল্লী বিদ্যুতের সাবষ্টেশন ও অফিস ঘোরাও করে ভাংচুরের চেষআট চালায়। বিক্ষভকারীরা নিরিবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের জন্য ৭ দিনের আলটিমেটাম দেন। খবর পেয়ে মির্জাপুর তানা পুলিশ পরিস্তিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের আশ^াসের প্রায় দুই ঘন্টার চেষ্টার পর বিক্ষুভকারীরা মহাসড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেয়।
এদিকে টাঙ্গাইল জেলা পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগ সুত্র জানান, টাঙ্গাইল গ্রীডের অধিনে মির্জাপুর গ্রীডে বিদ্যুৎ চাহিদা ৮০-৯০ মেগাওয়াট। চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎ পাচ্ছেন ১৫-২৫ মেগাওয়াট। বিদ্যুতের চাহিদা পুরন করতে প্রতিদিন এলাকা ভিত্তিক লোড শেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছেন। অপর দিকে বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশিডিং এর ফলে উপজেলার গোড়াই শিল্পাঞ্চলে ছোট, বড় ও মাঝারি মিলে শতাধিক মিলকারখানায় উৎপাদন মারাত্বক বিপর্যয় নেমে এসছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গোড়াই এলাকায় বিভিন্ন শিল্পের কর্মকর্তাগন জানিয়েছেন, মিলে উৎপাদন না থাকায় দেশী বিদেশী বায়ারদের অভার বাতিল হচ্ছে। অডার বাতিলের পাশাপাশি তেমনি বিপুল অংকের টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। এলাকার ভুক্তভোগি গ্রাহকদের অভিযোগ দিন রাত ২৪ ঘন্টার মধ্যে ১৮ ঘন্টাই বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না। গ্রামের অবস্থা আরও খারাপ তীব্র গরম আর লোডশেংিয়ের কারনে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মারাত্বক ক্ষতি হচ্ছে।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল জেলা পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের মির্জাপুর ও গোড়াই জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. মোকলেছুর রহমান ও খালিদ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, মির্জাপুর উপজেলায় দুইটি জোনাল অফিসের অধিনে গ্রাহক সংখ্যা প্রায় এক লাখ ৮০ হাজার। বিপুল সংখ্যক গ্রাহকের জন্য যে পরিমান বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা সে তুলনায় তারা ময়মনসিংহ জোন থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ পাচ্ছেন না। এছাড়া মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই এলাকায় শিল্পাঞ্চল রয়েছে। টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে লোডশেডিং হচ্ছে বেশী। বিদ্যুতের লোড বাড়ানোর জন্য বিষয়টি তারা স্থানীয় সাংদ আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী এমপিসহ উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে জানিয়েছেন।
মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ১১ দলীয় দলীয় জোটের পক্ষ থেকে নেতাকর্মীরা নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের জন্য আজ বুধবার ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা ও পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিস ঘেরাও করেন। মহাসড়কের অবরোধের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছেন। কোথাও কোন অপৃতিকর ঘটনা ঘটেনি।






