মির্জাপুরে ভারতীয় গরু আসায় কোরবানীর পশু নিয়ে খামারী কৃষক ও বেপারিরা বিপাকে

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে হাট বাজারে ভারতীয় গরু আসায় কোরবানীর পশু নিয়ে চরম বিপাকে পরেছেন খামারী, কৃষক ও বেপারিগন। ক্রেতা না পাওয়ায় কোরবানীর পশু নিয়ে দুঃচিন্তায় পরেছেন খামারীগন। আজ শনিবার (১৫ জুন) উপজেলার কোরবানী পশুর হাটে কয়েকজন খামারী ও গরু বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্রই পাওয়া গেছে।
উপজেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগ জানান, পৌরসভা ও ১৪ ইউনিয়নে ছোট বড় মিলে ১৫০টি মত গরুর খামার রয়েছে। কোরবানী ঈদে বিক্রির করার জন্য এসব খামারী ও বেপারিগন দেশীয় ও ক্রস প্রজাতির গরু মোটা তাজা করে থাকেন। খামারীদের সহজ শর্তে ঋণ, ঔষধ, উন্নত জাতের খাবার সরবরাহসহ নানা ভাবে পরামর্শ ও সহযোগিতা করা হয়। উপজেলার গরুর খামারী মোবারক ও গরু বিক্রেতা আব্দুল মালেক মিয়া জানান, খামারে ছোট, বড় ও মাঝারি সাইজের ১৫-২০ টি গরু রয়েছে। কোরবানী ঈদকে সামনে রেখে ব্যাংক ঋনসহ বিভিন্ন ধার দেনা করে গরু লালন পালন করেছেন। খামারে বেপারি ও ক্রেতা আসছেন না। মুল কারন হচ্ছে বিভিন্ন হাট বাজারে শেষ সময়ে এসে ভারতীয় গরু সয়লাভ হওয়ায় ক্রেতাগন কম দামে গরু কিনছেন। এখানে পশুর হাটে ছোট সাইজের গরু ৬০-৮০ হাজার টাকা, মাঝারি সাইজের গরু ৯০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা এবং বড় সাইজের গরু এক লাখ ৮০ হাজার টাকা থেকে পাঁচ লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া খাঁসি ৭ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৩০-৪০ হাচজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশীয় প্রজাতির গরু বিক্রি করতে না পারলে লাখ লাখ টাকা লোকসান গুনতে হবে বলে জানিয়েছেন। তাদের মত অনেক খামারীই এমন অভিযোগ করেছেন। অপর দিকে কোরবানীর আর মাত্র এক দিন রয়েছে। উপজেলার বৃহৎ পশুর হাট দেওহাটা ও তকত্তারচালায় হাট বসেছে। ক্রেতাগন কম দামের আসায় এ হাট থেকে অন্য হাটে ছোটাছুটি করচেন পশু কিনতে। এদিকে বেপারিদের মধ্যে আরমান আলী ও সোহাগ মিয়া জানান, প্রতি বছর কোরবানীর ঈদ এলেই দেওহাটা ও তক্তারচালা পশুর হাটে কোরবানীর পশু বিক্রি করতে আসেন। এ বচল ভাতরয়ি গরু আসায় তারা বিপাকে পরেছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. শুভাশিষ কর্মকার বলেন, এ বছর মির্জাপুর উপজেলার দেড় শতাধিক খামারে দেশীয় ও ক্রস প্রজাতির প্রচুর গরু মোটা তাজা করেছেন বেপারি ও কৃষকরা। প্রয়োজনীয় তকুলনায় ক্রেতা না পাওয়ায় খামারী ও বেপারিরা গরু নিয়ে দুঃচিন্তায় পরেছেন। প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর থেকে খামারী, কৃষক এবং বেপারিদের বিভিন্ন ভাবে পরামর্শ ও সহযোগিতা করা হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ নুরুল আলম বলেন, কোরবানী ঈদকে সামনে রেখে খামারী, বেপারি ও সাধারন জনগনের কথা বিবেচনা করে পশুর হাট চালু করা হয়েছে। খামারী, বেপারি ও কৃষকরা যাতে নির্বিগ্নে প্রতিটি হাটে পশু ক্রয়-বিক্রয় করতে পারেন সেজন্য উপজেলা প্রশাসন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যগন নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছেন।

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here