মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কুমুদিনী হাসপাতালে কমিউনিটি ভিত্তিক এনসিডি ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা বৃদ্ধিকরন প্রকল্প আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্র শুরু হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কোয়িকাঅর্থায়নে তিন বছরের জন্য গোøাবাল কেয়ার পিএমসিআই এই গুরুত্বপুর্ন প্রকল্পটি কুমুদিনী ওয়েলফোর ট্রাস্ট অব বেঙ্গল (বিডি) লিমিটেড এবং এর ফ্ল্যাগশিপ প্রতিষ্ঠান কুমুদিনী হাসপাতালকে একত্রিত করে মির্জাপুর অঞ্চলে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের মতো অ-সংক্রামক রোগের ক্রমবর্ধমান চাপ মোকাবেলায় কাজ করবে।
এ উপলক্ষে আজ সোমবার (৩০ জুন) কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজের বি পি পতি মিলনায়তনে প্রকল্পটির উদ্ধোধনী অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা এনসিডিসির লাইন ডিরেক্টর ও মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. সৈয়দ জাকির হোসেন। অনুষ্ঠানে কুমুদিনী ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্ট্রের পরিচালক মহাবীর পতি, কুমুদিনী হাসপাতালের পরিচারক ডা. প্রদীপ কুমার রায়, সহকারী পরিচালক অনিমেশ ভৌমিক লিটন, ইউমেন্স মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এম এ হালিম, হাসপাতালের চিকিৎসক, সরকারি ও বেসরকারী সহযোগি সংস্থার প্রতিনিধিগন। অনুষ্ঠানে প্রতিনিধিগন তাদের বক্তব্যে বলেন, বর্তমান বাংলাদেশে একটি বড় স্বাস্থ্যগত রুপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে অ-সংক্রামক রোগগুলো মৃত্যুর প্রধান কারনগুলোর মধ্যে ৭০ ভাগ রোগী দায়ী। সরকার এনসিডি ব্যবস্থাপনায় শক্তিশালী পদক্ষেপ নিয়েছে এবং ইতিবাচক ফগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে ওষুধের ঘাটতি ও জনসচেতনার অভাবে বড় প্রতিবন্ধক। টাঙ্গাইলের মির্জাপুর ও এর ব্যতিক্রম নয়। বর্তমান সরকারি ব্যবস্থাপনায় মাত্র ১০ ভাগ সম্ভাব্য উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস রোগি নিবন্ধিত এবং চিকিৎসাধীন। আরও বেশী চিহিৃতকরন, নিবন্ধন ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা অত্যান্ত গুরুত্বপুর্ন।
অতিথিবৃন্দ আরও বক্তাগন বলেন, এই প্রকল্পের মুল লক্ষ্য ও উদ্যেশ্য হলো স্থানীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যকর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় ডায়াগনস্টিক ওষুধের প্রাপ্যতা নিশ্চিতকরন এবং তথ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, জনসচেতনা ও সম্পৃক্তা বাড়ানোর লক্ষ্যে সু-নির্দিষ্ট শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে ঝুঁকিহ্রাস ও প্রাথমিক রোগ নির্নয়ে উৎসাহ দেওয়া। সফল কমিউিনিটি-ভিত্তিক মডেল প্রদর্শনের মাধ্যমে জাতীয় নীতিমালায় প্রভাব ফেলার জন্য এনসিডি শাসন ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে পরামর্শ দেওয়া।
এ ব্যাপারে কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল প্রফেসর ডা. এম এ হালিম ও কুমুদিনী হাসপাতালের সহকারী পরিচালক অনিমেশ ভৌমিক লিটন বলেন, ১৯৪৭ সালে দানবীর রায় বাহাদুর রণদা প্রসাদ সাহা প্রতিষ্ঠিত কুমুদিনী ওয়েলয়ার ট্রাস্ট বাংলাদেশে একটি বিশাল জনকল্যাণমুলক ইতিহাস বহন করেছে। ১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত মির্জাপুরে কুমুদিনী হাসপাতাল বর্তমানে একটি এক হাজার শয্যার সাধারণ হাসপাতাল, যেখানে আধুনিক সেবা বিনামুল্যে ও নামমাত্র মুল্যে প্রদান করা হয়। ট্রাস্টটি এর সকল মুনাফা স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা ক্ষেত্রে জনসেবায় পুনঃবিনিয়োগ করে। এই হাসপাতালের গভীর সামাজিক শিকড় ও চিকিৎসাগত অভিজ্ঞতা মির্জাপুরে এনসিডি ব্যবস্থার দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা রাখবে বলে আমা করা হচ্ছে।







