মির্জাপুরে খোরশেদ খুনের আসামীরা ২০ দিনেও গ্রেফতার হয়নি আসামীরা ঘুরছে বীরদর্পে

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে চাঞ্চল্যকর খোরশেদ মিয়া খুনের আসামীরা ২০ দিনেও গ্রেফতার হয়নি। পুলিশের সঙ্গে যোগসাজ করে হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট ও ময়না তদন্ত রিপোর্ট পাল্টে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আসামীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার পর আসামীরা বাদীকে প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে । ফলে পরিবার পরিজন নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে আজ মঙ্গলবার অভিযোগ করেন মামলার বাদী হাসান মিয়া। এর আগে গত ২৫ মে মির্জাপুর উপজেলার বানিয়ারা উত্তরপাড়া গ্রামে তুচ্ছ ঘটনায় ছোট ভাই রোমেজ মিয়ার হাতে বড় ভাই খোরশেদ মিয়া খুন হন।
জানা গেছে, গত ২৫ মে সকালেল দিকে বানিয়ারা উক্তর পাড়া গ্রামের কিতার আলী বড় ছেলে মরহুম নুরুল ইসলামের একতলা পাকা ভাবনের ছাদে দুই ভাই খোরশেদ আলম ও রোমেজ মিয়া ধান শুকাতে যান। ধান শুকানোর এক পর্যায়ে বৃষ্টি শুরু হলে দ্জুনেই শুকানো ধান ভবনের উপর স্তুপ করে রাখেন। ধানের মধ্যে বৃষ্টির পানি পরাকে কেন্দ্র করে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ছোট ভাই রোমেজ মিয়া কোদাল দিয়ে বড় ভাই খোরশেদ মিয়াকে বুকের মাঝে আঘাত করেন। আঘাতের পর তিনি অচেতন হয়ে মাটিতে লুটে পরেন। বাড়ির লোকজন ও আশাপাশের লোকজন খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে জামুর্কি সরকারি হাসপাাতলে নিয়ে গেলে চিকিৎসকগন তাকে মৃত ঘোষনা করেন।
এদিকে ঘটনার দিন খুনের শিকার খোরশেদ মিয়ার ছেলে হাসান মিয়া বাদী হয়ে রোমেজ মিয়া, জহিরুল মিয়া ও সাইফুল মিয়াকে আসামী করে মির্জাপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-৩৫, পেনাল কোর্ড নং-১৮৬০, ধারা ৩০২/১১৪। মামলার বাদী হাসান মিয়া অভিযোগ করেন, আসামীরা প্রভাবশালী হওয়ায় পুলিশের সঙ্গে যোগসাজস করে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে প্রথমে জামুর্কি সরকারি হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট নিজেদের পক্ষে এবং টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল থেকে ময়না তদন্ত রিপোর্টও তাদের পক্ষে নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। দুটি রিপোর্টই তাদের পক্ষে নেওয়ায় মুল আসামী রোমেজসহ অপর আসামীরা বীরদর্পে এলাকায় ঘোরাফেরা করছে। আসামীরা বাড়িতে অবস্থান করে মামলার বাদী হাসান ও তার পরিবারকে প্রাণ নামের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। ফলে পরিবার পরিজন নিয়ে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে অভিযোগ করেন। বিষয়টি থানা পুলিশ ও মামলার তদন্তকারী অফিসার সুমন মিয়াকে অবহিত করার পরও তিনি কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং মামলার তদন্তকারী অফিসার সুমন মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঘটনার পর পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করা হয়েছে। মামলার বাদী ও তার পরিবারকে সার্বিক পরামর্শসহ সহযোহিতা করা হচ্ছে। ময়না তদন্ত রিপোর্ট টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল থেকে এখন পর্যন্ত হাতে আসেনি। আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

  • সাপ্তাহিক বারবেলা ডেস্ক

    Related Posts

    মির্জাপরে প্রিয় দল ব্রাজিলের পতাকা উড়াতে গিয়ে ছাঁদ থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু

    মির্জাপুরে পুকুর খননের নামে মাটি বিক্রি হুমকির মুখে নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়সহ পাকা ঘরবাড়ি

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *