মির্জাপুরে অভিযানে অবৈধ সাত ইটভাটা ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিল যৌথবাহিনী

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে তিন ফসলি জমিতে অবৈধভাবে গড়ে উঠা সাত ইটভাঁটায় ট্যাক্্রফোর্সের অভিযানে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়েছে যৌথবাহিনী ও পরিবেশ অধিদপ্তরসহ প্রশাসন। আজ বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হ, মির্জাপুর উপজেরা নির্বাহী অফিসার এ বি এম আরিফুল ইসলামের নির্দেশে অভিযান পরিচালনা করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন, টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেরা ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন, সিনিয়র সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাকিবুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভুমি) মাসুদুর রহমান, পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচারক মিঞা মাহমুদুর হক, সহকারী পরিচালক সজিব কুমার ঘোষসহ সেনাবাহিনী, পুলিশ, আসনার ,ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার বেলায়েত হোসেন ও গ্রাম পুলিশের সদস্যগন। এর আগে গত ১২ ডিসেম্বর এই ভাটায় ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে ভাটা মালিকদের ২৪ লাখ টাকা জরিমানা ও ভাটা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ঐ দিন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুলতানা সালেহা সুমি। এ সময় সেনাবাহিনী, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যগন উপস্থিত ছিলেন।
পরিবেশ অরিবেশ অধিদপ্তর টাঙ্গাইল অফিস সুত্রে জানা গেছে, মির্জাপুর উপজেলায় শতাধিক ইটভাটা রয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুসারে পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলাপ্রশাসকসহ বিভিন্ন অধিদপ্তরের অনুমোদনক্রমে ইটভাটা স্থাপন করার কথা। কিন্ত মির্জাপুর উপজেলায় বেশ কিছু ইটভাটার অনুমোদন নেই। হাইকোর্টে রিট করে নানা কৌশলে ইটভাটা চলমান রেখেছে যা আইনগত ভাবে সঠিক নয়। পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্দেশনা অমান্য করে ছারপত্র ছাড়া তিন ফসলি জমির ওপর মির্জাপুর উপজেলার বহুরিয়া গ্রামে আরবিসি ব্রিকস, এম এস বি ব্রিকস, বাটা ব্রিকস, এইচ ইউ বি ব্রিকস, নিউ রমিজ বিক্রজ, রান ব্রিকজ, গোড়াই ইউনিয়নের মীর দেওহাটা গ্রামে সনি ব্রিকস ও বাইমাইল গ্রামে বি এন্ড বি ব্রিকসসহ সাতটি ইটভাঁটা নির্মাণ করে ইট তৈরী ও পোড়ানো হচ্ছিল। এর একটি ইটভাটায় কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ একর আবাদী জমি ব্যবহার করা হয়েছে। তিন ফসরি জমিতে অবৈধ ইটভাটা গড়ে তোলায় ইটের কাল ধোয়ায় এলাকায় পরিবেশ মারাত্বক হুমকির মুখে। মরে যাচ্ছে গাছপালা। এই অবৈধ ইটভাঁটার বিষয়টি জানতে পেয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর গত ১২ ডিসেম্বর সকাল ১০ টা থেকে অভিযুক্ত ছয় ইটভাঁটার অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে পরিবেশ অধিদপ্তর ঢাকা সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুলতানা সালেহা সুমি প্রত্যেক ইটভাঁটার মালিককে চার লাখ টাকা করে জরিমানা করেন। অবৈধ ভাঁটাগুলোর একাংশ ভেকু মেশিন দিয়ে ভেঙে ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের মাধ্যমে পানি দিয়ে আগুন নেভানো হয়। পরে ওই ইটভাঁটাগুলোতে ইট প্রস্তুত ও পোড়ানো অনিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
এদিকে নির্দেশ অমান্য করে আবার তারা ইট প্রস্তুত করে আসছিল। আজ বৃহস্পতিবার ট্রাক্্রফোর্সের অভিযানে বাটা ব্রিকজ, নিউ সরকার ব্রিকজ, নিউ রমিজ ব্রিকজ, হক ব্রিকজ, বি এন্ড বি ব্রিকজ, সনি ব্রিকজ ও রান ব্রিকস এর চিমনি ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মিয়া মাহমুুদুল হক বলেন, মির্জাপুরে অবৈধভাবে গড়ে উঠা ইটভাঁটাগুলো আগেই পরিদর্শন করে এর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পরিবেশ অধিদপ্তরের ইনফোর্সমেন্ট শাখায় সুপারিশ পাঠানো হয়েছিল। আজ বৃহস্পতিবার পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক এর দিক নির্দেশনায় পরিবেশ দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ ট্যাক্্রফোর্সের সদস্যসহ যৌথবাহিনীর সদস্যগন সাতটি ইটভাঁটায় অভিযান পরিচালনা করে ইট পোড়ানোর চিমনি ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হয়। এর আগে গত ১২ ডিসেম্বর এই ভাটাগুলোকে চার লাখ করে ২৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছিল।

 

  • সাপ্তাহিক বারবেলা ডেস্ক

    Related Posts

    টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কুমুদিনী হাসপাতালে গৃহবধুর এক সঙ্গে চার সন্তান প্রসব

    মির্জাপুরে ইউএনওর সহযোগিতায় ভাটা মালিক ও কৃষকদের মধ্যে সমস্যার সমাধান

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *