অভিযোগ করলে বড় ধরনের ক্ষতি মির্জাপুরে ফসলি জমি ধ্বংস করে অবৈধ রাস্তা নির্মান মাটি কাটার ধুম

0
138

বারবেলা ডেস্ক ঃ

সিন্ডিকেট চক্রের সমন্বয়ে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বহুরিয়া ইউনিয়নের পাতিলাপাড়া এলাকায় অবৈধ ভাবে প্রকাশ্যে দিবালোকে ভেকু দিয়ে ৩ ফসলি জমি ও লৌহজং নদীর পারের মাটি কাটার কর্মযজ্ঞ চালাচ্ছে

প্রায় দের কিলোমিটার ফসলী জমি ধ্বংস করে রাস্তা নির্মান করেছে মাটি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট-চক্র। প্রতিদিন প্রায় ৩০-৪০ লক্ষ টাকার মাটি বিক্রি করছে বলে জানা গেছে। এতে দিন দিন ফসলের উৎপাদন কমছে, বেকার হচ্ছে কৃষক, পরিবেশ হচ্ছে দূষিত, তিন ফসলী কৃষি জমি পরিনত হচ্ছে পুকুর-ডোবা ও নদীতে।

মাটি পরিবহনে ভারী ট্রাক ব্যবহারে ইউনিয়ন ও গ্রামীণ সড়ক হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্থ। আইন অমান্য করে এই অবৈধ কর্মকান্ড চলছে টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুরে বহুরিয়া ইউনিয়নের পাতিলাপাড়া এলাকায়। ইউনিয়নের এই এলাকায় ৫ টি ভেকু দিয়ে মাটি কেটে ট্রাক দিয়ে সাপ্লাই হচ্ছে বিভিন্ন অঞ্চল ও ইট ভাটায়। ট্রাক চলাচলে ধুলার ডেকে গেছে গোটা এলাকা ও ফসলাদি।

ভয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যাক্তি বলেন, অবৈধ মাটি কাটা বন্ধের জন্য লিখিত অভিযোগ করেলে বড় ধরনের ক্ষতি করবে বলে হুমকি দেয় এলাকার নিরীহ লোকদের। এদের সামনে কেউ কথা বলতে সাহস করেনা।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের পাতিলাপাড়া এলাকায় প্রায় দের কিলোমিটার ফসলী জমি ধ্বংস করে রাস্তা নির্মাণ করেছে মাটি ব্যবসায়ী ইলিয়াস, ফরিদসহ আরও কয়েকজন। লৌহজং নদীর পার ও ফসলী জমি থেকে মাটি কেটে ইট ভাটায় বিক্রি করার চিত্র মিলল ঘটনাস্থলে। ধুলা-বালুতে আচ্ছন্ন হয়ে আছে আশেপাশের সরিষা ক্ষেতের ফসল, যাতায়াতে নানা শ্রেণির মানুষের শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগের সৃষ্টি হচ্ছে। বাড়ছে জনমনে ক্ষোভ।

এ অবস্থায় দিশেহারা ও অসহায় জীবন যাপন করছে এবং স্বাস্থ্য হুমকির মুখে পরছে হাজার হাজার মানুষ।

উপজেলা প্রশাসনিক দপ্তর থেকে মাত্র ২ কিলোমিটারের মধ্যে দিনরাত ২৪ ঘন্টা পর্যন্ত প্রকাশ্যে দিবালোকে অবৈধ ভাবে ফসলি জমির মাটি কাটছে দেখলে মনে হয় সরকার থেকে অনুমতি নিয়ে পুকুর বা নদী খনন করছে উপজেলার পাতিলাপাড়া এলাকায়।

বহুরিয়া লৌহজংনদী এলাকায় ৫ টি ভেকু দিয়ে মাটি কাটতেছে দেওহাটা এলাকার ইলিয়াস তার সাথে জড়িত আছে তার নিজেস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী । ভূমিদস্যুদের নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী আছে ভয়ে সেখানে যেতে সাহস করেনা।

এলাকাবাসী জানান, আমরা অসুস্থ্য হয়ে পরছি। কর্তৃপক্ষ কিছুই দেখছে না। ভূমিদস্যুদের এই মাটি কাটা থেকে আমাদের ফসলি জমি ও পরিবেশকে রক্ষা ও রোগ বালাই থেকে বাচতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ডিসি, পুলিশ সুপারসহ সকলে সরকারি কর্মকর্তার নিকট সাংবাদিকদের মাধ্যমে আমারা আবেদন জানাচ্ছি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ইউনিয়ন থেকে প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার ট্রাক অবৈধ ভাবে লৌহজং নদীর পার ও ফসলি জমির মাটিকাটা হচ্ছে। এসব মাটি যাচ্ছে বিভিন্ন ইট ভাটা গুলোতে যাচ্ছে। মাটি বিক্রি করে প্রতিদিন প্রাায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা আয় করছে প্রভাবশালী মহল। র্দীঘদিন যাবত চলছে এ মাটি কাটার কর্মযজ্ঞ। স্থানীয় প্রশাসন ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা জড়িত রয়েছে অভিযোগ এলাকাবাসির।

এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগি জমির মালিকগন জানান, উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের বাইমাইল সংলগ্ন পাতিলাপাড়া এলাকায় ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে নেয়া হচ্ছে ইটভাটায়। ভূমিদস্যুরা জমির মাটি ভেকু মেশিন দিয়ে ১০/১২ ফুট গভীর করে খাড়াভাবে কাটে, যাতে করে অল্প কয়েক দিনের মধ্যে পার্শ্ববতী জমির মাটি ভেঙে পরে যায়।

সরকারি গেজেটে প্রকাশিত মাটির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও হ্রাসকরণ ২০১৩ সালের ৫৯ নং আইনের ৫ ধারা অনুযায়ী কোন ব্যক্তি ইট প্রস্তুত করার উদ্দেশ্যে কৃষি জমি হতে মাটি কাটা বা সংগ্রহ করে ইটের কাচাঁমাল হিসাবে ব্যবহার করতে পারবে না। যদি কোন ব্যক্তি আইনের এই ধারা লঙ্ঘন করেন তা হলে তিনি অনধিক ২ (দুই) বৎসরের কারাদন্ড বা ২ (দুই) লক্ষ টাকা অর্থদন্ড অথবা উভয় দন্ড দন্ডিত হইবেন।

অন্যদিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক নির্মিত বা ইউনিয়ন বা গ্রামীন সড়ক ব্যবহার করিয়া কোন ব্যক্তি ভারি যানবাহন দ্বারা ইট বা ইটের কাচাঁমাল পরিবহন করিতে পারিবেন না। যদি কোন ব্যক্তি আইনের এই ধারা লঙ্ঘন করেন তা হইলে তিনি ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদন্ডে দন্ডিত হইবেন। এসব আইন থাকার পরও ভূমিদস্যুরা আইনের তোয়াক্কা না করে স্থানীয় প্রশাসন চোখের সামনে এসব কর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করার পরও প্রশাসনের এই নিরব ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ করেছে এলাকাবাসীর মনে।

অবৈধ মাটি ব্যবসায়ী ইলিয়াসের সাথে কথা বললে তিনি বলেন মাটি কাটলে আপনার সমস্যা কি। এই বলে ফোন কেটে দেয়।
অবৈধ মাটি ব্যবসায়ী ফরিদ মিয়া সাথে মোবাইলে যোগাযোগে তিনি বলেন,এ বিষয়ে ফোনে কথা বলা যাবে না। সামনা সামনি কথা বলবো।

বহুরিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আবু সাইদের নিকট প্রকাশ্যে মাটি কাটার বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি সম্বন্ধে আমার জানা নাই।

মির্জাপুর থানার ওসি শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম জাানান, ফসলি জমির মাটি কাটার বিষয়টি ব্যবস্থা নিবে প্রশাসন। মাটি কাটার বিষয়ে প্রশাসন সহযোগীতা চাইলে আমরা সব সময় প্রস্তুত। কেউ যদি অন্যোর জমির মাটি জোড় করে কাটে তাহলে আমরা ব্যবস্থা নেবো।

এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, আমি পাতিলাপাড়া থেকে একাট ট্রাক ধরে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করেছি। এদেরকে কোন ভাবেই থামানো যাচ্ছে না। দেখি দুই এক দিনের মধ্যে ঘটনাস্থলে যাব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here