মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ফতেপুর ইউনিয়নের হাতকুড়া জামে মসজিদ ও মাদ্রাসার পেশ ইমাম মুফতি সাইফুল ইসলামের উপর সন্ত্রাসী হামলার আসামী যুবলীগ নেতা ও হাতকুড়া গ্রামের আব্দুল লতিফ আলীর ছেলে আসাদুল্লাহ আসাদ এবং তার ভাই কদম আলী অবশেষে পুলিশের হাতে গ্রেফতারে হয়েছে। তৌহিদী জনতা এবং আমরা মির্জাপুরবাসী নামে একটি সংগঠনের মুসুল্লিগন গত শনিবার (৪ ফেব্রুয়ারী) আসামীদের ধরতে ২৪ ঘন্টার আলটিমেটাম দিয়েছিলেন। আলটিমেটামের ১০ ঘন্টার মধ্যে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার হরতকীতলা থেকে আসামীদের গ্রেফতার করা হয় বলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের উপ পরিদর্শক এ টি এম জহিরুল ইসলম জহির নিশ্চিত করেছেন।
আজ সোমবার ( ৬ ফেব্রুয়ারী) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এ টি এম জহিরুল ইসলাম জানান, হাতকুড়া গ্রামের সামাজিক মসজিদ ও মাদ্রাসার বিরোধকে কেন্দ্র করে গত ১৮ জানুয়ারি যুবলীগ নেতা আসাদুল্লাহ আসাদ ও তার ভাই কদম আলীসহ কতিপয় সন্ত্রাসী মসজিদ ও মাদ্রাসার ইমাম মুফতি সাইফুল ইসলামের উপর সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করে এবং তার মুখের দাড়ি কেটে নেয়। এ বিষয়ে মসজিদের ইমাম মুফতি সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে গত ২০ জানুয়ারী আসাদ ও তার ভাই কদম আলীসহ ৪-৫ জনকে আসামী করে মির্জাপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর আসামীরা আত্নগোপনে চলে যায়।
এদিকে গত শনিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) তৌহিদী জনতা এবং আমরা মির্জাপুরবাসী নামে একটি সংগঠনের মুসুল্লিগন কুরনী জালাল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গনে আসামীদের গ্রেফতারে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে। প্রতিবাদ সমাবেশে আসামীদের গ্রেফতারের জন্য ২৪ ঘন্টার আলটিমেটাম দেন। এই সময়ের মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যগন আসামীদের গ্রেফতার না করলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধসহ বৃহত্তর কর্মসুচী ঘোষনা দেন। উক্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, মুফতি আব্দুর রহমান, মুফতি এরশাদুল ইসলাম, নুর মোহাম্মদ, হাফেজ মাওলানা আব্দুর মামুন, জাকির হোসেন, মোহাম্মদ আলী, আব্দুর রহীম ও হাবিুল্লাহ প্রমুখ।
অপর দিকে সমাবেশের পর টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, সহকারী পুলিশ সুপার (মির্জাপুর-নাগরপুর) সার্কেল এ এস এম আবু মনসুর মুসা এবং মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিমের নির্দেশনায় তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে পলাতক আসামী আসাদ ও তার ভাই কদম আলীকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম এবং সেকেন্ড অফিসার মো. মোশারফ হোসেন বলেন, আসামীদের গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান রয়েছে।


