মির্জাপুরে ট্রাক চালক খুনের ঘটনায় পুলিশের সাড়াশি অভিযানে ডাকাত খুনি গ্রেফতার

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ট্রাক চালক নাজমুল ওরফে আজিমুল (৩৫) খুনের ঘটনায় পুলিশ সাড়াশি অভিযান চালিয়ে ডাকাতি ও খুনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ডাকাত দলের সদস্য পাঁচ খুনিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত ডাকাতরা পেশাদার খুনি ও আন্তজেলা ডাকাত দলের সক্রীয় সদস্য। গতকাল শনিবার রাতে মির্জাপুর উপজেলার বাইমহাটি, ত্রিমোহন, দেওহাটা, কুমারজানি ও পুষ্টকামুরী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে পেশাদার খুনি ও ডাকাত দলের সক্রীয় সদস্য নাদিম ও সাদ্দামকে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তির জন্য টাঙ্গাইল জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট কোর্টে পাঠানো হয়েছে। খুনি নাদিমের বাড়ি মির্জাপুর পৌরসভার বাইমহাটি এবং সাদ্দামের বাড়ি লতিফপুর ইউনিয়নের ত্রিমোহন বান্দরমারা গ্রামে। মির্জাপুর থানার পুলিশ অফিসার ও উপপরিদর্শক মো. আবুল বাশার মোল্লা এবং সেকেন্ড অফিসার মো. আব্দুল করিম মিয়া আজ রবিবার তাদের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গত শুক্রবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার পৌরসভার বাওয়ার কুমারজানী মা সিএনজি স্টেশনের পূর্বপাশে ডাকাতির সময় ট্রাক চালক নাজমুল ওরফে আজিমুলকে নির্মভ ভাবে খুন করে ডাকাত দলের সদস্যরা। এ ঘটনায় মির্জাপুর থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে।

আজ রবিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) মির্জাপুর থানা পুলিশ সুত্র জানায়, ডাকাতের হাতে খুনের শিকার ট্রাক চালক নাজমুল ওরফে আজিমুলের বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলায় ফুলবাড়ি উপজেলার গোহাইনঘাট গ্রামে। তার পিতার নাম খলিলুর রহমান। গত শুক্রবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ থেকে ভুট্টা বোঝাই ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-১১ ৯৩৪৮) নিয়ে বগুড়া যাচ্ছিল। রাত সোয়া ১টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বাওয়ারকুমারজানি নামক স্থানে পৌঁছালে ডাকাতির উদ্দেশ্যে কৌশলে একটি বস্তা ও মোবাইল ফোন ডাকাতরা রাস্তায় ফেলে রাখে। ট্রাকের হেলপার আবু তালেব রাস্তায় নেমে আসলে ডাকাতরা তার ওপর হামলা করে ও পিটিয়ে রক্তাক্ত করে মোবাইল ফোন, টাকা ও মালামাল লুটে নেয়। পরে ডাকাতরা ট্রাকে উঠে চালকের টাকা মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এসময় হেলপার দূরে দাঁড়িয়ে চিৎকার করতে থাকেন। তখন ডাকাত দলের সদস্যরা দেশীয় ধারালো অস্্র দিয়ে ট্রাক চালককে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মালামাল নিয়ে চলে যায়। টহল পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে কুমুদিনী হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত দুইটার দিকে তিনি মারা যান।
এদিকে এ ঘটনায় মির্জাপুর থানায় একটি হত্যা মামলা হয়। মামলার পর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার এএসএম আবু মনসুর মুসা (মির্জাপুর-নাগরপুর সার্কেল), মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. রেজাউল করিম, ওসি তদন্ত মো. গিয়াস উদ্দিন, সেকেন্ড অফিসার মো. আব্দুল করিম, পুলিশ অফিসার ও উপপরিদর্শক মো. আবুল বাশার মোল্লা এবং অটলসহ পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন ইউনিটে ভাগ হয়ে ডাকাত ও খুনিদের ধরতে সাড়াশি অভিযানে নামেন। তিন ঘন্টার যৌথ সাড়াশি অভিযানে মহাসড়কে ডাকাতি ও খুনের সঙ্গে জড়িত নাদিম, সাদ্দাম, ইয়াসিন, ফজলু ও লাবুকে গ্রেফতার করে। এদের মধ্যে নাদিম ও সাদ্দামকে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মুলক জবান বন্ধির জন্য ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল করিম বলেন, মহাসড়কে ডাকাতি এবং ট্রাক চালককে খুনের ঘটনায় অজ্ঞাতদের আসামী করে থানায় মামলা হয়। টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার এবং সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার এএসএম আবু মনসুর মুসা (মির্জাপুর-নাগরপুর সার্কেল) এর দিক নির্দেশনা ও পরামর্শে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে সাড়াশি অভিযান চালিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে খুনের মুল পরিকল্পনাকারী ও ডাকাত দরের সদস্যদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here