মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
একদল সন্ত্রাসী মাদ্রাসার ভিতরে ঢুকে মাদ্রাসা সুপারের উপর সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে সুপারকে গুরুতর আহত করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলার শিকার মাদ্রাসার সুপার মো. আজমল হোসেন খান (৪৭) আশংকা জনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সন্ত্রাসীদের হুমকিতে নিরাপত্তা চেয়ে তিনি থানায় অভিযোগ করেছেন। ঘটনার পর সাদ্রসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার আনাইতারা ইউনিয়নের বাংগুরি দাখিল মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটেছে।
আজ বুধবার (৯ অক্টোবর) সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মাদ্রাসা মো. আজমল হোসেন খান অভিযোগ করেন, তিনি দীর্ঘ দিন মান্দ্রাসায় সুনামের সঙ্গে সুপারের দায়িত্ব পালন করে আসছে। নিজেদের মধ্যে এলাকায় আধিপত্তবিস্তার ও বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি চক্র দীর্ঘ দিন ধরে মাদ্রাসায় অশান্তি সৃষ্টি করে আসছে। গত ৫ আগস্টের পর থেকে তাদের মধ্যে বিরোধ আরও চরম আকার ধারন করে। এরই জের ধরে গতাল মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) মাদ্রাসায় ক্লাস কলাকালিন সময় বাংগুরি গ্রামের মমির, কাফি, রফিক, মামুন, শহিনুর, লাল মিয়া, তানবীর ও রাজুর নেতৃত্বে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী দেশীয় অস্্র ও লাঠিসোঠা নিয়ে তার কক্ষে প্রবেশ করে হামলা করে এবং তাকে টেনে ছিচরে রুম থেকে বের করার চেষ্টা করেন। এ সময় মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করে। সন্ত্রাসীরা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপরও হামলার চেষ্টা চালায় বরে অভিযোগ করেন। পরে কোন রকমে পালিয়ে প্রাণে রক্ষা পেয়ে জামুর্কি সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্ের ভর্তি হয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তির পরও ঐ সন্ত্রাসীরা তাকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। ফলে নিরাপত্তা চেয়ে তিনি মির্জাপুর থানায় সন্ত্রাসীদের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তিনি উপজেরা নির্বাহী অফিসার ও মাদ্রাসার সভাপতি শেখ নুরুল আলমকে অবহিত করেছেন বলে জানিয়েছেন। নিজের নিরাপত্তা ও মাদ্রাসার শিক্ষার পরিবেশ ঠিক রাখার জন্য অভিযুক্তদের দ্রুত সময়ের মেধ্য গ্রেফতারের জোর দাবী জানিয়েছেন তিনি।
এ ব্যাপারে অভিযুক্তদের মধ্যে কাফীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মাদ্রাসায় বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। এ নিয়ে সুপার ও এলাকার কিছু লোকের সঙ্গে বিরোধ রয়েছে। কিছু লোকজন মাদ্রাসায় গিয়েছিল তার মধ্যে আমিও ছিলাম। এ নিয়ে ইউএনওর কাছে অভিযোগ হয়েছে। সুপারকে মারপিট করা হয়নি বলে তিনি দাবীকরেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ নুরুল আলম বলেন, মাদ্রাসার সুপারকে হামলা ও অন্যান্য অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার আফিসার ইনচার্জ মো. মোশারফ হোসেন বলেন, লিখিতআভিযোগ পাওয়া গেছে। মাদ্রাসায় যাতে পড়াশোনার কোন অশান্তি সৃষ্টি না হয় তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


