মির্জাপুরে শিশু হত্যা মামলার আসামী বখাটে সাজিদকে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে হাফিজা নামের শিশুকে অপহরণ ও ধর্ষণের পর নির্মম ভাবে হত্যা মামলায় অভিযুক্ত বখাটে সাজিদকে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছেন পুলিশ। মুক্তিপনের ৬০ হাজার টাকা না পেয়ে ধর্ষণের পর শিশুটিকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ রবিবার টাঙ্গাইল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ রিমান্ডের আবদেন করেন পুলিশ। দুই এক দিনের মধ্যে আবেদন মঞ্জুর হবে বলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নুর নবী জানিয়েছেন। শিশু কন্যা হত্যা মামলার আসামী বখাটে সাজিদের পিতার নাম জালাল মিয়া গ্রামের বাড়ি বাইমাইল গ্রামে। অপর দিকে শিশুটির পিতার নাম মো. সোহেল মিয়া। গ্রামের বাড়ি মির্জাপুর উপজেলার ৭ নম্বর ওয়ার্শি ইউনিয়নের বরটিয়া গ্রামে। শিশু নাফিজা দেওহাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিল।
আজ রবিবার পুলিশ ও স্থানীয় সুত্র জানায়, হাফিজার পিতা সোহেল মিয়া কদিম দেওহাটা গ্রামের মোয়াজ্জেম ওরফে মাজাহারুল ইসলামের বাড়িতে ভাড়া থেকে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। পেশায় তিনি পোষাক শ্রমিক। গত ৭ ফেব্রুয়ারি শিশুটি নিখোঁজ হয়। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি। এর মধ্যে তার মোবাইলে অচেনা মোবাইল থেকে ফোন আসে মেয়েকে পেতে হলে ৬০ হাজার টাকা মুক্তিপন দিতে হবে। বুকের ধন মেয়েকে পাওয়ার জন্য চার হাজার টাকা বিকাশেও পাঠানো হয়। বাকী টাকা পরে দেওয়া হবে বরে তিনি মেয়েকে ফিরত দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। ঘটনার পরের দিন ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বাওয়ারকুমারজানি এলাাকায় মা সিএনজি স্টেশনের কাছে টাকা নিয়ে গেলে বখাটে ও অভিযুক্ত সাজিদ জনতার হাতে আটক হয়। পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। গত ১০ ফেব্রুয়ারি তার পিতা সোহেল মিয়া বখাটে সাজিদ ও তার সহযোগিদের নামে মির্জাপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। অভিযোগের পর সাজিদের দেওয়া তথ্যে গত শুক্রবার কদিম দেওহাটা গ্রামের ওমর মিয়ার বাড়িতে পরিত্যক্ত একটি ঘর থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়। শিশুটির পিতা সোহেল মিয়াসহ এলাকাবাসির অভিযোগ, বখাটে সাজিদ ও তার সহযোগিরা অপরনের পর মুক্তিপুনের টাকা নিয়েছে। তারপর ফুটফুটে শিশুকে ধর্ষণের পর নির্মম ভাবে হত্যা করে লাশ গুম করে রাখে। আমারা শিশু হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবী জানাই।
এ ব্যাপারে ১০ নম্বর গোড়াই ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. কামরুজ্জামান বলেন, একটি শিশুকে নাটকীয় ভাবে অপহরণ, মুক্তিপন দাবী ও পরে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে এটা পৈশাষিক এবং অমানবিক ঘটনা। শিশু হত্যাকারীদের দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবী করেন তিনি।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দেওহাটা পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক মো, নুর নবী বলেন, শিশুটি নিখোঁজ ও তার পরিবার থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর তাকে উদ্ধারের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। তার পিতা গত ১০ ফেব্রুয়ারি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর ঘাতক সাজিদকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যে গত শুক্রবার শিশুটির হাত-পা বাঁধা অবস্থায় লাশ উদ্ধার করা হয়। আইনী প্রক্রিয়া শেষে শিশুটির লাম তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘাতক সাজিদকে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে আবেদন করা হয়েছে। দু, এক দিনের মধ্যে রিমান্ড শুনানী হবে। রিমান্ডে আনার পর প্রকৃত রহস্য উৎঢ়াটন করা সম্ভব হবে। শিশুর পরিবারকে সার্বিক সহযোগিতাসহ অভিযুক্ত অপর আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

  • সাপ্তাহিক বারবেলা ডেস্ক

    Related Posts

    ৭ মে ছিল মির্জাপুর গণহত্যা দিবস , কুমুদিনী পরিবার ও হাসপাতালে নানা আয়োজন

    টাঙ্গাইলের মির্জাপুর ও দেলদুয়ার এলাকা দুই গৃহবধুর মরদেহ উদ্ধার

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *