মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৩ তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও টাঙ্গাইল-৭ মির্জাপুর আসনের কোন সংসদ সদস্য মন্ত্রী হতে পারেননি। ৫৩ বছরেও মন্ত্রী না পাওয়ায় সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাবে অবহেলিত ও উন্নয়ন বঞ্চিত মির্জাপুরবাসি। সদ্য ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে বিপুল ভোট পেয়ে জামায়াতের প্রার্থীকে পরাজিত করে তৃতীয় বারের মত এমপি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী। এলাকাবাসি ও দলীয় নেতাকর্মীদের শতভাগ ধারনা ছিল জনপ্রিয় এই নেতাকে এ বছর মন্ত্রীর তালিকায় রাখা হবে। অজ্ঞাত কারনেও এ বছরও তাকে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে এলাকাবাসি ও দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বিভিন্ন লোকজনের সঙ্গে কথা বলে তাদের হতাশার চিত্র পাওয়া গেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এ দেশে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয় ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ। সেই নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৭ মির্জাপুর আসনে প্রথম এমপি হন প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান খান ফারুক। ১৯৭৩ থেকে ২০২৪ সালের ১২ তম সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৭ মির্জাপুর আসনে এমপি ছিলেন প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান খান ফারুক (দুই বার), ব্যারিষ্টার শওকত আলী খান, শাহ মোস্তানজিদুল হক খিজির, হুমায়ুন খান পন্নী, এডভোকেট খন্দকার বদর উদ্দিন, আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী (দুই বার), বীর মুক্তিযোদ্ধা একাব্বর হোসেন (চার বার) এবং খান আহমেদ শুভ (দুই বার)। সর্বশেষ ২০২৬ সালের গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী তৃতীয় বারের মত এমপি নির্বাচিত হয়েছেন।
এদিকে বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৩ তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হলেও টাঙ্গাইলের ৮ টি আসনের মধ্যে গুরুত্বপুর্ন টাঙ্গাইল-০৭ মির্জাপুর আসন থেকে গত ৫৩ বছরেও কোন এমপি জাতীয় সংসদের মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হতে পারেননি। ফলে উন্নয়ন বঞ্চিত মির্জাপুরবাসি। অথচ বিগত ৫৩ বছরে টাঙ্গাইল-০১ মধুপুর-ধনবাড়ি আসন থেকে মন্ত্রী হয়েছিলেন ড. আব্দুর রাজ্জাক ভোলা, টাঙ্গাইল-০২ ভুয়াপুর-গোপালপুর আসন থেকে আব্দুস সালাম পিন্টু, টাঙ্গাইল-০৩ ঘাটাইল আসন থেকে মো. লুৎফর রহমান খান আজাদ, টাঙ্গাইল-৪ কালিহাতি আসন থেকে প্রয়াত শাজাহান সিরাজ, আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, টাঙ্গাইল-০৫ আসন থেকে প্রয়াত আব্দুল মান্নান খান ও প্রয়াত মাহমুদুল হাসান এবং টাঙ্গাইল-০৬ নাগরপুর-দেলদয়ার আসন থেকে প্রয়াত গৌতম চক্রবর্তী। কোন সরকারের সময়ই রাজধানী ঢাকার সন্নিকটে গুরুত্বপুর্ন টাঙ্গাইল-০৭ মির্জাপুর নির্বাচনি আসন গত ৫৩ বছরেও কোন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী করা হয়নি।
এ বিষয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নাইম উদ্দিন, সাবেক চেয়ারম্যান আলী এজাজ খান চৌধুরী রুবেল এবং কলেজ শিক্ষক মো. মফিজুর রহমান স্বপন বলেন, ৫৩ বছরে মির্জাপুর আসন থেকে কোন এমপি নির্বাচিত হয়েও নানা কারনে মন্ত্রী হতে পারেনি। সব সরকারের সময় মন্ত্রীর আসন থেকে মির্জাপুরকে বঞ্চিত করা হয়েছে। সংসদে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী না থাকার ফলে মির্জাপুর পৌরসভা এবং ১৪ ইউনিয়নের ব্রিজ, কালভাট, রাস্তাঘাট, বংশাই-রৌহজং নদী ভাঙ্গন, মির্জাপুর শহর রক্ষা বাঁধ, স্বাস্থ্য বিভাগ, বিদ্যুৎ, গ্যাস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন বঞ্চিত হয়েছে। তাদের অভিযোগ ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন জেলায় বিএনপি থেকে প্রথম বার এমপি হয়েও তাদের মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে। টাঙ্গাইল-০৭ মির্জাপুরে বিপুল ভোটে তৃতীয় বারের মত এমপি হয়েছেন আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী। তাকে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী না করার ফলে এখাবাসি ক্ষব্দ ও হতাশার মধ্যে পরেছে। তারুন্যের অহংকার প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমানের নিকট আমাদের অনুরোধ এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নের স্বার্থে আমরা আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীকে গুরুত্বপুর্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই।
উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সবাপতি এডভোকেট আব্দুর রউফ ও সাধারণ সম্পাদক খন্দকার সালাউদ্দিন আরিফ বলেন, এলাকার উন্নয়নে মির্জাপুরে আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীর বিকল্প নেই। বিপুল ভোটে তিনি তিন বারের এমপি। তারুন্যের অহংকার বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমানের নিকট আমাদের আবেদন আমরা আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীকে সংসদে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই।







