মির্জাপুরে প্রতিভা মুৎসুদ্দিকে এলিট পেইন্টের পক্ষ থেকে সম্মননা ও সংবর্ধনা

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে নারী আন্দোলনের অন্যতম অগ্রদুত আলোর দিশারী প্রবীণ ব্যক্তি ভাষা সৈনিক এবং একুশে পদক প্রাপ্ত প্রিন্সিপাল মিস প্রতিভা মুৎসুদ্দিকে সম্মননা ও সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানের রং এর রাজা এবং বাংলাদেশের প্রথম অন্যতম প্রধান পেইন্ট প্রস্তুতকারক কোম্পানী এলিট পেইন্ট এর পক্ষ থেকে আজ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) প্রতিভা মুৎসুদ্দিকে এ সম্মাননা ও সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। এ উপলক্ষে চিকিৎসা সেবা ও নারী শিক্ষার অনন্য প্রতিষ্ঠান টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কুমুদিনী কমপ্লেক্্ের এলিট পেইন্ট কতৃপক্ষের পক্ষ থেকে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় এলিট পেইন্ট এর হেড অব ম্যানেজমেন্ট ইকরানুল কবির, জেনারেল ম্যানেজার শায়লা হক, সিনিয়র এলিট পেইন্টা মার্কেটিং ম্যানেজার শামীম আহমেদ, কুমুদিনী নার্সিং কলেজের প্রিন্সিপাল সিস্টার রীনা ক্রুস এবং ভারতেশ^রী হোমসের সাবেক সিনিয়র শিক্ষিকা কবি ও সাহিত্যিক হেনা সুলতানা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, মিস প্রতিভা মুৎসুদ্দি চট্রগ্রাম থেকে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হন। তিনি ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের বেগম রোকেয়া হলের ভিপি ছিলেন। দেশে প্রতিটি নারী আন্দোলন, ৫২ ভাষা আন্দোলন, ৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলন, ৬৯ এর গণঅভ্যথ্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি নারীদের মধ্যে অগ্রদুত হিসেবে কাজ করেছেন। পড়াশোনা শেষ করে তিনি শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন। মির্জাপুরের কৃতি সন্তান সমাজ সেবক ও উপমহাদেশের অন্যতম দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা (রায় বাহাদুর) প্রতিভা মুৎসুদ্দিকে নিজের মেয়ে হিসেবে নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভারতেশ^রী হোমসের প্রিন্সিপাল হিসেবে নিয়োগ দেন। ভারতেশ^রী হোমসের প্রিন্সিপাল হিসেবে তিনি পেযেছেন একাধিক পুরষ্কার। সর্বশেষ একুশে পদকে ভুষিত হন। তিনি বর্তমানে কুমুদিনী কল্যাণ সংস্থার শিক্ষা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সবার নিকট তিনি এখনও বড় মা হিসেবেই পরিচিত।
এদিকে এলিট পেইন্ট এর হেড অব ম্যানেজমেন্ট ইকরানুল কবির বলেন, এ বছর মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে এলিট পেইন্ট কতৃপক্ষ এ দেমের নারীদের মধ্যে গুণী একজন ব্যক্তিত্ব প্রিন্সিপাল মিস প্রতিভা মুৎসুদ্দিকে সম্মননা ও সংবর্ধনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। আজ আমরা মহান ও গুনী এই ব্যক্তিকে সম্মনা ও সংবর্ধনা দিতে পেরে নিজেদের ধন্য মনে করছি।

  • সাপ্তাহিক বারবেলা ডেস্ক

    Related Posts

    মির্জাপুরে বরাটী উচ্চ বিদ্যালয়ে বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ ও কিশোর কিশোরীদের শারীরিক মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনামুলক সভা

    টাঙ্গাইলের মির্জাপুরকে মাদক মুক্ত করতে বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজপথে

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *