মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
ত্রয়োদশ মহান জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচনি আমেজ বিরাজ করছে। নির্বাচনের দিনক্ষণ ঠিক না হলেও সম্ভাব্য প্রার্থীগন রঙ্গিন ব্যানার পোস্টার ও বিল বোর্ড টাঙ্গিয়ে দোয়া ও সমর্থন ছেয়ে রাস্তা ঘাট এবং বাসাবাড়ির আশপাশ ছেয়ে ফেলেছেন। ভোটারদের মন জয় করার জন্য তারা দিন রাত চষে বেড়াচ্ছেন পাড়া মহল্লা। থেমে নেই উঠান বৈঠক, গণসংযোগ। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এলাকার উন্নয়নে দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। নির্বাচন নিয়ে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির দলীয় নেতাদের মধ্যে বেশী উৎসাহউদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। নিজ নিজ দলের পরিচয় নিয়ে মাঠে কাজ করছেন। তবে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাদের উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে তেমন উৎসাহ নেই। মির্জাপুর পৌরসভা এবং উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সঙ্গে আলাপ হলে তারা বিস্তারিত তুলে ধরেন।
২০২৪ সালে জুলাই-আগস্টে ছাত্র আন্দোলনের পর আওয়ামীলগ সরকার বিদায় হয়। অন্তবর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যা-পরিচালক পদ, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান-ভাইস চেয়ারম্যান পদ এবং পৌরসভার মেয়র-কাউন্সিলরদের পর বিলুপ্তি ঘোষণা করেন। এসব পদে ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের। কাজ নিয়ে নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে সাধারণ জনগগন। বিএনপি সরকার গঠন করার পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মীর্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর স্থানীয় সরকার বিশেষ করে জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের কথা ঘোষণা করেন। এরপর থেকেই দলীয় নেতাকর্মীরা নির্বাচনের দিকে ঝুঁকে পরেন।
এদিকে মির্জাপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে বিএনপির নেতাদের মধ্যে আগ্রহের শেষ নেই। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির সম্ভাব্য চেয়ারম্যানদের প্রার্থীদের নাম জানা গেলেও বাইস চেয়ারম্যান পদে কারও নাম এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। সব নেতারই চোখ এখন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ নিয়ে। ইতিমধ্যে দোয়া চেয়ে তারা ব্যানার পোষ্টার ও বিল বোর্ড দিয়েছেন। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে পাঁচ জন প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। প্রার্থীরা হলেন উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এডভোকেট আব্দুর রউফ মিয়া, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার সালাউদ্দিন আরিফ, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক খন্দকার আনোয়ার পারভেজ শাহআলম, মির্জাপুর সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি আজম মৃধা এবং বাংলাদেশ চলচিত্র শিল্পী সমিতির সহভাপতি ও সাবেক ডিবির (ওসি) চিত্রনায়ক ডি এ তায়েব।
অপর দিকে পৌরসভার নির্বাচনে মেয়র পদে বেশ কয়েকজন নবীণ-প্রবীনের নাম শোনা যাচ্ছে। তারাও ক্ষমতাসীন দল বিএনপির নেতা। পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রার্থীরা ব্যানার, পোষ্টার ও বিল বোর্ড দিয়ে ছেয়ে ফেলেছেন। দিন রাত করছেন উঠান বৈঠক, গণসংযোগ ও পথসভা। পৌরসভাকে ঢেলে সাজাতে দিচ্ছেন উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি। সম্ভাব্য মেয়র পদে প্রার্থীরা হলেন মির্জাপুর শহীদ ভবানী প্রসাদ সাহা সরকারি কলেজের সাবেক এজিএস এবং ২০২১ সালে বিএনপির দুঃসময়ে দল যাকে ধানের শীষের মনোনয়ন নিয়ে মেয়র পদে নির্বাচন করার অনুমতি দিয়েছিলেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক দেওয়ান শফিকুল ইসলাম ফরিদ, মির্জাপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও পৌর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মো. আলী আজম সিদ্দিকী, মির্জাপুর শহীদ ভবানী প্রসাদ সাহা সরকারি কলেজের সাবেক জিএস ও পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এস এম মহসীন, পৌর বিএনপির সভাপতি ও মির্জাপুর শহীদ ভবানী প্রসাদ সাহা সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি মো. হযরত আলী মিঞা এবং মির্জাপুর হালিম আধুনিক হাসপাতাল (প্রাইভেট) এর পরিচালক ডা. উজ্জল হোসেন। নির্বাচনে মেয়রদের পাশাপাশি নয়টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থীগনও মাঠে নেমে কাজ করছেন।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক সুরাইয়া ইয়াসমিন এবং উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি) ও পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক তারেক আজিজ বলেন, সরকারি নির্দেশনায় আমরা পদে থেকে এলাকার জনগনকে সেবা দেওয়ার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছি। এখন যেহেতু নির্বাচিত সরকার এসেছেন। পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্বক ভাবে সহযোগিতা করবো।







