মির্জাপুরে যুবদল নেতা ইউসুফকে নৃশংস ভাবে হত্যা এলাকায় মানববন্ধন প্রতিবাদ সমাবেশ

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মাটি ব্যবসার বিরোধকে কেন্দ্র করে আজগানা ইউনিয়নের চার নং ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ খান (৩০) কে নৃশংষ ভাকে খুন করে লাশ ইটভাটার মাটির নিচে চাপা দিয়ে রেখেছিল খুনিরা। নিখোঁজের চার দিন ইটভাটার মাটির নিচ থেকে যুবদল নেতা ইউসুফ খানের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে পুলিশ। তার পিতার নাম মো. দুলাল খান। গ্রামের বািিড় ১১ নং আজগানা ইউনিয়নের ঘাগড়াই কুড়াতলী গ্রামে। ইউসুফ ১১ নং আজাগানা ইউনিয়নের চার নং ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক। যুবদল নেতা ইউসুফ খুনের ঘটনায় পুলিশ রিজন ও হানিফ নামে দুই ঘাতককে গ্রেফতার করেছে।
এদিকে আজ বুধবার দুপুরে ইউসুফের খুনিদের ফাঁসিসহ দৃষ্টান্ত মুলক মাস্তির দাবীতে ইউনিয়ন বিএনপি ও এর সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা গোড়াই-সখীপুর রোডের হাটুভাঙ্গা এলাকায় মানববন্ধন কর্মসুচী পালন করে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। দুপুরে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির শিশু বিষঢয়ক সম্পাদক ও টাঙ্গাইল-০৭ মির্জাপুর আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীসহ বিএনপির নেতাকর্মীরা তার বাড়িতে ছুটে যান। এমপি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী খুনিদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিতসহ তার পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানিয়েছেন। এ সময় উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এড আব্দুর রউফ মিয়া, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার সালাউদ্দিন আরিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক ডি এম শফিকুল ইসরাম ফরিদ ও আজগানা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুল গণি বোখারি এবং সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির হোসেনসহ দলীঢ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আজ বুধবার আজগানা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুল গণি বোখারি, সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির হোসেন, ইউসুফের ভাতিজা নিরব মিয়া ও তার বড় বোন পান্না আক্তার বলেন, মাটির ব্যবসা নিয়ে রিজন ও হানিফসহ তাদের সহযোগিদের মধ্যে বেশ কিছু দিন ধরে ইউসুফের রিবোধ চলছিল। গত ১৪ মার্চ ইউসুফকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে ফোন করে বাড়ি থেকে নিয়ে যায় ঘাতক রিজন, হানিফসহ তাদরে সহযোগিরা। এরপর আর বাড়ি ফিরেনি। তার মোবাইল ফোনটিও বন্ধ ছিল। কোথাও তার কোন সন্ধান না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে মির্জাপুর থানায় অভিযোগ করা হয়। অভিযোগের পর মির্জাপুর থানা পুলিশ রিজন ও হানিফকে আটক করে ইউসুফ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করে। প্রথমে তারা ইউসুফকে খুনের কথা শিকার করেনি। পুলিশের বুদ্ধিমত্তা ও নানা কৌশলে তাদের নিকট থেকে খুনের কথা শিকার করান। পরে তাদের দেওয়া তথ্যে গতকাল মঙ্গলবার রাতে আজগানা ইউনিয়নের আলমাসের ইটভাটার মাটির নিচ থেকে যুবদল নেতা ইউসুফের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং খুনিদের দৃষ্টান্ত মুলক মাস্তির দাবী জানানো হয়েছে।
এদিকে মির্জাপুর থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন আজ বুধবার নিয়মিত মামলা দায়ের হলে খুনি রিজন ও হানিফকে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করে টাঙ্গাইল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে খুনিরা ইউসুফকে খুনের কথা শিকার করে জবানবন্ধি দিয়েছে। ঈদের পরে শুনানী শেষে তাদরে রিমান্ড মঞ্জুর হবে বলে ওসি জানিয়েছেন। পরে তাদের জেল হাজতে পাঠানো হয়।
লাশের ময়না তদন্ত ও দাফন ঃ- গতকার মঙ্গলবার রাতে ইউসুফের লাশ উত্তোলনের পর ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাটানো হয়। আজ বুধবার ময়না তদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাচে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। বাদ জোহর লাশ ঘাগড়াই কুড়াতলী গ্রামে নিয়ে আসা হলে স্বজন ও দলীয় নেতাকর্মীদের কান্নায় চার পামের বাতাস ভারি হয়ে উঠে। এ সময় এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। জানাজা শেষে লাশ পারিবারিক কবরস্তানে দাফন কার হয়। জানাজায় এনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির শিশু বিষয়ক সম্পাদক ও টাঙ্গাইল-০৭ মির্জাপুর আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এড আব্দুর রউফ মিয়া, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার সালাউদ্দিন আরিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক ডি এম শফিকুল ইসরাম ফরিদ, আজগানা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুল গণি বোখারি এবং সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির হোসেনসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • সাপ্তাহিক বারবেলা ডেস্ক

    Related Posts

    ৭ মে ছিল মির্জাপুর গণহত্যা দিবস , কুমুদিনী পরিবার ও হাসপাতালে নানা আয়োজন

    টাঙ্গাইলের মির্জাপুর ও দেলদুয়ার এলাকা দুই গৃহবধুর মরদেহ উদ্ধার

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *