মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
দেড় বছরের প্রেম বিয়ের হুলদ মুছতে না মুছতেই শেষ পর্যন্ত স্বামীর বাড়িতেই লাশ হতে হলো নবুবধু সোমাইয়া আক্তারকে। সোমাইয়ার পরিবারের দাবী বখাটে স্বামী রাতুল ও তার পরিবারের লোকজন মিলে নববধু সোমাইয়াকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করেছে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় স্বামীর বাড়ি থেকে সোমাইয়ার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মেয়ের লাশ দেখে বার বার মুর্চা যাচ্ছে বাবা-মা। থানা চত্তরে তাদের বুকফাটা কান্নায় চার পাশের বাতাস ভারি হয়ে আসছিল। টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার দুই নম্বর জামুর্কি ইউনিয়নের গুনটিয়া গ্রামে চাঞ্চল্যকর এ হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর থেকেই বখাটে রাতুল ও তার পরিবার পলাতক রয়েছে। সোমাইয়ার হত্যা নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য ও নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
আজ রবিবার মির্জাপুর থানা পুলিশ সুত্র জানায় নববধু সোমাইয়ার পিতার নাম শিমুল মিয়া। গ্রামের বাড়ি যশোহর জেলার যশোহর সদর উপজেলার ডাকাতিয়া গ্রামে। আর বখাটে রাতুলের পিতার নাম পলাশ মিয়া। গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার দুই নম্বর জামুর্কি ইউনিয়নের গুণটিয়া গ্রামে। সোমাইয়ার বাবা পলাশ মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, বখাটে রাতুলের দাদা যশোহর সেনানিবাসে চাকুরী করতেন। সেই সুবাদে রাতুলেল দাদার বাসায় নিয়মিত যাতায়াত ছিল। সোমাইয়া যশোহর সদরের স্কুল পড়াশোনা করতেি এবং রাতুলদের বাসার সামনের রাস্তা দিয়ে যাতায়াত ছিল। এই সুযোগে সোমাইয়াকে রাস্তাঘাটে উত্যক্ত এবং নানা ভাবে সোমাইয়াকে ফুসলিয়ে প্রেমের প্রস্তাব দিত। দেড় বছরের মাতায় ভাগিয়ে নিয়ে বিয়ে করে। বিয়ের পর থেকেই শুরু হয় সোমাইয়ার উপর বখাটে রাতুল ও তার পরিবারের লোকজনের নির্যাতন। এ নিয়ে এলাকায় একাধিক বিচার শালিস হয়েছে। গতকাল শনিবার সোমাইয়াকে নিজ বাড়িতেই হত্যা করে তার স্বামী বখাটে রাতুল ও পরিবারের লোকজন। ঘটনা ধামাচাপা দিতে সোমাইয়ার লাশ বাড়িতে ঘরের ভিতর ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রেখে আমাদের খবর দেয় সোমাইয়া আত্নহত্যা করেছে। তাদরে াভিযোগ সোমাইয়া কখনো আত্নহত্যা করতে পারে না।তারা এই ঘটনা মেনে নিতে পারেনি বলে জানায়। ঘটনার পর থেকেই বখাটে রাতুল ও তার পরিবারের লোকজন পালিয়ে যায়। যশোহর থেকে তারা রাতেই ছুটে এসে দেখেন ও আশপাশের লোকজনদের সঙ্গেকথা বলে জানতে পারেন সোমাইয়াকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে। পরে তারা মির্জাপুর থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেছেন। আজ রবিবার লাশ ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। এ ব্যাপারে সোমাইয়ার পিতা পলাশ বাদী হয়ে মির্জাপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। অসহায় পরিবারটি বখাটে রাতুল ও তার পরিবারের সদ্যদের গ্রেফতারসহ কঠোর শাস্তির জন্য জোর দাবী জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে বখাটে রাতুল ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা পলাতক থাকায় তাদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ডি এ মতিন বলেন, নববধুর লাশ উদ্ধারের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে নিয়ে গেছেন। তিনি সুষ্ঠু তদন্তের দাবী জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সোমাইয়ার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। থানায় লিখিত অভিযোগ হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







