মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মাদক ও জুয়াড়ীদের নিরাপদ জোন হচ্ছে পৌরসভার সাহাপাড়া বাবু বাজার। এই এলাকার মুদি দোকান, মিষ্টির দোকান, চা স্টল ও মন্দিরের আশপাশে প্রকাশ্যে বসছে মাদক ও জুয়ার আসর। আইন-শৃঙ্খলা রক্সাকারী বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতা না থাকায় মাদক ও জুয়ার অর্থ যোগান দিতে এই এলাকায় প্রতিনিয়তই হচ্ছে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাই। হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে ইয়াবা, হেরোইন, ফেনসিডিল, গাঁজা, দেশী-বিদেশীা ও চোলাই মদ। মাদক সেবী, মাদক ব্যবসায়ী ও জুয়াড়ীদের হাতে পৌরসভার সাহা এলাকার সাধারণ মানুষ জিম্মি হয়ে পরেছে বলে গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সাহাপাড়া ও বাবু বাজার এলাকার অসহায় সাধারন মানুষের সঙ্গে কথা বলে মাদক ও জুয়াড়ীদের ভয়াবহ চিত্র পাওয়া গেছে। পৌরসভার সাত, আট ও নয় নম্বর ওয়ার্ড ঘনবসতি এলাকা নিয়ে সাহাপাড়া বাবু বাজার গঠিত। এই তিন ওয়ার্ডে মুলত সনাতন ধর্মের লোকজনদের বসবাস বেশী। উপজেলার পৌরসভা হতে কুমুদিনী হাসপাতাল সংলগ্ন লৌহজং নদী এই তিন ওয়ার্ড ভাগ করে দিয়েছে। এই নদীর উপর পাকা ব্রিজ না হওয়ায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তেমন তৎপরতা নেই ঐ এলাকায়। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট চক্র মাদক ও জুয়ার ব্যবসায় জড়িয়ে পরেছে দীর্ঘ দিন ধরে। প্রতি দিন লাখ লাখ টাকার জুয়া ও মাদক ক্রয় বিক্রয় হচ্ছে সাহাপাড়া বাবু বাজারে। মাদকের মধ্যে ফেনসিডিলি, গাঁজা, হেরোইন, দেশী বিদেশী ও চোলাই মদ বিক্রি হচ্ছে ফেরি করে। চলছে মোবাইলে ভার্চুয়ালি জুয়া। পৌরসভার সাহাপাড়া, মুসলিমপাড়া, পাহাড়পুর, বাবু বাজার, কুতুব বাজার, আন্ধরা, ঘোষপাড়া, সরিষাদাইর ও কান্ঠালিয়াসহ বিভিন্ন দোকান, বাসাবাড়ি ও অলি-গলিতে মাদকে সয়লাব হয়ে পরেছে। মুদি দোকান, মিষ্টির দোকান, চা স্টল ও মন্দিরের আশপাশে প্রকাশ্যে বসছে মাদক ও জুয়ার আসর। ফলে এলাকায় আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতি হচ্ছে দীর্ঘ দিন ধরে ভুক্তভোগি এলাকাবাসি বলে অভিযোগ করেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, যমুনা সেতু ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক হয়ে বাস ও ট্রেনে উত্তরাঞ্চল থেকে মাদকের চালান আসছে মির্জাপুর পৌরসভার সাহাবাপাড় বাবু বাজার, কুতুব বাজারে। মাদক কারবারীরা বিভিন্ন ভাগে মাদকের চালান তিন ওয়ার্ডের পাড়া-মহল্লায় বিভিন্ন কৌশলে বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। দীর্ঘ দিন ধরে চলছে এ মাদক ব্যবসা ও জুয়াড় আসর।
সাহাপাড়া, সরিষাদাইর, মুসলিমপাড়া ও কুতুব বাজার এলাকায় মাদক কারবারী ও জুয়াড়ীদের হাতে হয়রানীর শিকার খন্দকার সালাউদ্দিন ডন, ব্যবসায়ী সমির বণিক এবং চিত্র শিল্পী হুমায়ুন কবীরসহ অন্তত ২০-২৫ জন ভুক্তভোগি নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, এই এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের তেমন তৎপরতা নেই বলে নানা অপরাধ হচ্ছে। সাহাপাড়া বাবু বাজারের পাশাপাশি পৌর বাওয়ার কুমারজানি, পুষ্টকামুরী, বাইমহাটি, প্রফেসরপাড়া, পালপাড়া, মির্জাপুর বাজার, গাড়াইলসহ নয়টি ওয়ার্ডে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী মাদক কারবারী ও জুয়াড়ী। এসব এলাকার অধিকাংশ চা স্টলে পর্দার অন্তরালে লাখ লাখ টাকার জুয়া খেলা হচ্ছে। মাদক ও জুয়ার টাকা সংগ্রহ করতেই কিশোর গ্যাং গ্রুপের সদস্যরা চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মাদক কারবারী ও জুয়াড়িদের কারনে তারা রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করতে পারেন না। মাদক সেবীরা মাদক সেবন করে রাস্তা ঘাটে মাতলামি করে পথচারীদের অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজও করছে। এ বিষয়ে মির্জাপুর থানায় একাধিক মামলাও রয়েছে। এলাকাবাসি মাদক নির্মুলে ও জুয়ার আসর বন্ধে কঠের হাতে দমন করার জন্য প্রশাসনের নিকট জোর দাবী জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি) ও পৌরসভার প্রশাসক তারেক আজিজ বলেন, পৌসভাকে মাদক মুক্ত রাখতে পুলিশের পাশাপাশি তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। মাদক কারবারি ও জুয়াড়িদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলেই ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে অর্থদন্ড এবং কারাদন্ড দিয়ে জেল হাজতে পাঠানো হচ্ছে। পৌরসভার প্রতিটি লাকায় এ অভিযান চলমান থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো, আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে মাদক ও জুয়া নির্মুলসহ এলাকার সার্বিক উন্নয়নে পুলিশের পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, পৌরসভার প্রশাসক, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সচেতন মহল ও অভিভাবকদের সমন্ময়ে নানা উদ্যোগ গ্রহন করেছেন।
এ ব্যাপারে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির শিশু বিষয়ক সম্পাদক ও টাঙ্গাইল-০৭ মির্জাপুর আসনের এমপি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী বলেন, তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই মির্জাপুর পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডসহ মির্জাপুর থেকে মাদক ও জুয়া নির্মুলের পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়নে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ দলীয় নেতাকর্মী এবং এলাকাবাসিদের সঙ্গে নিয়ে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বলে তিনি উরেøখ করেন।






