মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের সংযোগ (আঞ্চলিক) সড়ক মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই-সখীপুর-ঢাকা রোডে অবৈধ ভাবে বাঁশের ট্রাক চলায় ঘটছে দুর্ঘটনা, ক্ষতিগ্রস্থ্য হচ্ছে সড়ক। ভুক্তভোগিদের আভিযোগ গোড়ই-সখীপুর আঞ্চলিক রোডে শুধু অবৈধ বাঁশের ট্রাকেই সিএনজির যাত্রী, মোটর সাইকেল চালক, অটোর যাত্রীসহ গত চার বছরে অন্তত ২৫ জন নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছে। পুলিশসহ একটি মহল অবৈধ এসব বাঁশের ট্রাক থেকে নিয়মিত বিপুল অংকের টাকা চাঁদা নিয়ে ভারি ট্রাক চলাচলের সুযোগ করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গোড়াই-সখীপুর-ঢাকা রোডে ঘুরে দেখা গেছে ৬ চাকার অবৈধ ট্রাকে ৫০ টনের অধিক অবৈধ বাঁশের ট্রাক চলাচল করেছে। আর নামে বেনামে চলছে চাঁদাবাজি। আজ গোড়াই-সখীপুর আঞ্চলিক রোডে কোঁজ খবর নিয়ে দেখা গেছে, অবৈধ ভাবে এসব বাঁমের ্রটাক চলাচল করছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, টাঙ্গাইলের উত্তর পুর্বাঞ্চলের গোড়াই-সখীপুর-ঢাকা রোড চলাচলের জন্য গুরুত্বপুর্ন। ঢাকা, গাজীপুর ও মানিকগঞ্জ জেলার সঙ্গে সহজে যোগাযোগের জন্য মির্জাপুর উপজেলার উত্তরাঞ্চল, সখীপুর, বাসাইল, কালিহাতী, ঘাটাইল উপজেলা এবং পাশ^বর্তী শেরপুর এবং জামালপুর জেলার শতশত যানবাহন প্রতিনিয়ত যাতায়াত করে আসছে। বিশেষ করে মেটার সাইকেল, সিএনজি, ছোট বড় পিকআপ ভ্যান এবং যুত্রীবাহি বাস চলাচল করছে। প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩৭ কি. মি. গোড়াই-সখীপুর-ঢাকা রোড প্রশস্তকরন ও পাকা করা হয়েছে। নিয়ম রয়েছে সড়কে পন্য পরিবহন ৬ চাকার ট্রাকে লম্বা বাঁশ বহন করা সম্পুর্ন নিষিদ্ধ। সরকারি নিয়ম অমান্য করে একটি অসাধু চক্র অধিক মুনাফা লাভের জন্য গোড়াই-সখীপুর-ঢাকা রোডে ২৫-৩০ টি অবৈধ ৬ চাকার ট্রাকে ৫০ টনের অধিক বাঁশ নিয়ে ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, গাজীপুরসহ বিভিন্ন স্থানে চলাচল করছে। ভারি ট্রাক চলাচলের ফলে পুরো রাস্তা ভেঙ্গে ক্ষতিগ্রস্থ্য হচ্ছে। বাঁশতৈল মো. খলিলূর রহমান কলেজের ্রপভাষক মো. হাফিজুর রহমান, করেজ শিক্ষার্থী মাহফুজা ও নিলয়, স্কুল ছাত্র সাবিনা এবং সাইদুল, বাঁশতৈল এলাকার বাসিন্দা মো. নাজমুল ইসলাম (৪৫) এবং লাল মিয়া (৫৬) সহ অনেকেই অভিযোগ করেন, বাঁশতৈল, তক্তারচালা, পাথরঘাটা, হাটুভাঙ্গা, দেওদিঘী, কচুয়া, সখীপুর, কালিয়া, বহেরাতৈল, গারোবাজার, মোটেরবাজার, জলছত্রসহ ২০-২৫ টি বৃহৎ বাঁশের হাট রয়েছে। এসব বাঁশের হাটে লাখ লাখ টাকার বাঁশ বিক্রি হয়ে আসছে। গোড়াই-সখীপুর-ঢাকা রোডে ৬ চাকার ট্রাকে ৫ টনের পরিবর্তে ৫০-৬০ টনের বাঁশ বহন করা নিষিদ্ধ হলেও পুলিশ বাহিনীর কিছু সদস্য এবং স্থানীয় কিছু নের্তৃবৃন্দ যোগ সাজস করে ট্রাক প্রতি ১০-১২ হাজার টাকা চাঁদা নিয়ে অবৈধ এসব বাঁশের ট্রাক চলাচলের সুযোগ করে দিচ্ছে। এই রোডে বাঁশের ট্রাকে প্রতি দিন আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা চাঁদা বাজি করছে করছে। সখীপুর, মির্জাপুর থানা, বাঁশতৈল পুলিশ ফাড়ি, গোড়াই, কালিয়াকৈর, চান্দরা, কোনাবাড়ি, বাইপাইল, সাভার, মাওনা, শালনা ও গাজীপুর এলাকার থানা ও হাইওয়ে পুলিশ এই চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত বলে ইতিপুর্বে ভুক্তভোগি এলাকাবাসির পক্ষ থেকে পুলিশের আইজি বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। এছাড়া গাড়াই-সখীপুর-ঢাকা রোডে ৬ চাকার অবৈধ বাঁশের ট্রাক চলাচল বন্ধের জন্য বাঁশতৈল গ্রামের মো. নাজির উদ্দিন হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজির মাধ্যমে পুলিশের মহাপরিদশর্ক এবং এই রোডে ২৫ টি অবৈধ ট্রাকের নম্বরসহ চলাচলের অনুমতি চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়, স্বরাষ্ট্র সচিব ও হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজির সুপারিশসহ আবেদন করেছিলেন। অভিযোগ দেওয়ার পর কিছু দিন চাঁদা উত্তোলন বন্ধ ছিল। এখন আবার অবৈধ এসব বাঁশের ট্রাক চলাচল করছে এবং নিয়মিত চাঁদা উত্তোলন হচ্ছে। লড়ি ট্রাক দিয়ে সড়ক মহাসড়কে বাঁশ বহন করার নিয়ম থাকলেও গোড়াই-সখীপুর-ঢাকা রোডে ঝুঁকিপুর্ন এই ৬ চাকার বাঁশের ট্রাক প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে সাধারন লোকজন। গত চার বছরে গোড়াই-সখীপুর-ঢাকা রোডে বাঁশের ট্রাকে দুর্ঘটনায় ২৫ জন নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছে বলে ভুক্তভোগিরা অভিযোগ করেন। গোড়াই-সভীপুর আঞ্চরিখ রোডে নিয়মিত ছাত্রী এবং শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তার জন্য অবৈধ বাঁশের ্রটাক বন্ধের জন্য জোর দাবী জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে গোড়াই-সখীপুর আঞ্চলিক রোডের বাঁশতৈল পুলিশ ফাঁড়ির কর্মকর্তা মোকলেছুর রহমান ও গোড়াই হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন বলেন, আঞ্চলিক সড়ক ও মহাসড়কে লড়ি ট্রাক ছাড়া ৬ চাকা বিশিষ্ট ট্রাকে অবৈধ ভাবে বাঁশ বহনের কোন সরকারি অনুমোদন নেই। যারা অবৈধ ভাবে ৬ চাকার ট্রাকে বাঁশ বহন করছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা ও জরিমানাসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পুলিশ নিয়মিত টহল দিয়ে যাচ্ছে।







