মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
ঢাকার উত্তরায় দিয়াবড়িতে মাইলস্টোন কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ৮ম শ্রেণীর ছাত্র তানবীর আহমেদ (১৪) এবং তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী মেহেনাজ আক্তার হুমাইরার (৮) মেষ বিদায়ে হাজরো মানুষের ঢল নামে। দুটি জানাজায় হাজারো মানুষের কান্নায় চার পাশের বাতাস ভারি হয়ে আসছিল। আজ মঙ্গলবার সকাল নয়টায় মেহেনাজ আক্তার হুমাইরার লাশ টাঙ্গাইলের সখীপুরের হতেয়া কেরানীপাড়ায় এবং তানবীর আহমেদের লাশ সকার দশটায় টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের নয়াপাড়া নগরভাতগ্রামের নয়াপাড়ায় নামাজে জানাজা শেষে দাফন করা হয়েছে।
তানবীর আহমেদের পিতার নাম রুবেল মিয়া এবং মাতার নাম লিপি বেগম। পুত্র শোকে বার বার মুর্ছা যাচ্ছেন বাবা-মা। তানবীর আহমেদের বাড়ি গিয়ে দেখা গেছে, পুরো বাড়ি জুড়ে বইছে শোকের মাতম। গতকাল সোমবার রাতে তানবীরের লাশ আ্যম্বুলেন্সে বাড়ি নিয়ে আসার পথে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কোনবাড়ির মৌচাক এলাকায় দুর্ঘটনা কবলিত হয়। অল্পে জন্য রক্ষা পেয়েছে তার বাবা মাসহ পরিবারের সদস্যগন। তানবীরের মরদেহ গ্রামে এসে পৌছালে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। সকাল দশটায় নামাজে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়েছে। জানাজায় এলাকার হাজারো মানুষের ঢল নামে। জানাজায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ বি এম আরিফুর ইসলাম, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির শিশু বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক এমপি আবুর কালাম আজাদ সিদ্দিকীর পক্ষে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ডি এম শফিকুল ইসলাম ফরিদ, উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির মাওলানা অধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ তালকদারসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
নিহত তানবীরের বাবা রুবেল মিয়া কান্নায় ভেঙ্গে পরে জানায়, সন্তানকে ভাল লেখাপড়া ও সু-শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার জন্য মাইলস্টোন কলেজে ভর্তি করেছিলেন। তার সব স্বপ্ন আজ ভেঙ্গে গেল। ছেলেকে হারিয়ে পুরো পরিবার তছনছ হয়ে গেল। তার স্বজনদের কান্নায় চারপাশের বাতাস ভারি হয়ে আসছে।
অপর দিকে সকাল নয়টায় সখীপুর উপজেলার হতেয়া কেরানীপাড়া গাবলের বাজার মাঠে শিশু কন্যা তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী মেহেনাজ আক্তার হুমাইরার নামাজে জানাজা সম্পন্ন হয়। জানাজায় এলাকায় হাজারো মানুষের ঢল নামে। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে। তার পিতা দেলোয়ার হোসেন মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক। মেয়ের লাশের কফিনে চুকু দিয়ে মেয়েকে মেষ বিদায় জানায়।







