মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল,
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে নৌকার কারিগর ও মৌসুমী বেপারিগন নৌকা তৈরী করে বিপাকে পরেছেন। চলতি বর্ষা মৌসুমে নদী, খালবিল ও ডোবানালায় পর্যাপ্ত পানি না আসায় হাট বাজারে বিক্রি হচ্ছে নৌকা। ফলে এই পেশার সঙ্গে জড়িত নৌকার কারিগর এবং স্থানীয় মৌসুমী নৌকার বেপারিগন বিপাকে পরেছেন । এই পেশার সঙ্গে জড়িত নৌকার কারিগর ও বেপারিগন নৌকা বিক্রি করতে না পেরে আর্থিক ভাবে লোকসন এবং ঋণে জর্জরিত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আজ শুক্রবার ২৯ আগস্ট উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের বরাটী হাট এবং গোড়াই ইউনিয়নের দেওহাটা নৌকার হার্টে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে সারি সারি নৌকা বাজারে বিক্রির জন্য রেখেছেন। ভাতগ্রাম হাটের ইজারাদার ও নৌকার বেপারি মো. শাজাহান খলিফা এবং নৌকার কারিগর মানিক সুত্রধর বলেন, মির্জাপুর উপজেলার সবচেয়ে বড় নৌকার হাট বরাটী। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম শুরু হলে এই হাটে প্রতি দিন কম করে হলেও ৩০-৪০ নৌকা বিক্রি হয়। এই পেশার সঙ্গে এলাকার শতাদিক কারিগর এবং ৩০-৩৫ জন বেপারি নৌকা তৈরী করে বিক্রি করে থাকেন। ছোট, মাঝারি ও বড় সাইজের একটি কাঠের ও স্টিলে পাথ দিয়ে তৈরী নৌকা তিন থেকে দশ হাজার টাকাি বিক্রি হয়। এ বছর লাভের আশায় তারা প্রতি দিন নৌকা তৈরী করে বিক্রির জন্য হাটে সারি সারি ভাবে সাজিয়ে রেখেছেন। কিন্ত বর্ষা মৌষুম শেষ হতে চললেও নদনদী, খালবিল এবং ডোবানায় পর্যাপ্ত পানি না আসায় হাট বাজারে প্রচুর নৌকা থাকলেও ক্রেতার অভাবে বিক্রি হচ্ছে না। ফলে তাদরে লাখ লাখ টাকার লোকসান এবং ঋণে জর্জরিত হয়ে পরেছেন বলে অভিযোগ করেন।
এদিকে গোড়াই ইউনিয়নের দেওহাটা নৌকার হাটে খোঁজ নিয়ে একই চিত্র দেখা গেছে। হাটের ইজারার ও গোড়াই ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. কামরুজ্জামান বলেন, বর্ষা মৌসুম এলে প্রতি বছর এলাকার নৌকার কারিগরগন ও বেপারিগর লাভের আশায় প্রচুর নৌকা তৈরী এবং বিক্রি করতেন। এ বছর নৌকা তৈরী করলেও পর্যান্ত পানি না আসায় ক্রেতার অভাবে তারা নৌকা বিক্রি করতে পারছেন না। ফলে তারা পরেছেন বিপাকে। উপজেলার মাঝালিয়া, হাট ফতেপুর, পাকুল্যা, পাথরঘাটা, বহুরিয়া, কামারপাড়া, নাগরপাড়া এবং হাটুভাঙ্গা এলাকার হাটে খোঁজ নিয়ে একই চিত্র দেখা গেছে।
এ ব্যাপারে ভাতগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আজাহারুল ইসলাম আজাহার বলেন, বরাটী হাট নৌকার জন্য বিখ্যাত হলেও এ বছর পর্যাপ্ত বর্ষার পানি না আসায় নৌকার কারিগর এবং স্থানীয় বেপারিগন নৌকা বিক্রি করতে না পেরে বিপাকে পরেছেন। বিভিন্ন সরকারি দপ্তর থেকে নৌকার কারিগরদের সহযোগিতার জন্য তিনি অনুরোধ জানিয়েছেন।







