মির্জাপুরে পরকীয়া প্রেমিক ব্যাংক কর্মকর্তাকে পিটিয়ে হত্যা, দুই ঘাতক গ্রেফতার

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
চোর অপবাদ দিয়ে পরকীয়া প্রেমিক আইএফআইসি ব্যাংক কর্মকর্তা হাসমত উল্লাহ ওরফে হাসু (৩২) কে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার পিতার নাম আব্দুল মতিন। বাড়ি জামালপুর জেলার বকসীগঞ্জ উপজেলার সাজিমারা গ্রামে। হত্যার সঙ্গে জড়িত রমজান আলীর ছেলে রাশেদুল ইসলাম ও সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে ইয়ামিন নামে দুই ঘাতককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার এক নম্বর মহেড়া ইউয়িনের গ্রামনাহালি গ্রামে এ হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
আজ শনিবার (২৯ নভেম্বর) মির্জাপু থানা পুলিশ সুত্র জানায়, গ্রামনাহালি গ্রামের রমজান আলীর ছেলে রাশেদুল ইসলাম প্রবাসে থাকাকালিন সময় তার স্ত্রী নিশি আক্তার টাঙ্গাইল সদরের আইএফআইসি ব্যাংকে কর্মরত ব্যাংক কর্মকর্তা হাসমত উল্লাহ ওরফে হাসুর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক করে পরকীয়ায় জড়িয়ে পরেন।দীর্ঘ দিন চলে তাদরে মধ্যে এ প্রেমের সম্পর্ক ও পরকীয়া। নিশির স্বামী প্রবাস থেকে দেশে ফিরে আসার পরও তার স্ত্রী গোপনে প্রেমিক হাসুর সঙ্গে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখেন। এ নিয়ে পরিবারের মধ্যে অসান্তি সৃষ্টি হয়। স্ত্রী নিশি কৌশলে গত বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) রাতে প্রেমিক হাসুকে গ্রামনাহালি গ্রামে তার বাড়িতে নিয়ে আসে। পরিকল্পনা ও সুযোগ নিয়ে নিশির সহযোগিতায় তার স্বামী রাশেদুল ইসলাম, তার চাচাতো ভাই ইয়ামিনসহ তাদের সহযোগিরা জোট বেঁধে চোর অপবাদ দিয়ে প্রেমিক হাসুকে লাঠিসোঠা দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত ও হত্যার চেষ্টা করে। আশপাশের লোকজন ঘটনা জানতে পেরে রাতেই মির্জাপুর থানা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্তলে গিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসুকে উদ্ধার করে প্রথমে জামুর্কি সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্ের ভর্তি করেন। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকগন তাকে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতারে রেফার করেন। ঐ দিন রাত আড়াইটার দিকে কুমুদিনী হাসপাতালে হাসু মারা যান।
এদিকে খবর পেয়ে ব্যাংক কর্মকর্তা হাসুর ভাই মো. রহমত উল্লাহ বাদী হয়ে প্রেমিকা নিশি আক্তার ও তার স্বামীসহ ৬-৭ জনের নাম উল্লেখ করে মির্জাপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ হত্যার সঙ্গে জড়িত রমজান আলীর ছেলে রাশেদুল ইসলাম ও সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে ইয়ামিন নামে দুই ঘাতককে গ্রেফতার করেছে।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রাসেদুল ইসলাম বলেন, পরকীয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাংক কর্মকর্তা হাসু খুন হয়েছে। মামলার পর হত্যার সঙ্গে জড়িত রমজান আলীর ছেলে রাশেদুল ইসলাম ও সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে ইয়ামিন নামে দুই ঘাতককে গ্রেফতার করে ম্যাজিষ্ট্রেট কোর্টে হাজির করা হয়। ঘাতকরা ১৬৪ ধারায় হত্যার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। পরে বিচারক তাদের জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। পলাতক অপর আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। ময়না তদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • সাপ্তাহিক বারবেলা ডেস্ক

    Related Posts

    মির্জাপুরে বরাটী উচ্চ বিদ্যালয়ে বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ ও কিশোর কিশোরীদের শারীরিক মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনামুলক সভা

    টাঙ্গাইলের মির্জাপুরকে মাদক মুক্ত করতে বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজপথে

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *