মির্জাপুরে বিয়ে ও সন্তানের স্বীকৃতির দাবীতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অনশন, আত্নহত্যার হুমকি

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
বিয়ে ও সন্তানের স্বীকৃতির দাবীতে দুখী মন্ডল নামে প্রেমিকের বাড়িতে দুই সন্তানের জননী পায়েল নামে প্রেমিকা অনশন করছেন। গত তিন দিন ধরে সন্তান নিয়ে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকা অনশন করায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রেমিক ও তার পরিবার প্রেমিকা ও সন্তানদের মেনে না নেওয়ায় সন্তান নিয়ে প্রেমিকা আত্নহত্যার হুমকি দিয়েছে। টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বানাইল ইউনিয়নের পানিশাইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় ইউপি মেম্বার মো. মোস্তফা মিয়া ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন চেয়ারম্যানের পরামর্মে তিনি প্রেমিকা পায়েলকে হেফাজতে রেখেছেন।
আজ সোমবার (২ মার্চ) প্রেমিকা পায়েল জানান, তার পিতার নাম আজিজুল হক। গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলার কালিবাড়ি গ্রামে। প্রেমিক দুখী মন্ডলের পিতার নাম রবীন্দ্র মন্ডল। গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বানাইল ইউনিয়নের পানিশাইল গ্রামে। পায়েল জানায়, ২০২৩ সালের ১২ জুন মধুপুর থেকে সাভার তার ভাইয়ের যাওয়ার পথে একটি বাসে দুখী মন্ডলের সাথে পরিচয় হয়। পরিচয়ের সুত্র ধরে তাদের সঙ্গে মোবাইলে প্রেমের সম্পর্ক ও পরে শারীরিক সম্পর্ক হয়। নানা কৌশলে প্রতারক দুখী মন্ডল গত তিন বছরের ব্যবধানে পায়েলের নিকট থেকে নগদ চার লাখ টাকা ও তিন থেকে চার ভরি স্বর্নালংকার হাতিয়ে নেয়। দুখী মন্ডল পরিচয় গোপন রেখে তাকে বিয়ে করে। পায়েলের ইতিপুর্বে বিয়ে হয় এবং সেই ঘরে তিন বছরের এক পুত্র সন্তান রয়েছে। দুখীর প্রতারনার শিকার হয়ে ঐ স্বামীর সঙ্গে তার তালাক হয়। অপর দিকে দুখী মন্ডলের সঙ্গে বিয়ের পর সেই ঘরেও ১১ মাসের এক কন্যা সন্তান রয়েছে। গত তিন চার মাস পুর্বে হঠাৎ করে দুখী মন্ডল কন্যাসহ তাকে ফেলে সটকে পরে। দুই সন্তান নিয়ে দিশেহারা হয়ে পরে পায়েল। মোবাইলের সুত্র ধরে অবশেষে দুখীর ঠিকানা বের করে গত তিন ধরে দুই সন্তান নিয়ে পানিশাইল গ্রামে দুখী মন্ডলের বাড়িতে প্রেমিকা পায়েল সন্তানের স্বীকৃতিসহ বিয়ের দাবীতে অবস্থান করছে। দুখী ও তার পরিবার মেনে না নেওয়ায় সন্তান নিয়ে আত্নহত্যার হুমকি দিয়েছে পায়েল। দুকীর বড় বাই পরিমল ও মঙ্গল মন্ডল তাকে নানা ভাবে চাপ সৃষ্টি করে বাড়ি থেকে বিতারিত ও নানা বাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। নিরুপায় হয়ে দুই সন্তান নিয়ে পায়েল এখন পুলিশের কাছে আশ্রয় চেয়েছে বলে জানিয়েছে।
এ ব্যাপারে পাঁচ নং বানাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মামুন সিদ্দিকী বলেন, ঘটনা জানতে পেরে তিনি ওয়ার্ড মেম্বার মো. মোস্তফা মিয়াকে বিষয়টি দেখার জন্য অনুরোধ করেছেন। পায়েল ও তার সন্তান এখন ইউপি মেম্বারের হেফাজতে রয়েছে। তাকে আইনের আশ্রয় নিতে বরা হয়েছে।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার ডিউটি অফিসার আরিফুল ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তাকে আইনগত ভাবে সহায়তা করা হবে।

  • সাপ্তাহিক বারবেলা ডেস্ক

    Related Posts

    ৭ মে ছিল মির্জাপুর গণহত্যা দিবস , কুমুদিনী পরিবার ও হাসপাতালে নানা আয়োজন

    টাঙ্গাইলের মির্জাপুর ও দেলদুয়ার এলাকা দুই গৃহবধুর মরদেহ উদ্ধার

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *