মির্জাপুরে ৩রা এপ্রিল গোড়ান-সাটিয়াচড়ায় ৫৫ তম প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধ দিবস পালিত

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় ও নানা আয়োজনে আজ শুক্রবার ৩ রা এপ্রিল গোড়ান-সাটিয়চড়ায় ৫৫ তম মুক্তিযুদ্ধের প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধ দিবস পালিত হয়েছে। এই প্রতিরোধ যুদ্ধে ২৯ জন ইপিআর ও ১৫১ জন বাঙ্গালী শহীদ হন। দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন এবং উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ গোড়ান-সাটিয়াচড়া এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা স্মুতি স্তম্বে পুষ্প স্তবক অর্পন আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে। বিকেলে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে পুষ্প স্তবক অর্পন করেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির শিশু বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী এমপি। এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার খান সালমান হাবীব, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এড. আব্দুর রউফ, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা তাজউদ্দিন সিকদার, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আলী এজাজ খান চৌধুরী রুবেল, ডি এম শওকত আকবর, জামুর্কি ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ডি এ মতিন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আলতাব হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফরিদ ও জামুর্কি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ আলম মোক্তার প্রমুখ। পুষ্প স্তবক অর্পন, আলোচনা সভা ও বিশেষ দোয়া পরিচালনা করা হয়।
১৯৭১ সালে মুক্তিপাগল জনতা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে। আপামর জনতা মির্জাপুরে প্রতিরোধ যুদ্ধে ঝাপিয়ে পরেন। স্থান হিসেবে বেছে নেন ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার গোড়ান-সাটিয়াচড়া। ২রা এপ্রিল মুক্তিপাগল জনতা জানতে পারেন, পাকসেনারা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক দিয়ে গাড়িবহর নিয়ে টাঙ্গাইলের উদ্দেশে আসছেন। গোড়ান-সাটিয়াচড়া আসামাত্র চার দিক থেকে সাড়াশি আক্রমন শুরু হয়। এই প্রতিরোধ যুদ্ধে ২৯ জন ইপিআর ও সাটিয়াচড়া, পাকুল্যা, গোড়ান, গুণটিয়া, কাটরাসহ আশপাশের গ্রামের ১৫১ জন নারী পুরুষ শহীদ হন। পাকসেনারা হেলিকপ্টার যোগে আক্রমন করে মুক্তিযুদ্ধা, ইপিআর ও নারী পুরুষকে হত্যা করে এবং জালিয়ে পুড়িয়ে দেয় শত-শত ঘরবাড়ি। শহীদদের মধ্যে সুবেদার আব্দুল আজিজ, হাবিলদার আব্দুল খালেক, হাবিলদার খলিলুর, আব্দুল গফুর, মকবুল হোসেন, করটিয়া সরকারী সা’দত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সাবেক নেতা জুমারত আলীসহ ২৯ জন ইপিআর ও ১৫১ জন শহীদ হন। ৩ এপ্্িরল ১৯৭১ স্বাধীনতার প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধ গোড়ান-সাটিয়াচড়া স্মৃতি সংসদ ও এলাকাবাসী প্রতি বছর দিবসটির স্মরণ করে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে থাকেন।

  • সাপ্তাহিক বারবেলা ডেস্ক

    Related Posts

    ৭ মে ছিল মির্জাপুর গণহত্যা দিবস , কুমুদিনী পরিবার ও হাসপাতালে নানা আয়োজন

    টাঙ্গাইলের মির্জাপুর ও দেলদুয়ার এলাকা দুই গৃহবধুর মরদেহ উদ্ধার

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *