মির্জাপুরে সেনা সদস্যের স্বামীকে প্রাইভেট কারে তুলে পিটিয়ে পা ভেঙ্গে মালামাল লুট

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে রোজি সুলতানা নামে এক সেনা সদস্যের স্বামী ইউনুছ রুমানকে অপরাধীরা ফিল্মি স্টাইলে প্রাইভেট কারে তুলে নিয়ে পিটিয়ে পা ভেঙ্গে দিয়ে এটিএম কার্ড, নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও মালামাল লুটে নিয়েছে ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা। মালামাল লুটে নিয়ে অপরাধীরা তার চোখ মুখ ও হাত পা বেঁধে মহাসড়কের পাশে মির্জাপুরে ফেলে রেখে চম্পট দেয়। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করেছে। তিনি এখন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে বলে তার পরিবার অভিযোগ করেছে। গতকাল শনিবার রাতে এ ঘটনা ঘটেছে।
আজ রবিবার ইউনুছের চাচাতো ভাই শিমুল জানায়, ইউনুছ রুমানের পিতার নাম মোজাম্মেল হক। গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলেল গোপালপুর উপজেলার উত্তর মান্দিয়া গ্রামে। তিনি বলেন, তার ভাবি সেনা সদস্য রোজি সুলতানা রাজধানী ঢাকা সেনানিবাসে কর্মরত। শনিবার বিকেলে তার ভাই ইউনুছ রুমান তার স্ত্রী রোজি সুলতানার ঢাকা সেনানিবাসের বাসায় যাওয়ার জন্য বাসের জন্য এলেঙ্গা এলাকায় অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় কাল রংয়ের একটি প্রাইভেট কার তার সামনে এসে দাড়িয়ে বলেন স্যার আমরা ঢাকায় যাচ্ছি। ২৫০ টাকা ভাড়া দিলে আপনাকে নিয়ে যাব। তাদের সহজ সরল কথায় তিনি প্রাইভেট কারে উঠেন। টাঙ্গাইল বাইপাস এলাকায় আসার পর প্রাইভেটকারে অপর তিন জন ইউনুছ রুমানকে হাত, পা ও চোখ মুখ বেধে অজ্ঞান করে পিটিয়ে একটি পা ভেঙ্গে দেয়। তার সঙ্গে থাকা নগদ ১৫ হাজার টাকা, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের এটিএম কার্ড ও মোবাইলসহ মালামাল লুটে নেয়। ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা এটিএম কার্ড দিয়ে এক লাখ ১০ হাজার টাকা উঠিয়ে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘুরিয়ে রাতে তাকে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের পাশে মির্জাপুরে ফেলে চম্পট দেয়। আজ রবিবার স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে কুমুদিনী হাসপাতালে ভুর্তি করেছে। খবর পেয়ে আমরা হাসপাতারে ছুটে আসি। তার শারীরিক অবস্তা সংকটাপন্ন বলে তিনি জানিয়েছেন।
এদিকে ইউনুছের পরিবারের পক্ষ থেকে মির্জাপুর থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা গ্রহণ করেনি। মির্জাপুর থানায় মামলা না নিয়ে তাদের কালিহাতি থানায় অভিযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন। ফলে তারা নানা ভাবে হয়রানীর শিকার হচ্ছেন বেল অভিযোগ করেন।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার ওসি (তদন্ত) পরিদর্শক রাসেদ বলেন, যেহেতু প্রথমে ঘটনাস্থল কালিহাতী উপজেলায়। ইউনুছ রুমানকে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের মির্জাপুরে ফেলে যায়। এ জন্য তাদের কালিহাতী থানায় অভিযোগ দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

 

  • সাপ্তাহিক বারবেলা ডেস্ক

    Related Posts

    ৭ মে ছিল মির্জাপুর গণহত্যা দিবস , কুমুদিনী পরিবার ও হাসপাতালে নানা আয়োজন

    টাঙ্গাইলের মির্জাপুর ও দেলদুয়ার এলাকা দুই গৃহবধুর মরদেহ উদ্ধার

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *