মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির শিশুবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সাংসদ আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী বলেন, আওয়ামীলীগ ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় যেসব বিএনপির সুযোগ সন্ধানী নেতারা দলের নিষেধ অমান্য করে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেছিল তাদেরকে দল থেকে খারিজ করা উচিৎ। তারা জিয়ার দলের কোন কর্মী বা নেতা হতে পারে না। তারা আওয়ামীলীগের ধূসর। ভাওড়া ইউনিয়নের সরিষাদাইড় ১নং ওয়ার্ডে মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, জিয়ার দলের নেতাকর্মীদের অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলাসহ বহুবার বহুভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করা হয়েছে। আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে বন্দি রাখে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। আমাদের নেতা তারেক রহমানকে দেশের বাইরে পাঠানো হয়েছে। বিএনপির প্রায় ৫০ লাখ নেতাকর্মীর নামে গায়েবি মামলা দিয়ে পালিয়ে বেড়ানোর ব্যবস্থাসহ জেলখানায় আটক রাখা হয়েছিল। তারপরও বিএনপির নেতাকর্মীরা আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়েছেন। সেই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন আগামী দিনের রাষ্ট্রনায়ক দেশনেতা তারেক রহমান। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশকে স্বাধীন ঘোষণা করবে এমন নেতা ছিল না উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘জিয়াউর রহমান কালুর ঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন। আর এই দুঃসময়ে যখন গণতন্ত্র বিপন্ন, জনগণের ভোটের অধিকার যখন হরণ করা হয়েছে, জনগণের ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার অধিকার যখন আওয়ামী লীগ কেড়ে নিয়েছিল তখন দেশের মানুষকে মুক্ত করতে তারেক রহমানের নেতৃত্বে আন্দোলন ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে হাসিনা সরকারের পতন হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ মনে করে ১৯৭১ সালে তারাই একাই দেশ স্বাধীন করেছে, আর কেউ দেশ স্বাধীন করেনি। তারা নিজেদের দেশ স্বাধীনতার একক দাবিদার মনে করে। তবে দেশ স্বাধীন করার সময় রাজনৈতিক বিভাজন ছিল না, বরং দেশকে পাক হানাদার বাহিনীর হাত থেকে মুক্ত করতে হবে এটাই ছিলো বড় কথা। এ মনোভাব নিয়েই দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছে দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, যারা গত ১৫ বছর দেশ শাসন করেছে, তারা এখন তারা পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তাদের তথাকথিত প্রধানমন্ত্রীও পালিয়ে বেড়াচ্ছে। কিন্তু আমরা এমন কোনো কাজ করব না, যার জন্য আমাদের পালিয়ে যেতে হবে বা জনগণ আমাদের খারাপ বলবে। আামাদের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বেই গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে সরকারের পতন হয়েছে। এই পতনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে আপনারা ভোট দিয়ে জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন। আমরা আশা করছি, এই অন্তর্র্বতীকালীন সরকার দ্রুত নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে। যত দেরি হবে, ততই দেশে অশান্তি সৃষ্টি হবে। তাই আমরা যদি শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চাই, তাহলে দ্রুত নির্বাচন প্রয়োজন। নির্বাচনের মাধ্যমেই দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।। আগামীতে নির্বাচন হবে জনগণের নির্বাচন। এক মাথার এক ভোট হবে। জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে।’
ভাওড়া ১নং ওয়ার্ডের বি এনপির সভাপতি মো. ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও উপজেলা বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ভাওড়া ইউনিয়নের সহ সভাপতি এমডি মো. মজনু মিয়ার সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির শিশুবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সাংসদ আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী। বিশেষ অতিথি ছিলেন, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুর রউফ, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার সালাহউদ্দিন আরিফ, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ডি এম শওকত আকবর, জুলহাজ মিয়া, তমিজ উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক ডি এম শফিকুল ইসলাম ফরিদ, ভাওড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার ফারুক হোসেন স¤্রাট, সাধারণ সম্পাদক মো. হাসেম খান, উপজেলা বিএনপির সদস্য মো.আলমগীর হোসেন, সম্পাদক আব্দুর রহমানসহ আরও অনেকেই। সার্বিক সহযোগিা করেন সাংবাদিক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক।







