নিজস্ব প্রতিবেদক
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে এলাকায় আধিপত্ত নিয়ে বিস্তার নিয়ে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলম মৃধার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কিশোর গ্যাং গ্রুপের সদস্যরা হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কিশোর গ্যাং গ্রুপের ৭০-৮০ জনের সশস্্র সদস্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ভাংচুর ও লুটপাটের পর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলম মৃধা, তার ভাাই আনোয়ার মৃধা, জাহাঙ্গীর মৃধা ও বোন নিপা বেগমকে দেশীয় ধারালো অস্্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ করেন। হামলাকারী বিএনপি ও আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী বলে জানা গেছে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসেন। গুরুতর অবস্থায় মহিলাসহ চার জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় ধারালো অস্্র উদ্ধার করেছে। গতকাল শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা সদরের কালিবাড়ি রোডে ইলমা কসমেটিকস ও আল আজমীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটেছে। আহত উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলম মৃধা, তার ভাাই আনোয়ার মৃধা, জাহাঙ্গীর মৃধা ও বোন নিপা বেগমের গ্রামের বাড়ি ভাতগ্রাম ইউনিয়নের গোড়াইল গ্রামে। পরিবার নিয়ে তারা মির্জাপুর উপজেলা সদরের কালিবাড়ি রোডের নিজ বাসায় থাকেন। ঘটনার পর কিশোর গ্যাং গ্রুপের সদস্যরা হুমকি দিয়ে যাওয়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে আলম মৃধা অভিযোগ করেন। অভিযুক্তদের গ্রেফতারসহ দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির জোর দাবী জানিয়েছেন।
আজ শনিবার (১৮ জানুয়ারি) গুরুতর আহত আলম মৃধা, তার ভাই আনোয়ার মৃধা ও জাহাঙ্গীর মৃধা অভিযোগ করেন, গোড়াইল উত্তরপাড়া গ্রামে আধিপত্ত বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ হয়। দুই পক্ষের মধ্যে ঝগড়া বিবাদে কয়েকজন আহক হয়। এ নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঐ ঘটনা ও পুর্ব শক্রুতার জের ধরে গোড়াইল গ্রামের রুবেল, লাজলু, সাদ্দাম, সুলতান, রফিক, শফি, নজরুল, মমিনুর, মনির, বাবুল, রাজু, ফয়সাল ও সেজানসহ কিশোর গ্যাং গ্রুপের ৩০-৩২ জনের সশস্্র গ্রুপ এই হামলা চালায়। হামলাকারীরা পুর্ব পরিকল্পিত ভাবে গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতে আলম মৃধার ইলমা কসমেটিকস স্টোর ও হাবেল মৃধার আল আজমীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট চালিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে নগদ প্রায় ২০ লাখ টাকা লুটে নিয়ে যায়। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার পর বাসায় হামলা চালিয়ে মহিলাদের উপর আক্রমন করে। এ সময় তারা বাঁধা দিতে গেলে কিমোর গ্যাং গ্রুপের সদস্যরা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলম মৃধা, তার ভাাই আনোয়ার মৃধা, জাহাঙ্গীর মৃধা ও বোন নিপা বেগমকে ধারালো অস্্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। এ সময় শহরে আতংক ছড়িয়ে পরলে দোকান পাট বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। আহতদের উদ্ধার করে মির্জাপুর উপজেলা সরকারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্ের ভর্তি করেছে। এ ব্যাপারে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলম মৃধার ভাই জাহাঙ্গীর মৃধা বাদী হয়ে রুবেল, লাজলু, সাদ্দাম, সুলতান, রফিক, শফি, নজরুল, মমিনুর, মনির, বাবুল, রাজু, ফয়সাল ও সেজানসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৩০-৩২ নামে রাতেই মির্জাপুর থানায় মামলা দায়ের করেছে বলে ক্ষতিগ্রস্থ্য ও আহত হাবেল মৃধা ও আলম মৃধা জানিয়েছেন। মামলার পর থেকেই পুলিশ আসামীদের গ্রেফতারে মাঠে নেমেছেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এলাকায় আধিপত্ত বিস্তার নিয়ে ইতিপুর্বে তাদের লোকজন হামলা চালিয়ে কয়েক জনকে মারপিট করেছিল। হামলার কোন বিচার হয়নি। ঘটনার প্রতিশোধ নিতে এ ঘটনা ঘটেছে।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানায় যোগাযোগ করা হলে অফিসার ইনচার্জ মো. মোশারফ হোসেন বলেন, অভিােযগ পাওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে জাহাঙ্গীর মৃধা বাদী হয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা পলাতক। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।







