মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে নদী, ফসলি জমি ও পাহাড় থেকে অবৈধ মাটি চুরি বন্ধে প্রশাসন সাঁড়াশি অভিযানে নেমেছেন। গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত ১৫ লাখ টাকা অর্থদন্ড প্রদান করেচেণ ভ্রাম্যান আদালনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। দিন রাত বিভিন্ন এলাকায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ বি এম আরিফুল ইসলাম, এসিল্যান্ড মাসুদুর রহমান, ওসি মো. মোশারফ হোসেন এবং সেনাবাহিনী যৌথ অভিযান পরিচালনা করে যাচ্ছেন। মাটি কাটার যন্ত্র ভ্যেকু এবং ড্রাম ট্রাক জব্দ এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত কয়েক জনকে আটক করেছেন। আজ রবিবার নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এ বি এম আরিফুল ইসলাম অর্থদন্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন
অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রশাসেনর চোখ ফাঁকি দিয়ে মির্জাপুরে অবৈধ ভাবে পাহাড় কাটা ও নদী থেকে মাটি চুরির মহোৎসব চলছে দীর্ঘ দিন দরে। উপজেলার পাহাড়ি পাঁচ ইউনিয়নসহ অপর ৯ ইউনিয়নেই চলছে এই চুরি করে মাটি কাটার মহোৎসব। ড্রাম ট্রাক দিয়ে মাটি কেটে বহন করে নেওয়ায় এলাকার রাস্তাঘাটের যেমন ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি পরিবেশ হুমকির মুখে। দিন রাত অভিযানের পরও মাটি চোর প্রভাবশালী এই চক্রের হাতে অসহায় হয়ে পরেছে প্রশাসন।
আজ রবিবার (১৯জানুয়ারি) মির্জাপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একটি চক্র দীর্ঘ দিন ধরে উপজেলার পাহাড়ি অঞ্চল আজগানা, লতিফপুর, তরফপুর, গোড়াই ও বাঁশতৈল এই পাঁচ ইউনিয়নের পাহাড়ের টিলার লাল মাটি চুরি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। মাটি যাচ্ছে উপজেলার নয়াপাড়া, হাটুভাঙ্গা, সৈয়দপুর, আজগানা, গোড়াই, সোহাগপাড়া, কোদালিয়া, দেওহাটা, মীর দেওহাটা, লতিফপুর, পাথরঘাটা, বহুরিয়া, বাইমহাটিসহ বিভিন্ন এলাকায়। মৌসুমের শুরু থেকেই পাহাড় ও নদীর মাটি এই মাটি কাটা হচ্ছে। রাতের আধাঁরে এই মাটি কাটায় এলাকার কাঁচা আধাপাকা রাস্তা ভেঙ্গে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। পাহাড়ের লাল মাটি কাটায় এক দিকে জীব বৈচিত্র ধ্বংস হচ্ছে, তেমনি ভাবে এলাকার পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। আজগানা, লতিফপুর, তরফপুর, গোড়াই ও বাঁশতৈল পাহাড়ি এলাকার অসহায় ভুক্তভোগি ব্যক্তি অভিযোগ করেন, সিন্ডিকেট চক্র আজগানা, লতিফপুর, তরফপুর, গোড়াই ও বাঁশতৈল এলাকার অসহায় লোকজনকে জিম্মি করে জোর পুর্বক পাহাড়ের লাল মাটির টিলা ও ফসলি জমির মাটি কেটে নিচ্ছে। মাটি কাটা বন্ধের জন্য কেউ বাঁধা দিলে তাদের বিভিন্ন ভাবে হুমকি এবং মামলার ভয় দেখানো হয়। সন্ধার নামার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় পাহাড় কাটার মহোৎসব। প্রতি রাতে শতাধিক ড্রাম ট্রাক দিয়ে মাটি নেওয়ায় এরাকার রাস্তার ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। একই ভাবে মাটি চুরির সঙ্গে জড়িত চক্রটি উপজেলার বংশাই ও লৌহজং নদীর মাটিও কেটে নিচ্ছে। ৩০-৪০ স্পটে চলছে মাটি চুরির মহোৎসব। ফলে সরকার বিপুল পরিমান সরকারী রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এদিকে অবৈধ মাটি কাটা বন্ধে সাঁড়াশি অভিযানে নামেন উপজেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক শরীফা হকের নির্দেশে দিন রাত বিভিন্ন এলাকায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ বি এম আরিফুল ইসলাম, এসিল্যান্ড মাসুদুর রহমান, ওসি মো. মোশারফ হোসেন এবং সেনাবাহিনী যৌথ অভিযান পরিচালনা করে যাচ্ছেন। গত কয়েক দিনের ব্যবধানে অভিযানে প্রায় ১৫ লাখ টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়েছেঠ। এছাড়া অবৈধ ড্রাম ট্রাক ও ভ্যেকু জব্দ করে অর্ধশথ মামলা দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ বি এম আরিফুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাটি বহন করার ট্রাক জব্দ করে মামলা দেওয়া হয়েছে এবং কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রায় ১৫ লাখ টাকা অর্থদন্ড করা হয়েছে। যারা এই মাটি চুরির সঙ্গে জড়িত তাদের কোন অবস্থায় ছাড় দেওয়া হবে না। অভিযান চলমান থাকবে।







