মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় সম্মিলিত মেধা তালিকায় সারা দেশে পঞ্চম স্থান অর্জন করেছে সুমাইয়া জাহান। মেধাবী এই ছাত্রী একজন মানবিক চিকিৎসক হতে চান। টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ১৩ নং বাঁশতৈল ইউনিয়নের পাহাড়ি প্রত্যন্ত অঞ্চল বালিয়াজান গ্রামে তার বাড়ি। সুমাইয়া জাহানের পিতা মো. শাজাহান সিরাজ একজন ব্যবসায়ী এবং মাতা জিয়াসমিন আক্তার একটি কমিউনিটি ক্লিনিকে স্বাস্থ্য সহকারী (সিএইচসিপি) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। মির্জাপুর পৌরসভার বাইমহাটে গ্রামে বর্তমানে তারা বসবাস করেন।
আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) সুমাইয়া জাহানের স্হপাঠীরা জানায়, স্কুল জীবন থেকেই সে অত্যান্ত ন¤্র ভদ্র ও মেধাবী ছাত্রী ছিল। ২০১৬ সালে মির্জাপুর উপজেলা সদরে অবস্থিত রাষ্ট্রপতির পুরষ্কারপ্রাপ্ত স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ২৩ নং বাইমহাটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে জিপিএ গোল্ডেন-৫সহ ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পায়। ২০১৯ সালে মির্জাপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসিতে জিপিএ গোল্ডেন-৫সহ ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি এবং ২০২২ সালে একই বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে জিপিএ গোল্ডেন-৫সহ মির্জাপুর উপজেলায় প্রথম স্থান অর্জন করে। এসএসসি পাশের পর রাজধানী ঢাকার হলিক্রস কলেজে ভর্তি হয়। হলিক্রস কলেজ থেকে ২০২৪ সালে এইচএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পায়। ঢাকায় পড়াশোনা করে ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে সম্মিলিত মেধা তালিকায় পঞ্চম স্থান অর্জন করেছে সুমাইয়া জাহান।
এ ব্যাপারে মেধাবী ছাত্রী সুমাইয়া জাহান বলেন, এই ফলাফল অর্জন আমার একার নয়। ফলাফলের পিছনে আমার বাবা-মা, শিক্ষক ও সহপাঠীরা আমাকে অনুপ্রেরনা ও উৎসাহ যুগিয়েছে। তাদের প্রতি আমি চির কৃতজ্ঞ। আমি দেশের মানুষের জন্য একজন মানবিক চিকিৎসক হতে চাই। এ জন্য সকলেল সহযোগিতা ও দোয়া চাই।
এ ব্যাপারে সুমাইয়া জাহানের পিতা মো. শাজাহান সিরাজ ও মাতা জিয়াসমিন আক্তার বলেন, আমাদের ক্ষুদ্র প্রচেষ্টায় মেয়েকে পড়াশোনার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের কন্যা দেশ ও দেশের মানুষের জন্য চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত থাকবে এটাই আমাদের গর্ব। দেশের অসহায় মানুষ যাতে তার কাছ থেকে সুচিকিৎসা পায় এটাই আমাদের চাওয়া।
এ ব্যাপারে ২৩ নং বাইমহাটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জসিম উদ্দিন সরকার ও সহকারী শিক্ষক মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, সুমাইয়া জাহান আমাদের স্কুলের একজন মেধাবী ছাত্রী ছিল। তার মত সন্তান আমাদের ঘরে ঘরে হওয়া উচিত। তার এই ফলাফলে আমরা গর্বিত। সুমাইয়া ভাল চিকিৎসক হয়ে দেশের মানুসের সেবা করবে এর চেয়ে গর্বের আর কিছু হতে পারে না।







