মির্জাপুরে বিএনপি নেতার প্রতিষ্ঠানে হামলা ভাংচুর ও কুপিয়ে হত্যা চেষ্টায় তিন মামলা এলাকা থমথমে

নিজস্ব প্রতিবেদক
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলম মৃধার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনায় তিন মামলা হয়েছে। দ্ইু পক্ষের পাল্টাপাল্টি তিন মামলায় এলাকায় গত ৮ দিন ধরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এই ঘটনায় একজন মহিলা ও আলম মৃধাসহ চারজন গুরুতর জখম হয়েছে। হামলাকারীরা বিএনপি ও আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী বলে অভিযোগ করেন আলম মৃধা ও তার পরিবার। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় ধারালো অস্্র উদ্ধার করেছে। অপরদিকে পক্ষের প্রতি মমিনুর গ্রুপের ৪-৫ জন আহত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মমিমনুর ও তার পরিবার। আহতরা চিকিৎসাধীন। এ ব্যাপারে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলম মৃধা দুইটি মামলা এবং মমিনুর গ্রুপের পক্ষে একটিসহ তিনিটি পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করেছে। মামলা হলেও আসামীরা ঘুরে বেড়াচ্ছে বীরদর্পে বলে অভিযোগ করেন। টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা সদরের কালিবাড়ি রোডে ইলমা কসমেটিকস ও আল আজমীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটেছে। আহত উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলম মৃধা, তার ভাাই আনোয়ার মৃধা, জাহাঙ্গীর মৃধা ও বোন নিপা বেগমের গ্রামের বাড়ি ভাতগ্রাম ইউনিয়নের গোড়াইল গ্রামে। পরিবার নিয়ে তারা মির্জাপুর উপজেলা সদরের কালিবাড়ি রোডের নিজ বাসায় থাকেন। মামলার পর আসামীরা হুমকি দিয়ে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং আসামীরা বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে আলম মৃধা। অভিযুক্তদের গ্রেফতারসহ দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির জোর দাবী জানিয়েছেন।
আজ শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) গোড়াইল গ্রামের একাধিক ব্যক্তি জানায়, গোড়াইল উত্তরপাড়া গ্রামে পুর্ব সত্রুতা নিয়ে কয়েক দিন পুর্বে আলম মৃৃধার ভাতিজা গ্রুপ ও প্রতিপক্ষ মমিনুর, সেজান, রাজু ও সাদ্দাম গ্রুপের মধ্যে মারামারি হয়। এই ঘটনায় মমিনুর গ্রুপের বেশ কয়েকজন আহত হয়। ঘটনার কয়েক দিন পার হলেও মিশাংশা না হওয়ায় এ নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। পুর্ব শক্রুতার জের ধরে গোড়াইল গ্রামের রুবেল, লাজলু, সাদ্দাম, সুলতান, রফিক, শফি, নজরুল, মমিনুর, মনির, বাবুল, রাজু, ফয়সাল ও সেজানসহ ৩০-৩২ জনের সশস্্র গ্রুপ গত শুক্রবার পুর্ব পরিকল্পিত ভাবে আলম মৃধার ইলমা কসমেটিকস স্টোর ও তার ভাগিনা হাবেল মৃধার আল আজমীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট চালিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে। এ সময় তারা বাঁধা দিলে হামলাকারীরা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলম মৃধা, তার ভাাই আনোয়ার মৃধা, জাহাঙ্গীর মৃধা ও বোন নিপা বেগমকে ধারালো অস্্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। আহতদের উদ্ধার করে মির্জাপুর উপজেলা সরকারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্ের ভর্তি করা হয়। এ ব্যাপারে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলম মৃধা বলেন, পুর্ব পরিকলি।পত ভাবে সন্ত্রাসী কায়দার আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাংচুর, লুটপাট ও কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে। আমার ভাই জাহাঙ্গীর মৃধা বাদী হয়ে রুবেল, লাজলু, সাদ্দাম, সুলতান, রফিক, শফি, নজরুল, মমিনুর, মনির, বাবুল, রাজু, ফয়সাল ও সেজানসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৩০-৩২ নামে মির্জাপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ কোন ব্যবস্তা গ্রহণ না করায় পরে টাঙ্গাইল কোর্টে মামলা দেওয়া হয়েছে। একটি মামলায় সিআইড তদন্ত করছেন। দুটি মামলার পরও আসামীরা গ্রেফতার না হয়ে বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
এ ব্যাপারে মমিনুর সিকদার অভিযোগ করেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলম মৃধার ভাতিজা হৃদয় ও তার লোকজন পরিকল্পিত ভাবে হামলা চালিয়ে রুবেল, সাদ্দাম, মনির, বাবুল, রাজু, ফয়সাল ও সেজানসহ বেশ কয়েকজনকে পিটিয়ে গুরুতর ভাবে আহত করে। হামলার কোন বিচার পর্যন্ত হয়নি। উল্টো তারা মোবাইলে ভয়েজ রেকড দিয়ে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। ঐ ঘটনার জের ধরে পাল্টাপাল্টি হামলা হয়েছে। এ ব্যাপারে তাদের পক্ষ থেকে আলম মৃধাদের আসামী করে মির্জাপুর থানায় মামলা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ তাদরে ধরছে না। বিভিন্ন অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন। এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানায় যোগাযোগ করা হরে ওসি মো. মোশারফ হোসেন বলেন, ঘটনার পর দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি মামলা দিয়েছেন। দুটি মামলার তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আহতদের চিকিৎসা চলছে।

  • সাপ্তাহিক বারবেলা ডেস্ক

    Related Posts

    মির্জাপুরে উৎসব মুখর পরিবেশে একযোগে বৃক্ষরোপন কর্মসুচীর উদ্ধোধন

    মির্জাপুরে মেধা-বিজ্ঞান-উদ্বাভনী প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরষ্কার বিতরণ

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *