মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ঝুঁকিপুর্ন ২২ কিলোমিটার রাস্তায় ডাকাত প্রতিরোধ ও যাত্রীদের রাতে নির্বিগ্ন নিরাপত্তায় মির্জাপুর থানা পুলিশ ১২ চেকপোষ্ট বসিয়ে তল্লাসি কার্যক্রম শুরু করেছে। যাত্রীবাহী বাস ছাড়াও সকল ধরনের যানবান চলাচল নির্বিগ্ন করতে মির্জাপুর থানা পুলিশ কঠোর নজরদারী বৃদ্ধি করায় স্বস্তি ফিরে পেয়েছে যাত্রীদের মধ্যে। টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানের নির্দেশে এই নজরদারী বাড়ানো হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছেন। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর অংশের স্কয়ার থেকে নাটিয়াড়া পর্যন্ত এই ২২ কিলোমিটার রাস্তায় ১২ তল্লাসী চৌকি বসানো হয়েছে। গতকাল শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২ টা থেকে রাত দেড়টা পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে দেখা গেছে পুলিশ বাহিনীর সদস্যগন যাত্রীবাহী বাসে ডাকাতি প্রতিরোধ ও যাত্রীদের নিরাপত্তায় তল্লাসী কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
আজ শনিবার (১ মার্চ) মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোশারফ হোসেন জানান, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের চোখ ফাঁকি দিয়ে নানা কৌশলে সম্প্রতি এই মহাসড়কে বেশ কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। এই বিচ্ছিন্ন ঘটনা সারা দেশে আলোড়নসহ প্রশাসনে তোলপার সৃষ্টি হয়। উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের দিক নির্দেশনায় মির্জাপুর থানার ওসি (তদন্ত) মো. সালাউদ্দিন, সেকেন্ডে অফিসার হাবিব, উপপরিদর্শক জহির, শাহ মিরাজ উদ্দিন, আলী আহসান, রাহাত, নুরনবী, হাফিজুর রহমান হাফিজ, সাহাদত হোসেন, সারওয়ার আলম, গোলাম রাব্বানী, ইকবাল হোসেন ও শহিদুলের নেতৃত্বে মহাসড়কের বোর্ডঘর স্কায়ার থেকে নাটিয়াপাড়া পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার রাস্তায় রাতে তল্লাসী চৌকি বসিয়ে যানবাহন চেকিং করা হচ্ছে। এছাড়া মির্জাপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ্এইচ এম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী. মির্জাপুর থানার ওসি মোশারফ হোসেন এবং গোড়াই হাইওয়ে থানার ওসির নেতৃত্বে আরও কয়েকটি টিম ভাগ হয়ে মহাসড়কে টহল দিয়ে যাচ্ছেন। প্রতি দিন রাত ১০ টা থিকে পরের দিন সকাল আটটা পর্যন্ত চলছে তাদের এই তল্লাসী কার্যক্রম। গত কয়েক দিনের ব্যবধানে পুলিশের এই নজরদারী কার্যাক্রমে মহাসড়ক থেকে অপরাধ প্রবনতা বেশ কমে গেছে বলে জানিয়েছেন গোড়াই হাইওয়ে থানার ওসি মাসুদ খান। এ ব্যাপারে এই মহাসড়ক দিয়ে নিয়মিত চলাচলকারী যাত্রী ব্যবসায়ী মনির হোসেন, কলেজ ছাত্র জাকির হোসেন, চন্দ্রিকা মল্লিকা ও স্কুল শিক্ষক মারুফ হোসেনসহ ১০ জন যাত্রী বলেন, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক একটি ব্যস্ততম মহাসড়ক হলেও যাত্রীদের তেমন নিরাপত্তা নেই। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও তাদের যানবাহন অপ্রতুল এবং গুরুত্বপুর্ন পয়েন্টে সিসি ক্যামেরা স্থাপন নেই। ফলে অপরাধীরা অতি সহজেই যানবাহন থামিয়ে ডাকাতি, মালামাল লুট ও নারীদের নির্যাতন করে সহজেই সটকে পরছে। প্রশাসনকে এ বিষয়ে কঠোর নজরদারী বাড়ানোর অনুরোধ তাদের।এ ব্যাপারে সহকারী পুলিশ সুপার মির্জাপুর সার্কেল এইচ এম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী বলেন, শুধ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কই নয়। গোড়াই-সখীপুর, মির্জাপুর-ওয়ার্শি-বালিয়া ও মির্জাপুর-নাগরপুর, পাকুল্যা-দেলদুয়ার-নাগরপুর এবং পাকুল্যা-টাঙ্গাইল আঞ্চলিক রোডেও একই ভাবে টহল জোরদার করা হয়েছে। এদিকে মির্জাপুর থানার থানার পাশাপাশি ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা-স্কায়ার বোর্ডঘর পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার রাস্তায় কালিয়াকৈর থানা পুলিশ, নাটিয়াপাড়া-করটিয়া পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার রাস্তা নাগরপুর ও বাসাইল থানা পুলিশ, টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার রাস্তা টাঙ্গাইল থানা পুলিশ এবং এলেঙ্গা-যমুনা সেতু পুর্ব থানা পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার রাস্তা যমুনা সেতু পুর্ব থানা ও ভুয়াপুর এবং কালিহাতি থানা পুলিশ টহল দিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া চন্দ্রা থেকে যমুনা সেতুর পুর্বপাড় পর্যন্ত শালনা হাইওয়ে থানা পুলিশ, মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই হাইওয়ে থানা এবং এলেঙ্গা হাইওয়ে থানা পুলিশ বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ হয়ে টহল দিয়ে যাচ্ছেন। এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক একটি জাতীয় মহাসড়ক ও গুরুত্বপুর্ন। এই রোড দিয়ে টাঙ্গাইল, জামালপুর ও শেরপুর জেলাসহ উত্তরাঞ্চলের অন্তত ২২ টি জেরার ১২০ রোডের যানবাহন চলাচল করে আসছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে মাঝে মধ্যে দু, একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটছে। ইতিমধ্যে আন্তজেলা ডাকাত দলের বেশ কয়েকজন সক্রীয় সদস্য গ্রেফতার হয়েছে। সব থানার পুলিশ ওএবং হাইওয়ে থানার পুলিশ সদস্যদের নিয়ে শক্তিশালী টিম গঠন করে টহল শুরু হয়েছে।







