মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক ইটভাটায় মোবাইল কোর্ট, জরিমানা এবং ভাংচুর বন্ধের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ, ইউএনও অফিস ঘেরাও এবং প্রতিবাদ সমাবেশসহ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে এনেছেন। মির্জাপুর উপজেলা ইট প্রস্তুতকারি মালিক সমিতি এবং এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত শ্রমিক-কর্মচারী আজ মঙ্গলবার (৪ মার্চ) দুপুরে এ সমাবেশের আয়োজন করে। সকাল থেকেই উপজেলা সদরের মির্জাপুর এস কে পাইলট মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে বিভিন্ন ইটভাটার মালিক ও শ্রমিক-কর্মচারীরা মিছিল নিয়ে জড়ো গতে থাকে। দুপুর ১২ টার দিকে বিক্ষোভ মিছিলটি মির্জাপুর শহরের বিভিন্ন রাস্তা প্রদক্ষিণ করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে মুল ফটক ঘেরাও করে প্রতিবাদ সমাবেশ করে। এ সময় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইট প্রস্তুতকারি মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. ফিরোজ হায়দার খান, মির্জাপুর উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির নেতা মো. জুলহাস মিয়া, জাকির হোসেন, আব্দুর রাজ্জাক সিদ্দিকী ও আজগর হোসেন প্রমুখ। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়। প্রতিবাদ সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, নানা প্রতিকুলতার মাঝেও তারা এই শিল্প ধরে রেখেছেন। পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রশাসন বিনা কারনে কোন নোটিশ না দিয়েওই বিভিন্ন ইটভাটায় াভিযানের নামে মোটা অংকের জরিমানা, ভাংচুর চালিয়ে ইটভাটা বন্ধ করে দিচ্ছে। এতে করে তারা কোটি কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। তাদরে অভিযোগ গত ১০-৩০ বছরের ব্যবধানে পরিবেশ অধিপ্তরের ছাড়পত্র এবং জেলা প্রশাসনের ইটপোড়ানোর লাইসেন্স গ্রহন করে ইটভাটা স্থাপন করা হয়। প্রথমে টিন চিমনি, পরবর্তীতে ১২০ ফুট উচু ফিক্্রড চিমনি ও ২০১৩ এর ২(ঘ) জালানি সাশ্রয়ী উন্নত প্রযুক্তি সম্পন্ন হাইব্রিড, হফম্যান, কিলন, জিগজ্যাগ, ভ্যাটিক্যাল স্যাফট ফিলনসহ সরকারী ভাবে ইটভাটা আইন জারি হলে ১২০ ফুট চিমনি ভেঙ্গে পরিবেশ বান্ধব ইটভাটা স্থাপন করা হয়। এখন এসব ভাটায় কাঠ, বাঁশ ব্যবহার হচ্ছে না এবং পরিবেশেরও কোন ক্ষতি হচ্ছে না। লাখ লাখ টাকা খরচ করে চিমনি পরিবর্তন করা হয়। এসব ইটভাটা এখন পরিবেশেরও কোন ক্ষতি করছে না। ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন ২০১৯ এর (নিয়ন্ত্রন) (সংসেধন) শিথিল হলেও এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন না হওয়ায় ইটভাটা মালিকরা এখন চরম বিপাকে পরেছেন। এই শিল্পের সঙ্গে সরকার ও দেশের অনেক উন্নয়ন চিত্র জড়িত। এই শিল্পের সঙ্গে কর্মরত লক্ষাধিক শ্রমিক বেকার হয়ে যাচ্ছে। সার্বিক সহযোগিতা চেয়ে প্রধান উপদেষ্টা, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রনালয়ের উপদেষ্টা, সচিব, পরিবেশ অধিপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেছেন। ইটভাটা চালু ও ছাড়পত্রসহ লাইসেন্স প্রদানের জন্য সরকারের কাছে জোর দাবী জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ বি এম আরিফুল ইসলাম এবং ওসি মো. মোশারফ হোসেন বলেন, ইটভাটার মালিকগন বিভিন্ন দাবী নিয়ে সমাবেশ করে স্মারকলিপি দিয়েছেন। বিষয়টি তারা উর্ধ্বতন কর্তপক্ষকে জানাবেন। কোন প্রকার অপৃতিকর ঘটনা ঘটেনি।







