মির্জাপুরে লৌহজং নদীতে কুমুদিনী হাসপাতাল সংলগ্ন পাকা সেতুর দাবীতে এলাকাবাসির সমাবেশ

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পৌরসভার কুমুদিনী হাসপাতাল সংলগ্ন লৌহজং নদীর উপর পাকা সেতু না থাকায় পারপারে চরম দুর্বোগের মিকার হতে হচ্ছে। প্রবল পানির স্্েরাত ও কচুরি পানার চাপে ভেঙ্গে গেছে বাঁশের সাকো। বাঁশের সাকো ভেঙ্গে যাওয়ায় এলাকার লোকজনদের কয়েক কিলোমিটার ঘুরে উপজেলা ও জেলা সদরের সঙ্গে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে ক্ষুদ্ব মির্জাপুরবাসি। একটি পাকা সেতু নির্মানের জন্য যুগ যুগ ধরে এলাকাবাসি আবেদন করে আসলেও অদৃশ্য শক্তির কারনে এখানে পাকা সেতু হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে খেয়া নৌকা ও শুকনো মৌসুমে নরবরে বাঁশের সাঁকোর উপর ঝুঁকির মধ্যে লোকজন যাতায়াতের জন্য ভরসা। এতে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি। এ যেন বাতির নিচেই অন্ধকার। নদীর উপর সেতু চেয়ে অসহায় এলাকাবাসি লিফলেট বিতরণ, ফেস্টুন ও দেয়ালে দেয়ালে ব্যানার দিয়েছেন। তারপরও এখানে পাকা সেতু নির্মানের কোন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। গত ৫৪ বছর ধারে চলছে এ দুর্ভোগ।
এদিকে আজ শুক্রবার (৯ মে) দক্ষিণ মির্জাপুরবাসি লৌহজং নদীর উপর কুমুদিনী হাসপাতাল ঘাট সংলগ্ন একটি পাকা সেতু নির্মানের দাবীতে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সাবেক প্রধান শিক্ষিকা মুক্তি সাহা, ডা. বিপ্লব কুমার সাহা, ব্যবসায়ী দিপক সাহা, খন্দকার সালাউদ্দিন ডন, পিন্টু সাহা ও মোজাম্মেল হক প্রমুখ।
কুমুদিনী হাসপাতাল সংলগ্ন লৌহজং নদীর ঘাট এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে বাঁশের সাকোটি ভেঙ্গে গেছে। দুই দিক থেকে লোকজন যাতায়াত করতে পারছেন না। ভুক্তভোগিদের খন্দকার রাকিবুল হাসান রিপন, ব্যবসায়ী পিন্টু সাহা, কলেজ ছাত্র মেরাজ হোসেন, উত্তম ঘোষসহ অন্তত ৩৫ জন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, যাতায়াতের জন্য খেয়া নৌকারও ব্যবস্থা নেই। নদীর দুই পাশে অপরিকল্পিত ভাবে ব্লক ফেলায় পারাপার আরও ঝুঁকিপুর্ন হয়ে পরেছে। লৌহজং নদীর সাহাপাড়া এলাকার কুমুদিনী হাসপাতাল সংলগ্ন লৌহজং নদীর উপর একটি পাকা ব্রিজ নির্মান এলাকাবাসির দীর্ঘ দিনের দাবী। কিন্ত তাদের সে দাবী উপেক্ষিত। একটি পাকা সেতু না হওয়ায় সাহাপাড়া, কুতুববাজার, আন্ধরা, সরিষাদাইর, মুসলিমপাড়া, ভাওড়া ইউনিয়ন, বহুরিয়া ইউনিয়ন, ওয়ার্শি ইউনিয়ন, ভাতগ্রাম ইউনিয়ন এবং মির্জাপুর পৌরসভাসহ দক্ষিানাঞ্চলের তিনটি উপজেলাবাসির দুর্ভোগের শেষ নেই। বিশেষ করে সাহাপাড়া একটি ব্যবসায়িক কেন্দ্র। পাকা ব্রিজ না হওয়ায় বর্ষাকালে খেয়া নৌকা ও শুকনো মৌসুমে নরবরে বাঁশের সাঁকোর উপর নির্ভর করে প্রতিদিন হাজার হাজার লোকজন যাতায়াত করছে। ঝুঁকির মধ্যে যাতায়াত করতে গিয়ে দুর্ঘটনাসহ প্রাণহানির মত ঘটনা ঘটছে। অসুস্থ্য রোগীদের নিয়ে পরেন বিপাকে। অনেকে রাস্তায় মারা যান।
উপজেলা সদরে রয়েছে মির্জাপুর শহীদ ভবানী প্রসাদ সাহা সরকারি কলেজ, মির্জাপুর এস কে পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, মির্জাপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, মির্জাপুর আফাজ উদ্দিন দাখিল মাদ্রাসা, মির্জাপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজ, কুমুদিনী হাসপাতাল, কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজ, কুমুদিনী নার্সিং স্কুল এন্ড কলেজ, ভারতেশ^রী হোমস. উপজেলা প্রশাসন মডেল স্কুল এন্ড কলেজ, আলহাজ¦ শফিউদ্দিন মিঞা জুনিয়র স্কুল, আলহাজ¦ শফিউদ্দিন মিঞা এন্ড একাব্বর হোসেন টেকনিক্যাল কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শতশত শিক্ষার্থী ঝুঁকির মধ্যে ৩-৪ কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত করছে। তাদের দুর্ভোগের শেষ নেই। সম্প্রতি কুমুদিনী হাসপাতাল সংলগ্ন লৌহজং নদীর উপর একটি পাকা সেতর দাবী জানিয়ে নদীর উপর সেতু চেয়ে অসহায় এলাকাবাসি লিফলেট বিতরণ, ফেস্টুন ও দেয়ালে দেয়ালে ব্যানার দিয়েছেন। তর পরও কোন কাজ হচ্ছে না।
পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক ও মির্জাপুর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি) মাসুদুর রহমান বলেন, পৌরসভার কুমুদিনী হাসপাতাল সংলগ্ন লৌহজং নদীর উপর নির্মিত বাঁশের সাকো প্রবল পানির স্রােতের কারনে ভেঙ্গে গেছে। এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। একটি পাকা সেতু নির্মানের জন্য প্রশাসন থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌাশলী মো. মনিরুল সাজ রিজন বলেন, লৌহজং নদীর কুমুদিনী হাসপাতাল সংলগ্ন একটি পাকা সেতু নির্মান অতি জরুরী হয়ে পরেছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। বরাদ্ধ পেলে পাকা সেতু নির্মানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • সাপ্তাহিক বারবেলা ডেস্ক

    Related Posts

    টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কুমুদিনী হাসপাতালে গৃহবধুর এক সঙ্গে চার সন্তান প্রসব

    মির্জাপুরে ইউএনওর সহযোগিতায় ভাটা মালিক ও কৃষকদের মধ্যে সমস্যার সমাধান

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *