মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে গোড়াই শিল্পাঞ্চলের গোড়াই এবং পৌরসভার সাহাপাড়া মাদকের স্বর্গরাজ্যে পরিনত হয়েছে। এখানে হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে ইয়াবা ট্যাবলেট, হেরোইন, ফেনসিডিল, গাঁজা, দেশী-বিদেশী মদ, বাংলা ও চোলাই মদ। মোবাইলে চলছে ডিজিটাল জুয়া। ফলে এই এলাকায় বাড়ছে চুরি ডাকাতি ছিনতাইসহ নানা অপরাধ। আজ রবিবার মির্জাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মাসুদুর রহমান এবং মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাগন মাদকের ঘাঁটি গোড়াই ও মির্জাপুর পৌরসভার কয়েকটি স্পটে অভিযান চালিয়ে দুই মাদককারবারীকে গ্রেফতার করে তিন মাসের কারাদন্ড এবং ২০০শ টাকা অর্থদন্ড প্রদান করেছেন। মাদক কারবারীরা হচ্ছে পৌরসভার পোস্টকামুরী এলাকার রাজিব (৩০) এবং গোড়াই এলাকার সমরাট সিকদার (৩৫)।
আজ রবিবার (২০ জুলাই) গোড়াই এলাকা এবং পৌরসভার সাহাপাড়া, কুতুববাজার, সরিষাদাইর ও আন্ধরা এলাকার ভুক্তভোগি পরিবার ও সাধারন মানুষের সঙ্গে কথা বলে জুয়া ও মাদকের এমন ভয়াবহ চিত্র পাওয়া গেছে। পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডের মধ্যে সাহাপাড়া মুলত সনাতন ধর্মের লোকজনের বসবাস। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি সিন্ডিকেট চক্র মাদক ও জুয়ার ব্যবসায় জড়িয়ে পরেছে দীর্ঘ দিন ধরে। প্রতি দিন লাখ লাখ টাকার জুয়া ও মাদক ক্রয় বিক্রয় হচ্ছে সাহাপাড়ায়। পাশাপাশি চলছে মোবাইলে ভার্চুয়ালি জুয়া। ভার্চুয়াল জুয়া চলছে পৌরসভার সাহাপাড়া, মুসলিমপাড়া, পাহাড়পুর, বাবু বাজার, কুতুব বাজার, আন্ধরা, সরিষাদাইর ও কান্ঠালিয়াসহ বিভিন্ন দোকান, বাসাবাড়ি ও অলি-গলিতে। অলিগলি ও পাড়া-মহল্লায় মাদকের ভয়াবহ বিস্তার বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগিদের অভিযোগ, যমুনা সেতুর উপর দিয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক হয়ে বাস ও ট্রেনে উত্তরাঞ্চল থেকে মাদকের চালান আসছে মির্জাপুরের মহেড়া ও উপজেলা সদরের ট্রেন স্টেশনে। মাদক কারবারীরা বিভিন্ন ভাগে মাদকের চালান মির্জাপুর পৌরসভার সাহাপাড়া ও কুতুব বাজারের পাড়া-মহল্লায় বিভিন্ন কৌশলে বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। দীর্ঘ দিন ধরে চলছে এ মাদক ব্যবসা। মাদক কারবারীদের হাতে হয়রানীর শিকার অন্তত ২০ জন নারী ও পুরুষ অভিযোগ করেন, মাদকের চালান ছড়িয়ে পরে সাহাপাড়া, মুসলিমপাড়া, পাহাড়পুর, বাবু বাজার, কুতুব বাজার, আন্ধরা, বাওয়ার কুমারজানি, পুষ্টকামুরী, বাইমহাটি, প্রফেসরপাড়া, সরিষাদাইর ও কান্ঠালিয়াসহ বিভিন্ন দোকান, বাসাবাড়ি ও অলি-গলিতে। ভুক্তভোগিরা অভিযোগ করেছেন, সাহাপাড়া বাবু বাজারে প্রতিটি দোকানে চলছে এ ব্যবসা। সর্বশান্ত হচ্ছে যুব সমাজ ও অভিভাবক। তাদের সহযোগিতা করে থাকেন স্থানীয় প্রভাবশালী মহল ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা অপরাধী সিন্ডিকেট চক্র। কুমুদিনী হাসপাতাল ঘাট সংলগ্ন লৌহজং নদীর উপর পাকা সেতু নির্মান না হওয়ায় অপরাধীরা নির্ভিগ্নে মাদকের ব্যবসা করছে সাহাপাড়া, বাবুবাজার ও কুতুব বাজার এরাকায়। মাদকের মধ্যে রয়েছে ইয়াবা ট্যাবলেট, হেরোইন, ফেনসিডিল, গাঁজা, দেশী-বিদেশী মদ, বাংলা ও চোলাই মদ। মাদক ও জুয়ার টাকা সংগ্রহ করতেই কিশোর গ্যাং গ্রুপের সদস্যরা চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মাদক কারবারী ও জুয়াড়িদের কারনে তারা রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করতে পারেন না। প্রকাশ্যেই চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাই হয়। মাদক সেবীরা মাদক সেবন করে রাস্তা ঘাটে মাতলামি করে পথচারীদের অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজও করছে।
অপর দিকে গোড়াই এলাকার নাজিরপাড়া, গন্ধব্যপাড়া, লালবাড়ি, সোহাগপাড়া, পালপাড়া, সৈয়দপুর, হাটুভাঙ্গা রোড, রাজাবাড়ি, ক্যাডেট কলেজ, জয়েরপাড়াসহ অন্তত ৩০-২৫ স্পটে চলছে পাল্লা দিয়ে মাদক ব্যবসা।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্্িরকিউটিপ ম্যাজিস্ট্রেট এ বি এম আরিফুল ইসলাম এবং পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভুমি) এবং নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মাসুদুর রহমান বলেন, মির্জাপুর থেকে মাদক নির্মুলে নিয়মিত ভাবে কাজ করা হচ্ছে। পুলিশের পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযানসহ মাদককারবীদের গ্রেফতারসহ কারাদন্ড এবং অর্থদন্ড প্রদান করা হচ্ছে। এ বিষয়ে জনপ্রতিনিধি ও অভিভাবকসহ সুধীজনদের সচেতন থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ রাসেদুল ইসলাম বলেন, মির্জাপুর উপজেলাসহ পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে মাদক মুক্ত করার জন্য সচেতন মহল ও অভিভাবকদের সমন্ময়ে নানা উদ্যোগ গ্রহন করেছেন। মাদক ও জুয়াড়ীরা যত শক্তিশালীই হোক কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ইতিমধ্যে বেশ কিছু মাদক সেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করে জেল হাজতে ও ভ্রাম্যমান আদালতে সাজা দেওয়া হয়েছে। তাদের এ অভিযান চলমান থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।







