মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মডার্ন হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার (প্রাইভেট) ভুল অপারেশনে তাসরিফা আক্তার (১০) নামে এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। টাঙ্গাইল জেলা সিভিল সার্জনের নির্দেশে মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ফরিদুল ইসলাম আজ রবিবার (২৭ জুলাই) এই তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। কমিটির সদস্যরা হলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্েরর জুনিয়র কনসালটেন্ট (আ্যানেসথেশিয়া) ডা. মোহাম্মদ আলী, জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারি) ডা. রাজিব কর্মকার, আবাসিক মেডিকেল অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ডা. লিটন চন্দ সাহা, মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. মো. বাবুল আক্তার এবং স্যানেটারি ইন্সফেক্টর ইসরাত জাহান। আগামী ৭ কর্ম দিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন পেশ করবেন। তদন্ত প্রদিবেদন পাওয়ার পর হাসপাতালের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা করা হবে বলে ডা. ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন। ভুল অপারেশনে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির সদস্যগন ইতিমধ্যে হাসপাতাল পরিদর্শনসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহের কাজ শুরু করেছেন।
শিশু তাসরিফা দেলদুয়ার উপজেলার লাউহাটি ইউনিয়নের পাচুটিয়া গ্রামের পারভেজ মিয়ার মেয়ে। গত শুক্রবার শ^াসকষ্ট এবং খাদ্য গ্রহনে (শ^াসনালিতে) সমস্যা নিয়ে মির্জাপুর মডার্ণ হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তাসরিফাকে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের আ্যনেসথেসিয়া মো. সাইফ আব্দুল্লাহ এবং নাক-কান ও গলা বিশেষজ্ঞ ডা. মো. মাসুম বিল্লাহ শিশু তাসরিফার টনসিল অপারেশন করেন। মডার্ণ হাসপাতালে শিশুর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতাল কতৃপক্ষ নিজেদের দায় এড়ানোর জন্য শিশুকে চিকিৎসার জন্য কুমুদিনী হাসপাতালে রেফার করেন। শিশু তাসরিফার পরিবার তাকে কুমুদিনী হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার চিকিৎসকগন তাকে মৃত ঘোষণা করে বলেন সে অনেক আগেই মারা গেছে। ক্ষিপ্ত হয়ে মৃত শিশু তাসরিফার বাবা ও স্বজনরা হাসপাতালে হামলা চালিয়ে ভাংচুরের চেষ্টা চালায়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। হাসপাতালের কোন পরিচালক, কর্মকর্তা এবং চিকিৎসক এবং নার্সগন এ বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হননি।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, মির্জাপুর মডার্ন হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার (প্রাইভেট) হাসপাতালে তাসরিফা নামে এক শিশুর ভুল অপারেশনে মৃত্যু হয়েছে বরে তারা জানতে পেরেছেন। বিষয়টি তারা উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন। আজ রবিবার সিভিল সার্জন মহোদয়ের নির্দেশনায় পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে ৭ কর্ম দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর হাসপাতালের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ রাসেদুল ইসলাম বলেন, গত শুক্রবার মির্জাপুর মডার্ণ হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার (প্রাইভেট) ভুল চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। শিশুর পরিবার এখন পর্যন্ত কোন মামলা করেননি। স্বাস্থ্য বিভাগ এ বিষয়ে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট্য একটি তদন্ত কমিটি করেছেন বলে জানতে পেরেছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা পরিষদের প্রশাসক এ বি এম আরিফুর ইসলাম বলেন, মির্জাপুর মডার্ন হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার (প্রাইভেট) ভুল অপারেশনে তাসরিফা আক্তার (১০) নামে শিশু মৃতুৗর ঘটনায় ইতিমধ্যে স্যানেটারি ইন্সফেক্টর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এছাড়া স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট্য তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন।
এদিকে শিশু তাসরিফার মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালে পরিচালক ও চিকিৎসকদের সিন্ডিকেট চক্র মুল ঘটনা ধামাচাপা দিতে মোটা অংকের টাকায় মৃত্যুর ঘটনাটি ধাপাচাপা দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।







