মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পরকীয়ার জেরে স্ত্রী রোজিনা আক্তার (৩৫) কে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে খুনের ঘটনায় ঘাতক স্বামী আব্দুল লতিফ মিয়া (৪৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার মির্জাপুর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তক্তারচালা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় বরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মো. ফরহাদ হোসেন জানিয়েছেন। গতকাল সোমবার (১৮ আগস্ট) উপজেলার তরফপুর ইউনিয়নের তরফপুর নামাপাড়া এলাকায় এই খুনের ঘটনা ঘটে। খুনের শিকার রোজিনা মুচিরচালা এলাকার হাসমত আলীর মেয়ে। ঘটনার পর ঘাতক আব্দুল লতিফ মিয়া ওই এলাকার খবির উদ্দিনের ছেলে।
আজ মঙ্গলবার মির্জাপুর থানা পুলিশ ও এলাকাবাসি জানায়, স্ত্রীর পরকীয়া সন্দেহে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে কিছুদিন ধরে বনিবনা হচ্ছিলনা। গত এক সপ্তাহ পূর্বে এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া হলে রোজিনা তার বাবার বাড়ি চলে যান। গত রবিবার মাতাব্বরদের মাধ্যমে শালিসে লতিফ মিয়া স্ত্রী রোজিনাকে বাবার বাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন।
গতকাল সোমবার তাদের দুই সন্তান স্কুলে গেলে বাড়ি ফাঁকা থাকে। পুর্ব পরিকল্পিত ভাবে লতিফ মিয়া নিজ বসত ঘরের খাটে শুয়ে থাকা স্ত্রী রোজিনাকে কুড়াল দিয়ে গলায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাথারি কুপালে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। স্ত্রীকে হত্যা নিশ্চিত করে ঘটনার পর লতিফ পালিয়ে যান। পরে আশপাশের ও বাড়ির লোকজন ঘটনা জানতে পেরে মির্জাপুর থানা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে মির্জাপুর থানা পুলিশ রাশ উদ্ধার করে।
এ ব্যাপারে তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, পরকীয়া ও পারিবারিক কলহে স্বামী আব্দুল লাতিফ মিয়া তার স্ত্রী রোজিনা বেগমকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যার পর পালিয়ে যায়। তার পরিবার এমন তথ্যই দিয়েছেন। লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছিল। রোজিনার পরিবার এ বিষয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে পলাতক ঘাতক আব্দুল রতিফকে গ্রেফতার করা হয়েছে। স্বীকে খুনের কথা তিনি স্বীকার করেছেন। ঘটনার পর স্বামী আব্দুল রতিফ পলাতক ছিলেন। আজ মঙ্গলবার তক্তারচালা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানিয়েছেন, তার স্ত্রী অন্য পুরুষের সঙ্গে পরকীয়ায় আসক্ত ছিলেন। এ নিয়ে তাকে নিশেধ করার পরও স্বামীর কথা শুনেননি। ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রীকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে। পরে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
১২ নং তরফপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আজিজ রেজা বলেন, পরকীয়ার জেরে ও স্বামী স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহে রোজিনা খুন হয়েছে। তাদের সংসারে এক মেয়ে ও এক ছেলেসহ দ্ইু সন্তান রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে তার দৃষ্টান্ত মুলক মাস্তির দাবী জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, খুনের শিকার গৃহবধুর লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের পর তার পরিবারের লাশ বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। মামলার পর তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ঘাতক স্বামী আব্দুল লতিফ গ্রেফতার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্ত্রীকে খুনের কথা স্বীকার করেছে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।







