মির্জাপুরে গৃহবধু গোলাপী খুনের প্রধান আসামী ঘাতক কাদের গ্রেফতার

মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে সাত দিন পর গৃহবধু গোলাপী খুনের প্রধান আসামী ঘাতক আব্দুল কাদেরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত আসামী আব্দুল কাদের গোলাপীর স্বামী। গ্রামের বাড়ি মির্জাপুর পৌরসভার পুষ্টকামুরী গ্রামে। গতকাল শনিবার আব্দুল কাদেরকে মির্জাপুর শহরের বাওয়ার কুমারজানি রোডের শ^শুর বিষু মিয়ার বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয় বলে আজ রবিবার পুলিশ জানিয়েছেন। গত ২৬ অক্টোবর মির্জাপুর থানার ৩০০ গজের মধ্যে মির্জাপুর শহীদ ভবানী প্রসাদ সাহা সরকারী কলেজের পুর্ব পাশের বারই খাল থেকে গোলাপী বেগমের লাশ উদ্ধার হয়। গোলাপীর পরিবার ও এলাকাবাসি চাঞ্চল্যকর এই খুনের রহস্য উৎঘাটন এবং খুনিদের গ্রেফতারের দাবী জানিয়ে আসছিলেন।
গোলাপী বেগমের মা সমলা বেগম ও এলাকাবাসি জানান, গত ২৩ অক্টোবর গোলাপী তিন কন্যা সন্তান রেখে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের পর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়। নিখোঁজের তিন পর গত ২৬ অক্টোবর পুলিশ পা বাঁধা ও শরীরের ক্ষত বিক্ষত অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে। গোলাপীর বেগমের স্বামী আব্দুল কাদের মিয়ার অভিযোগ ছিল, আমার শ^শুর বিষু মিয়ার সঙ্গে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে টাকার লেনদেন ছিল। কোন অসৎ উদ্দেশ্যে দুবৃত্তরা পাশবিক নির্যাতনের পর তার স্ত্রীকে নির্মম ভাবে খুন করে লাশ খালের পানিতে ফেলে রেখেছিল। কি কারনে তার স্ত্রী খুন হলেন তিনিও বুঝতে পারছেন না। স্ত্রী খুনের পর বড় কন্যা কহনা (১৪) বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধি, মেজো মেয়ে কাফিয়া (৫) ও ছোট মেয়ে কাশফিয়া ৫ মাস এই তিন কন্যা সন্তান নিয়ে চরম বিপাকে পরেছেন বলে জানিয়েছিলেন। তিনি স্ত্রী খুনের সুষ্ঠু তদন্তসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবী জানিয়ে ছিলেন। এ সব কিছুই ছিল তার সাজানো নাটক বলে পুলিশ জানিয়েছেন। স্ত্রীকে পরিকল্পিত ভাবেই খুন করে ঘাতক কাদের।
এদিকে তার শ^শুর বিষু মিয়া ও শ^াশুরী সমলা বেগম শুরু থেকেই অভিযোগ করেছিলেন, তাদের মেয়ে গোলাপী খুনের সন্দেহের তীর তার স্বামী আব্দুল কাদেরের দিকে। পারিবারিক ও অর্থ বিষয়ককে কেন্দ্র করে গোলাপীর স্বামী আব্দুল কাদের তাদের মেয়েকে নির্যাতন ও খুন করে লাশ গুম করেছিল। এ নিয়ে থানায় মামলা হয়। মামলার পর পুলিশ ঘাতক আব্দুল কাদেরকে নজরদারীতে রেখেছিলেন। তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর গতকাল শনিবার তাকে গ্রেফতারের পর ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, গৃহবধু গোলাপী খুনের ঘটনায় লাশ উদ্ধারের পর থেকেই তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে খুনিকে গ্রেফতার ও খুনের রহস্য উৎঘাটনের জন্য টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান স্যারের দিক নির্দেশনায় পুলিশ কাজ করে আসছিলেন। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যা কান্ড ছিল। গোলাপীর স্বামী আব্দুল কাদেরকে অবশেষে গ্রেফতার করা হয়েছে। ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। খুনের মুল রহস্য পরবর্তীতে জানানো হবে।

  • সাপ্তাহিক বারবেলা ডেস্ক

    Related Posts

    মির্জাপুরে বরাটী উচ্চ বিদ্যালয়ে বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ ও কিশোর কিশোরীদের শারীরিক মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনামুলক সভা

    টাঙ্গাইলের মির্জাপুরকে মাদক মুক্ত করতে বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজপথে

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *