মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে তিন কন্যা সন্তানের জননী গৃহবধু গোলী খুনের ঘাতকদের ফাঁসিসহ দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবীতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। আজ রবিবার (১৬ নভেম্বর) গোলাপীর পরিবার মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের এায়াজন করে। মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে গোলাপীর পরিবারের সদস্য ছাড়াও এলাকায় শতাধিক নারী পুরুষ অংশ গ্রহণ করেন। মা খুন এবং বাবা জেল হাজতে থাকায় তিন নাতনী বড় মেয়ে প্রতিবন্ধি কহনা (১৪), মেজো মেয়ে কাফিয়া (৫) ও ছোট মেয়ে কাশফিয়া (৫ মাসকে) নিয়ে চরম বিপাকে পরেছেন অসহায় নানা বিষু মিয়া এবং নানী সমলা বেগম। সমলা বেগম ও বিষু মিয়া মা হারানো তিন নাতনীকে নিয়ে দিশেহারা। তাদের বুক ফাঁটা কান্নায় চার পাশের বাতাস ভারি হয়ে আসছে। মির্জাপুর উপজেলা সদরের পৌরসভার বাওয়ারকুমারজানি রোডে গোলাপীর বাবার বাড়ি। গত ২৩ অক্টোবর গোলাপী বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় এবং ২৬ অক্টোবর মির্জাপুর থানার ৩০০ গজ দুরে মির্জাপুর শহীদ ভবানী প্রসাদ সাহা সরকারী কলেজের পুর্ব পাশের বারই খাল থেকে গোলাপী বেগমের লাশ উদ্ধার হয়।
এর আগে গৃহবধু গোলাপী খুনের সন্দেহভাজন প্রধান আসামী তার স্বামী ঘাতক আব্দুল কাদেরকে গ্রেফতার করে তিন দিনের রিমান্ডে এনেছিলেন মির্জাপুর থানা পুলিশ। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে অনেক তথ্যই বেরিয়ে এসেছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই এগুলো প্রকাশ করছেন না বলে মামাল তদন্তকারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন। ঘাতক আব্দুল কাদেরের গ্রামের বাড়ি মির্জাপুর পৌরসভার পুষ্টকামুরী গ্রামে।
এদিকে আজ রবিবার মানবন্ধনে গোলাপী বেগমের মা সমলা বেগম ও ও বাবা বিষু মিয়াসহ এলাকাবাসি অভিযোগ করেন, গত ২৩ অক্টোবর গোলাপী তিন কন্যা সন্তান রেখে বাড়ি থেকে রহস্য জনক ভাবে নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের তিন পর গত ২৬ অক্টোবর পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। থানায় মামলা করেন গোলাপীর বাবা বিষু মিয়া। মামলা হলেও মুল ঘাতকদের এখনও গ্রেফতার করা হয়নি। তিন কন্যা কহনা (১৪) বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধি, কাফিয়া (৫) ও কাশফিয়া (৫ মাস) কে নিয়ে চরম বিপাকে পরেছেনর। বিষু মিয়া ও তার স্ত্রী সমলা বেগম ঘাতকদের অবিলম্বে গ্রেফতারসহ দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, গোলাপী খুনের ঘটনায় সন্দেহভাজন তার স্বামী আব্দুল কাদেরকে গ্রেফতার করে তিন দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। গোলাপীর বাবা বিষু মিয়া ও মা সমলা বেগমসহ তার পরিবারের সদস্যদের সার্বিক সহযোগিতা চাওয়া হচ্ছে। হত্যার রহস্য উৎঘাটনের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের কাজ করা হচ্ছে। আসামীদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।







