মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
সরকারি আইন অমান্য করে অবৈধ ভাবে পাইপ বসিয়ে টেক্্রটাইল মিলের দূষিত বর্জ্য খাল ও নদীতে ফেলায় পানি কুচকুচে কাল হয়ে পচা দুর্গন্ধে মাছে মড়ক দেখা দিয়েছে। মরে যাচ্ছে গাছপালা, সেই সঙ্গে এলাকায় ছড়িয়ে পরেছে নানা রোগ এবং জীব বৈচিত্র হুমকির মুখে। ভুক্তভোগি লোকজন অভিযোগ করেছেন এলাকায় বসবাস করা চরম ভাবে স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে। খাল ও নদীর পানি দুষণ রোধে জরুরী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কি ইউনিয়নের কদিমধল্যা, বানিয়ারা, কাটরা, পাকুল্যা, গোড়ান, চুকুরিয়া, গুনটিয়া, উফুলকী ও সাটিয়াচড়া এলাকায় টেক্্রটাইল মিলের দূষিত বর্জ্য খাল ও নদীর পানির সঙ্গে মিশে পরিবেশ দুষনের এ ঘটনা ঘটেছে। আজ মঙ্গলবার (৪ মার্চ) ঘটনাস্থল ঘুরে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ এবং ভুক্তভোগি এলাকাবাসি জানায়, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক সংলগ্ন মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কি ইউনিয়নের কদিমধল্যা ও বানিয়ারা মৌজায় তিন ফসলি জমির উপর সাদিয়া টেক্্রটাইল মিলস লিমিটেড নামে একটি কারখানা গড়ে উঠেছে। পাশেই রয়েছে গ্রিণটেক্্র নামে অপর একটি কারখানা। মিলটি পতিত আওয়ামীলীগ সরকারের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার হওয়ায় সরকারি জমি ও এলাকার নিরীহ লোকজনের তিন ফসলি জমি নামে মাত্র মুল্যে হুমকি দুমকি দিয়ে দখলে নিয়ে গড়ে তুলেন এই কারখানা। বিধিমোতাবেক কারখানা তৈরী ও চালুর পুর্বে মিলের দুষিত বর্জ্য শোধানাগারের জন্য ইটিপি প্লান্ট তৈরী করা বাধ্যতা মুলক। কিন্ত সাদিয়া টেক্্রাইল মিলস কতৃপক্ষ তা বাস্তবায়ন না করে সরকারী আইন অমান্য করে অবৈধ ভাবে রাস্তা ও ফসলি জমির উপর পাইপ বসিয়ে মিলের দুষিত বর্জ্য ও দুষিত পানি পাশ^বর্তী গোড়ান এলাকায় খাল ও চুকুরিয়া এলাকায় নদীতে ফেলছে। দুষিত পানি নদী ও খালের পানিতে মিশে পানি কুচকুচে কাল হয়ে পচা দুর্গন্ধে এলাকায় বসবাস করা দুষ্কর হয়ে পরেছে। পানি দুষিত হয়ে খাল ও নদীর মাছ মরে যাচ্ছে।
এলাকার বাসিন্দা ও ভুক্তভোগি ব্যবসায়ী লুৎফর রহমান, আইনজীবি ব্যারিষ্টার আকিব আকবর খান চৌধুরী এবং করেজ ছাত্র এস এম আশিকুর রহমান অভিযোগ করেন, সাদিয়া টেক্্রটাইল মিলের দুষিত বর্জ্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য গুরুত্বর স্বাস্থ্য ঝুঁকির কারন হয়ে দাড়িয়েছে। কারখানার বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থে চর্মরোগ, পানিবাহিত রোগসহ মানবজীবন এবং জলজ জীব বৈচিত্রের জন্য চরম হুমকির হয়ে দাড়িয়েছে। কদিমধল্যা, বানিয়ারা, কাটরা, পাকুল্যা, গোড়ান, চুকুরিয়া, গুনটিয়া, উফুলকী ও সাটিয়াচড়া এলাকায় টেক্্রটাইল মিলের দূষিত বর্জ্য খাল ও নদীর পানির সঙ্গে মিশে পরিবেশ দুষন করছে। পরিবেশ দুষনের ফলে জমিতে ফসল ফলছে না এবং বছরের অধিকাংশ সময় জলাবদ্ধতা দেখা দেওয়ায় কৃষকরা পরেছেন চরম বিপাকে। জামুর্কি ও বানাইল ইউনিয়নের ২০-২৬ টি গ্রামের লোকজন রৌহজং নদীর পানি ব্যবহার করতে পারছে না। সেই সঙ্গে মাছে দেখা দিয়েছে মড়ক। একই ভাবে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক সংলগ্ন উপজেলার দেওহাটা, কোদালিয়া, বাইমাইল, সোহাগপাড়া, গোড়াই, হাটুভাঙ্গা, ক্যাডেট কলেজ, মইননগর, সৈয়দপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক মিলকারখানার দুষিত বর্জ্য ও দুষিত পানি এলাকার খাল বিল ও নদীতে ফেলায় পরিবেশ বিষিয়ে উঠেছে। বিপাকে পরেছেন এলাকাবাসি।
এদিকে সাদিয়া টেক্্রটাইল মিলস লিমিটেড কারখানার দুষিত বর্জ্য ও দুষিত পচা পানি নদী ও খালের পানিতে ফেলায় তা দ্রুত বন্ধ করাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য দিন দিন ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসি। এলাকাবাসির পক্ষে ব্যারিষ্টার আকিব আকবর খান চৌধুরী উপজেলা নির্বাহী অফিসার, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রনালয়সহ সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তারপরও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন।
এ ব্যাপারে জামুর্কি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলী এজাজ খান চৌধুরী রুবেল বলেন, সাদিয়া টেক্্রটাইল মিলের দুষিত বর্জ্য ও দুষিত পানি নদী ও খালে ফেলায় এখন এলাকাবাসির গলার কাটা হয়ে দাড়িয়েছে। পচা পানির দুর্গন্তে এলাকায় বসবাস করা যাচ্ছে না। ছড়িয়ে পরেছে নানা রোগ। যে কোন মুল্যে পাইপ দিয়ে নদী ও খালে পচা পানি ফেলা বন্ধ করা হবে।
এ ব্যাপারে সাদিয়া টেক্্রটাইল লিমিটেড মিলে যোগাযোগ করা হলে কোন কর্মকর্তা এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বলেন মিলটি চালুর পর থেকে নানাবিধ সমস্যা ছিল। মিলের বর্জ্য শোধনাগারের জন্য প্রায় আড়াই কোটি টাকা খরচ করে ইটিপি প্লান্ট বসানো হয়েছে। সামন্য ত্রুটির কারনে পানি কাল হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফরিদুল ইসলাম বলেন, মিলের দুষিত ময়লা আবর্জনা খাল ও নদীতে ফেলার কারনে পানি কুচকুচে কাল ও পচে ব্যবহারের অনুপযোগি হয়ে নানা রোগ ছড়িয়ে পরছে। দ্রুত এটি বন্ধ করা না হলে দিন দিন পরিবেশ মারাত্বক হুমকির মুখে পরবে এবং নানা রোগ ছড়িয়ে পরবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারি কমিশনার ভুমি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তারেক আজিজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সাদিয়া টেক্্রটাইল মিলস লিমিটেড এর দুষিত বর্জ্য ও দুষিত পানি খাল ও নদীতে মিশে এলাকার পরিবেশ মারাত্বক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে এমন অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি পরিবেশ অধিদপ্তরসহ উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।







