মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পৌরসভা ও ১৪ ইউনিয়নে ভরাট দখল ও খননের অভাবে ৩৫ খাল মৃতপ্রায়। খালের পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে চাষাবাদসহ জীববৈচিত্র হুমকির মুখে পরেছে। ফলে কমে যাচ্ছে ভূগর্ভস্থ পানিরস্তর চাষাবাদ বিগ্নিত হওয়ায় বিপাকে পরেছে হাজার হাজার কৃষক। দখল আর দুষণের কবলে পরা জনগুরুত্বপুর্ন এসব খাল পুনরোদ্ধারের দাবী জানিয়েছেন ভুক্তভোগি এলাকাবাসি।
আজ রবিবার মির্জাপুর পৌরসভা এবং ১৪ ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, এক সময়ের জনগুরুত্বপুর্ন অধিকাংশ খাল ভরাট হয়ে দখল হয়ে গেছে। খালের আশপাশে বসবাসকারী লোকজন নানা অযুহাতে খালের দুই পাশে মাটি ভরাট করে এসব খাল দখল করে ঘরবাড়ি নির্মান করেছে। কোন কোন এলাকায় খাল দখল করে নির্মান করা হয়েছে ইটভাটা, বিভিন্ন শিল্পকারখানাসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ফলে খালের দুই দিকে আসা পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে চাষাবাদ মারাত্বক ভাবে বিগ্নিত হচ্ছে। উল্লেখযোগ্য খালের মধ্যে রয়েছে মির্জাপুর পৌরসভার বাওয়ারকুমারজানি-বাইমহাটি প্রফেসরপাড়া পর্যন্ত ৪ কি. মি. খাল, বাওয়ার রোড থেকে পুষ্ঠকামুরী পর্যন্ত ৩ কি. মি. খাল, মির্জাপুর সাহাপাড়া-ঘোষপাড়া-সরিষাদাইর পর্যন্ত ৫ কি. মি. খাল, ভাতগ্রাম ইউনিয়নের দুল্লাবেগম-কুইচতারা পর্যন্ত ৬ কি. মি. খাল, গোড়াই ইউনিয়নের দেওহাটা-বহুরিয়া পর্যন্ত ৮ কি. মি. খাল, সোহাগপাড়া-কোদালিয়া-রাজাবাড়ি-বাইমাইল পর্যন্ত ১০ কি. মি. খাল, আজগানা ইউনিয়নের আজগানা-কুড়িপাড়া-খাটিয়ারঘাট ১৫ কি. মি. খাল, লতিফপুর ইউনিয়র যুগিরকোপা-বান্দাচালা-৭ কি. মি. খাল, ফতেপুর ইউনিয়নের ফতেপুর-মহেড়া পর্যন্ত ১২ কি. মি. খাল, শুভুল্যা-বরাটী-ধল্যা পর্যন্ত ১৫ কি. মি. খাল, মহেড়া ইউনিয়নের দেওভোগ-শুভুল্যা-কদিমধল্যা-কাটরা পর্যন্ত ১৫ কি. মি. খাল, জামুর্কি ইউনিয়নের জামুর্কি-পাকুল্যা-গুনটিয়া পর্যন্ত ১২ কি. কি. খাল, বানাইল ইউনিয়নের চুকুরিয়া-বররা-গল্লী-ভাবখন্ড পর্যন্ত ১০ কি. মি. খাল, বরাটী-নরদানা-বাংগল্যা পর্যন্ত ৮ কি. মি. খাল, বাগজান-ইচাইল-ভাতগ্রাম পর্যন্ত ৭ কি. মি. খাল, মাঝালিয়া-পাইকপাড়া পর্যন্ত ৫ কি. মি. খাল, দখল আর দুষণে মৃতপ্রায় অবস্থায় রয়েছে। এচাড়া আনাইতারা, ওয়ার্শি, ভাওড়া, বহুরিয়া, মহেড়া, লতিফপুর, তরফপুর, আজগানা, গোড়াই ও বাঁশতৈল ইউনিয়নের আরও অন্তত ১৬ টি খালের খনন করা জরুরী হয়ে পরেছে বলে ভুক্তভোগি এলাকাবসি অভিযোগ করেছেন।
ভুক্তভোগিদের মধ্যে কৃষক শ্যামল সরকার ও কাঠ ব্যবসায়ী জাকির হোসেন অভিযোগ করেন, মির্জাপুর উপজেলার অধিকাংশ খালের পানি দিয়ে অধিকাংশ মানুষ ধান, পাট, আখ, সলিসা, গম, বাদাম, ভুট্রা, শাকসবজিসহ বিভিন্ন জাতির ফসল ফলাতো। এরাকার শতশত জেরে মাছ শিকার করে তাদের জীবন ও জীবিকা নির্বাহ করতো। দীর্ঘ দিন ধরে খালগুলো ভরাট ও দখল হয়ে যাওয়ায় কৃষি জমিতে যেমন সেচ সংকট তৈরী হয়েছে তেমনি জেলের পরিবারেও নেমে এসেছে অভাব অনটন। পাশাপাশি খালগুলো খনন ও উদ্ধার করা হলে স্বল্প খরচে সেচ সুবিধা পাবেন কৃষক, কৃষির উৎপাদন বাড়বে, দেশীয় মাছের প্রজনন বৃদ্ধি পাবে এবং জীববৈচিত্রের পরিবর্তন হবে। ভুক্তভোগি এলাকাবাসি মির্জাপুর পৌরসভা ও ১৪ ইউনিয়নের খালগুলো অবৈধ দখলদারদের কবল থেকে উদ্ধার এবং খনন ও পুনখননের জোর দাবী জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্পবাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মাদ কহিনুর ইসলাম এবং উপজেলা প্রকৌশলী মো. মনিরুল সাজ রিজন বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জ¦নাব তারেক রহমান সারা দেশে খাল খননের জন্য অগ্রাধিকার প্রকল্প দিয়েছেন। স্থানীয় এমপি জ¦নাব আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীর দিক নির্দেশনা ও পরামর্শে এলাকার গুরুত্বপুর্ন খাল খননের জন্য প্রকল্প তৈরী করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব এলাকার খাল উদ্ধার এবং খনন করা হবে।
উপজেলা সহকারি কমিশনার ভুমি তারেক আজিজ বলেন, সরকারি নির্দেশনায় দখল হয়ে যাওয়া খাল ও নদী উদ্ধারের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে খাল খননের জন্য এই উপজেলা থেকে বেশ কয়েকটি প্রকল্প মন্ত্রনালয়ে পাঠানেপ হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব খাল উদ্ধারসহ অর্থ বরাদ্ধ সাপেক্ষে খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে।







