মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল
এবারের ঈদে টানা ছুটিতে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে প্রায় দেড়শ বছরের মহেড়ার রাজবাড়ির বর্তমানে মহেড়া পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের বিনোদন কেন্দ্রে পর্যটক ও দর্শনার্থীদের পদচারনায় মুখরিত ছিল। বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার পর্যটক ও দর্শনার্থী আসছে মহেড়ার জমিদার বাড়ি (রাজবাড়ির) দৃষ্টি নন্দন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে।
গতকাল সোমবার (২৩মার্চ) মহেড়া রাজবাড়ি ঘুরে দেখা গেছে পর্যটক ও দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়। পর্যটক ও দর্শনার্থীরা জানান, মহেড়ার রাজবাড়ি (জমিদার বাড়ি) প্রায় দেড়শ বছরের পুরাতন হলেও এর দৃষ্টি নন্দন কারু কাজ এখনও দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে। ১৮৯০ সালে রাজা আনন্দ মোহন রায় ছৌধুরী ও তার চার ভাই মিলে ৪৮ দশমিক ৮৪ একর জমির উপর জমিদার বাড়ি নির্মান করেন। এখানে বসেই তারা রাজ্য কাজ পরিচালনা করতেন। এখানে চার ভাইয়ের আলাদা আলাদা দৃষ্টি নন্দন ভবন নির্মান করেন। বিশাল বিশাল ভবনে সুদক্ষ কারীগর দিয়ে তৈরী করেন নানা স্থাপনা। এখানে গড়ে তুলেন রানী মহল, নহবত খানা, অতিথি ভবন, মহারাজ লজ, আনন্দ লজ, অন্ধর মহল, বিশাখা সাগর,পাসরা পুকুরসহ নানা স্থাপনা। বৃটিশদের শ^াসনামলে ১৯৪৭ সালের পর দেশ ভাগ হওয়ার পর নানা প্রতিকুলতার মধ্যে জমিদারদের মধ্যে কয়েকজন দেশ ত্যাগ করে চলে যান। যারা ছিলেন তারাও ১৯৭১ সালে সমস্ত স্থাপনা ফেলে পালিয়ে যায়। বিশাল এই সম্পত্তি পরিত্যাক্ত হয়ে পরে। টাঙ্গাইলের কৃতি সন্তান সাবেক মন্ত্রী জননেতা আব্দুল মান্নানের সার্বিক সহযোগিতায় ১৯৭২ সালে প্রথমে মহেড়া জোনাল পুলিশ ট্রেনিং স্কুল এবং ১৯৯০ সালে পুনাঙ্গ মহেড়া পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার গড়ে তোলা হয়।
একজন ডিআইজির নের্তৃত্বে পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার পরিচালনা এবং রাজবাড়ির মুল ভবনগুলো ঠিক রেখে সকল স্থাপনার পরিবর্তন করার উদ্যোগ নেন স্বরাষ্ট মন্ত্রনালয়। ইতিমধ্যে রাজবাড়ি নানা সাজে সজ্জিত করা হয়েছে এবং গড়ে তোলা হয়েছে বিশাল বিশাল ভবন ও একাডেমিক ভবন। গড়ে তোলা হয়েছে মিনি চিড়িয়াখানা ও শিশু পার্ক। মহেড়ার রাজ বাড়ি দেখতে দর্শনার্থীরা জানিয়েছেন, এখানকার স্থাপনাগুলোর সৌন্দয সত্যিই নজর কেড়ে নেয়। রাজধানী ঢাকার উত্তরা, মহাখালী, যাত্রাবাড়ি, কলাবাগান এবং গাবতলী ও সাভার থেকে বাসে এবং কমলাপুর, বিমানন্দর ও ক্যান্টনমেন্ট থেকে ট্রেনেও অনায়াসে মহেড়ার রাজবাড়িতে অল্প সময়ে আসা যায়। প্রবেশ মুল্য ১০০শ টাকা করা হয়েছে। মহেড়ার রাজবাড়ি দেখতে প্রবেশ মুল্য কমানোসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা আরও বাড়ানো হবে প্রশাসনের কাছে এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসির এবং দর্শনার্থীদের।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী াফিসার খান সালমান হাবীব, এসিল্যান্ড তারেক আজিজ ও মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মহেড়ার রাজবাড়ি আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যবাহী টাঙ্গাইল পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিশাল এলাকা ও মনোরম পরিবেশে বিভিন্ন ছুটির মৌসুমে হাজার হাজার পর্যটক ও দর্শনার্থী এখানে সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসেন। তাদের নিরাপত্তার জন্য প্রশাসন থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হয়ে থাকে।
এ ব্যাপারে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির শিশু বিষয়ক সম্পাদক ও টাঙ্গাইল-০৭ মির্জাপুর আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী বলেন, মহেড়া রাজবাড়ি বর্তমান নাম টাঙ্গাইলের মহেড়া পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার নাম করন করা হয়েছে। অত্যান্ত সুন্দর ও মনোরম পরিবেশে দর্শনার্থীদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে। সরকারী ভাবে এটি যাতে আরও আকর্ষনাীয় হয়ে উঠে এ ব্যাপারে আার ও সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হবে। এছাড়া পর্যটক ও দর্শনার্থীদের আনন্দ বিনোদনের জন্য মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ, কুমুদিনী কমপ্লেক্্র ও ভারতেশ^রী হোমসসহ এবং আজগানা এলাকায় সরকারি বনাঞ্চলেল পাশে প্রস্তাবিত ইকু পার্ক নির্মানেরও প্রস্তুতি চলছে।







